যুদ্ধের পথে চীন-ভারত!

0
31

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গেল ৪৫ বছরের মধ্যে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ চীন ও ভারতীয় সেনাদের সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় চলমান উত্তেজনায় আরও ঘি পড়েছে। ভারতীয় সেনারা লাদাখের বিরোধপূর্ণ সীমান্তে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ভেঙে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে এমন অভিযোগ করে বেইজিং বলছে, সীমান্তে মারাত্মক সামরিক উস্কানি দিয়েছে নয়াদিল্লি।
আর বেইজিং-এর অভিযোগ প্রত্যাখান করে দিল্লি বলছে, দু’দেশের সীমান্ত লাদাখের হিমালয়ের উঁচুতে ভারতীয় সেনাদের উদ্দেশ্য করে বিনা কারণে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে চীনা সেনারা।
চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র ঝ্যাং শুইলি জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনাদের আগ্রাসী আচারণ এবং হামলার জবাবে দেশটিকে সতর্ক করা হয়। তবে কিভাবে সতর্ক করা হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করেননি তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্যাংগং হ্রদের দক্ষিণ তীরে দুপক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের এক পর্যায়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে উভয় পক্ষ, এমন খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
দু’দেশের সেনাদের সংঘাত নিয়ে এক বিবৃতিতে ভারত জানিয়েছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি- পিএলএ সদস্যরা ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা চলায়। তাদের সতর্ক করতেই এমন সতর্ক সঙ্কেত দেয়া হয়েছে।
লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা নিরসনে করণীয় নিয়ে গেল (৪ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার মস্কোয় দু’দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। সেখানেও ছেড়ে কথা বলেনি দু’দেশে। চীন তার ভূখন্ডের এক ইঞ্চিও ছাড় দেবে না জানিয়েছে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেংঘের। একই বিষয়ে চীনকেও সংযত আচরণের আহ্বান জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
আলোচনার দু’দিন না পেরোতেই সংঘাতের ঘটনা ঘটলো।
দুই পারমাণবিক এই শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা পরিস্থিতি যে কোন সময় যুদ্ধে দিকে ঠেলে দিতে পারে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাই উভয় দেশকেই দায়িত্বশীল আচারণ করতে হবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গেল জুনে ওই সীমান্তে দুই পক্ষের সৈন্যদের মধ্যে হাতাহাতি লড়াইয়ে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে লাদাখ সীমান্তে সামরিক কার্যক্রম বাড়িয়ে তুলে চীন-ভারত।

LEAVE A REPLY