পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ছোট ভাইকে মাদকাসক্তি কেন্দ্রে জোর করে আটকে রেখেছে বোন,অভিযোগ স্ত্রীর

170

কল্যাণ রিপোর্ট : সাফায়েত সরোয়ার নামের এক ব্যক্তিকে যশোর আহ্ছানিয়া মিশন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র জোরপূর্বক আটকিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। যশোর আহ্ছানিয়া মিশন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের কারণে স্বামীর সাথে কোন প্রকার দেখা বা যোগাযোগও করতে পারছেন না তিনি। তবে যশোর আহ্ছানিয়া মিশন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন সাফায়েত সরোয়ারের বোনের ইচ্ছায় তারা তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রেখেছেন।
সাফায়েত সরোয়ার সাতক্ষীরার সাবেক সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যে রিফাত আমিনের পুত্র।

সাফায়েত সরোয়ারের স্ত্রী মায়মুনা আক্তার লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, সাফায়েতের আমেরিকা প্রবাসী বোন লুনা ওবাইদুল্লাহ পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের কারণে প্রশাসনকে প্রভাবিত করে জোরপূর্বক দীর্ঘ সাত মাস তাকে আটকিয়ে রেখেছে।
মায়মুনা অভিযোগ করেছেন পুনর্বাসন কেন্দ্রে আবাসিক চিকিৎসার মেয়াদ সর্বনি¤œ ৬ মাস হলেও তার স্বামী প্রায় ৭ মাস ধরে পুনর্বাসন কেন্দ্র আছেন। তার মুক্তির ব্যাপারে যোগযোগ করা হলেও পুনর্বাসন কেন্দ্র নানা তালবাহানা করছে।

তিনি আরো জানান,সাফায়েত সরোয়ারের পরিবারের সবাই দেশের বাইরে থাকেন। তার মা ও বোন আমেরিকা প্রবাসী। আর তার একমাত্র বড় ভাই মেহেরাজ সরোয়ার কানাডা প্রবাসী। বাংলাদেশে তার একমাত্র অভিভাবক স্ত্রী হিসেবে তিনি। কিন্তু তিনি স্বামীকে পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে মুক্ত করে নিজ হেফাজতে নিতে চাইলেও যশোর আহ্ছানিয়া মিশন কর্তৃপক্ষ মুক্তি না দেবার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সাফায়েত সরোয়ার কানাডা প্রবাসী বড় ভাই মেহেরাজ সরোয়ার বলেন, তাদের সাতক্ষীরায় বিপুল পরিমান সম্পত্তি রয়েছে। বাংলাদেশে থাকা ছোট ভাই সাফায়েত সরোয়ার সেগুলোর দেখভাল করতো। আমেরিকা প্রবাসী বোন লুনা ওবাইদুল্লাহর সেই সম্পত্তির উপর দৃষ্টি পড়ে। তাদের মা রিফাত আমিনকে লুনা নিজের কাছে রেখে ভুল বুঝিয়ে ভাইদের সম্পত্তি আত্মসাতের নানা ফন্দিফিকির করছে। সেজন্য প্রশাসনকে প্রভাবিত করে তার ভাইকে যশোর আহ্ছানিয়া মিশন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র জোরপূর্বক আটকিয়ে রেখেছে। তিনি দেশে না থাকায় ভাইয়ের মুক্তির ব্যাপরে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে জানান।

মায়মুনা আক্তার জানান, তার স্বামী এক সময় মাদক নিলেও পরবর্তিতে মাদক সেবন ছেড়ে দেয়। তারপরও ৬ মাস পুনর্বাসন কেন্দ্রে আবাসিক চিকিৎসার নিয়েছে। এখন তিনি মাদকাসক্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তিনি আরো বলেন, তার স্বামী হৃদরোগসহ অন্যান্য জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তার উন্নত চিকিৎসার দরকার। এজন্য তিনি তার স্বামীকে নিজ হেফাজতে নিতে চান।

এ ব্যাপারে যশোর আহ্ছানিয়া মিশন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ম্যানেজার আমিরুজ্জামন লিটন বলেন, বোন লুনা ওবাইদুল্লাহর সুপারিশে তারা সাফায়েত সরোয়ারকে পুনর্বাসন কেন্দ্রের রেখেছেন। তার সুপারিশ ছাড়া সাফায়েতকে মুক্তি দিতে পারবেন না। আমিরুজ্জামন লিটনকে প্রশ্ন করা হয়,সাফায়েতের পরিবারের সবাই দেশের বাইরে থাকেন। দেশে তার অভিভাবক হিসেবে স্ত্রী মায়মুনা আক্তারের সাথে কেন দেখা বা যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপরে লিটন বলেন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও যশোরের এক সংসদ সদস্যের সুপারিশ রয়েছে সাফায়েতকে না ছাড়ার ব্যাপরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here