রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ : আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিন

0
8

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাড়ে ৪১ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ওই ব্যাংকগুলোর প্রদত্ত ঋণের মোট পরিমাণ এক লাখ ৮২ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এই ব্যাংকগুলো গত ১১ বছরে প্রায় ১৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করেছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলো বিকল্প-বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ ক্ষেত্রে সফল না হলে মামলা করা হচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে, ঋণখেলাপিদের নিয়ে বহু বছর ধরে বহু কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ঋণখেলাপিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। ব্যাংক তো দূরের কথা, কোনো কিছুই তাঁদের স্পর্শ করতে পারে না। কঠোর আইন করা হলেও আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে তাঁরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে অনেক দিন ধরেই ঋণের নামে রীতিমতো লুটপাট চলে আসছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিক দেশের জনগণ। অথচ জনগণের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ গুটিকয় ব্যক্তি এভাবে আত্মসাৎ করবেন, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আইন বা আদালতের লক্ষ্যই হচ্ছে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং অন্যায় প্রতিরোধ করা। অথচ সেই আইনের আশ্রয় নিয়েই এসব ব্যক্তি বছরের পর বছর ঋণ হিসেবে নেওয়া জনগণের অর্থ ফেরত না দিয়ে নতুন করে আরো অর্থ নিয়ে চলেছেন।
অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সরকারি পাঁচ ব্যাংকের সাড়ে ২৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ ফেরত দিচ্ছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ৩৩ প্রতিষ্ঠান। পাহাড়সম এ ঋণের মধ্যে নগদ ঋণ বা ফান্ডেড লোনের পরিমাণ ১৬ হাজার ৩৩২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আর নন-ফান্ডেড বা এলসি, ব্যাংক গ্যারান্টি ইত্যাদির বকেয়া আরো ১৩ হাজার ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ব্যাংকগুলো অনেক চেষ্টা করেও বকেয়া ঋণ আদায় করতে পারছে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বকেয়া ঋণের একটি প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এই বিশাল অর্থ সরকার যদি সদয় দৃষ্টি দিয়ে ওঠানোর ব্যবস্থা করত, তাহলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর তারল্যসংকট থাকত না। এই টাকাগুলো পাঁচ ব্যাংককে দেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে ব্যাংকগুলোর তারল্য বাড়ার পাশাপাশি মূলধন ঘাটতির সমস্যা কেটে যেত। তা ছাড়া ব্যাংকগুলো এখন যে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে, সে ক্ষেত্রেও তারা উপকৃত হতো বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞমহল।
খেলাপি ঋণের এই বৃদ্ধিকে ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা একটি অশনিসংকেত হিসেবেই দেখছেন। দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদেই অবিলম্বে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির এই প্রবণতা রোধ করতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায় করে ব্যাপকভাবে মানুষকে ব্যাংকমুখী করা গেলে নিঃসন্দেহে গতি পাবে অর্থনীতির চাকা। আমরা আশা করব, অর্থনীতির কাঠামোগুলোর অন্যতম ব্যাংক খাত রক্ষায় সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখবে।

LEAVE A REPLY