ব্যাংকে সাইবার হামলার শঙ্কা : নিরাপত্তা জোরদার করুন

0
16

বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর অন্যতম দেশকে তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে নেওয়া। এরই মধ্যে দেশ এ খাতে যথেষ্ট এগিয়েও গেছে। শহরের সীমা ছাড়িয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তির মোবাইল, ইন্টারনেট গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির নানা সুফল ক্রমেই মানুষের সহজলভ্য হচ্ছে। কিন্তু তথ্য-প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম বা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের পরিমাণও দ্রুত বেড়ে চলেছে। নিরীহ মানুষের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের অপরাধের শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবচেয়ে বড় ধরনের অপরাধের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে আট কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই অর্থ চুরিতে উত্তর কোরিয়ার একটি চক্র জড়িত ছিল বলে এরই মধ্যে এফবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে। এ ধরনের ঘটনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য ছিল এটিই প্রথম। গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে আবার সাইবার হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গ্রুপ এই হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে সব ব্যাংকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা জারি করার পর ব্যাংকগুলো অনলাইন ব্যাংকিং সীমিত ও তদারকি জোরদার করেছে। গত সপ্তাহে দেশের আর্থিক খাতের অনলাইন সিস্টেমে একটি ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার বা ভাইরাসের সন্ধান পায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। বিষয়টি এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা হয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের কারণে সুইফট নেটওয়ার্ক বন্ধ আছে মর্মে প্রকৃত কম্পানির ছদ্মবেশ ধরে একই নাম, ওয়েবসাইট, ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছে প্রতারকরা।
অন্যদিকে মোবাইল ব্যাংকিংয়েও প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট পরিচয়ে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টধারীদের কাছে ফোন করে বলা হয়, তাঁর অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। চাওয়া হয় পাসওয়ার্ড ও টাকা। গত মাসে এ ধরনের প্রতারণায় জড়িত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

LEAVE A REPLY