জেকেজির আরিফুল ও সাবরিনার বিচার শুরু

16

কল্যাণ ডেস্ক : করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের সিইও আরিফুল হক চৌধুরী, তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ আট আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকার মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী বৃহস্পতিবার আট আসামির সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ২৭ অগাস্ট দিন ঠিক করে দিয়েছেন।
সাবরিনা-আরিফ দম্পতিসহ আসামিদের সবাই এদিন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হলেও বিচারক তা নাকচ করে দেন।
বাকি ছয় আসামি হলেন- আরিফুলের বোন জেবুন্নেছা রিমা, সাবেক কর্মচারী হুমায়ুন কবির হিমু ও তার স্ত্রী তানজিলা পাটোয়ারী, জেকেজির কোঅর্ডিনেটর আবু সাঈদ চৌধুরী, জেকেজির কর্মচারী বিপুল দাস ও শফিকুল ইসলাম রোমিও।
নিয়ম অনুযায়ী আদালতে উপস্থিত আসামিদের এদিন অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে জানতে চাওয়া হয় তারা দোষী না নির্দোষ। আসামিরা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সুবিচার প্রার্থনা করেন।
আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাইফুজ্জামান তুহিন, সাইফুল ইসলাম সুমন, শহীদুল্লাহ কায়সার, আমান উল্লাহ ফিরোজ ও কাজী আবু তাহের। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌসুলি আবদুল্লাহ আবু।
ডা. সাবরিনা আরিফ ও আরিফুল চৌধুরী, ফাইল ছবিডা. সাবরিনা আরিফ ও আরিফুল চৌধুরী, ফাইল ছবিদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়েছিল ওভাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথকেয়ার।
কিন্তু জুনের শেষ দিকে অভিযোগ আসে, সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল জেকেজি। নমুনা পরীক্ষা না করে রোগীদের ভুয়া সনদও তারা দিচ্ছিল।
রাজধানীর কল্যাণপুরের কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ২২ জুন জেকেজি হেলথ কেয়ারের সাবেক গ্রাফিক ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তাদের কম্পিউটার থেকে চারজন প্রবাসীরসহ ৪৩ জনের নামে তৈরি করা করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া সনদ পাওয়া যায়।
পরদিন কামাল হোসেন বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন ওই দুইজনের বিরুদ্ধে। সরকারি নাম ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ, কাজে অবহেলার মাধ্যমে জীবন বিপন্নকারী রোগের সংক্রামণ বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি, করোনাভাইরাসের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয় সেখানে।
হুমায়ুন ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে তেজগাঁও থানা পুলিশ জেকেজির সিইও আরিফুল চৌধুরী, তার বোন জেবুন্নেছাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।
পরে ১২ জুলাই জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
প্রায় দেড় মাস তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী গত ১৩ আগাস্ট অভিযোগপত্র দিলে আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ঠিক করে দেয়।
অভিযোগপত্রে সাবরিনা ও আরিফকে জালিয়াতির ‘হোতা’ বলে উল্লেখ করা হয়। আর বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ওই জালিয়াতিতে ‘সহযোগিতা’ করেছেন।
জেকেজি হেলথকেয়ারের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি পরে বাতিল করা হয়জেকেজি হেলথকেয়ারের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি পরে বাতিল করা হয় বৃহস্পতিবার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আবদুল্লাহ আবু বলেন, “আসামিরা প্রত্যেকে যোগসাজশে টাকা নিয়ে জাল জালিয়াতি করে ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে। এতে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। এরা প্রত্যেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সাবরিনা এবং আরিফুল এর মাস্টারমাইন্ড। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের আর্জি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে মামলা থেকে আরিফুল হক চৌধুরীর অব্যাহতি চেয়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন, জেকেজি হেলথকেয়ার শুধু নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব পেয়েছিল। সে অনুযায়ী তারা স্বাস্থ্য অধিপ্তরে নমুনা (স্যাম্পল) জমা দিত। কোনো পরীক্ষার প্রতিবেদন তারা দেয়নি।
“তাছাড়া ওই কথিত রিপোর্টগুলো নিরেপেক্ষ কোনো চিকিৎসা বিশেষজ্ঞকে দিয়ে যাচাই করা হয়নি। ঢালাওভাবে আমার মক্কেলসহ অন্যদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।”
এ আইনজীবী বলেন, জেকেজির কাছ থেকে নমুনা উদ্ধার করার কথা অভিযোগপত্রে বলা হলেও সেগুলো যাদের নমুনা, তাদের কাউকে সাক্ষী করা হয়নি।
ডা. সাবরিনার আইনজীবী সাইফুজ্জামান তুহিন বলেন, “আমার মক্কেলকে জেকেজির চেয়ারম্যান বা মালিক বলা হলেও তা প্রমাণ করতে পরেনি রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযোগপত্রের বর্ণনাতেও তেমন কিছুর উল্লেখ নেই।”
বেলা আড়াইটা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শুনানি করে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে দেন বিচারক। বেশিরভাগ আসামির পক্ষে জামিন চওয়া হলেও তা নাকচ হয়ে যায়।
শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সাবরিনা ও আরিফুলকে কথা বলতে দেখা যায় বলে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আজাদ রহমান জানান।
যেসব অভিযোগে তাদের বিচার শুরুর আদেশ হয়েছে, তা প্রমাণিত হলে দন্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার দায়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদন্ড হতে পারে।
এছাড়া দন্ডবিধির ১৭০, ২৬৯, ৪০৬, ৪৭১, ৪৮৬ ও ৩৪ ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান রয়েছে।

Previous articleচাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হও, যুবকদের প্রধানমন্ত্রী
Next articleকরোনা পরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন : সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here