করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুতি : কোনোক্রমেই পিছিয়ে পড়া যাবে না

0
9

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব। বহুল প্রত্যাশিত টিকা এখনো হাতের নাগালে আসেনি। বাজারে টিকা নিয়ে আসার দৌড়ে এগিয়ে আছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও জার্মানির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এমন অবস্থায় দেশে দেশে শুরু হয়েছে টিকা পাওয়ার প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশও সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই। আশা করা যায়, উদ্ভাবিত টিকা দ্রুত প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে থাকবে না।
সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রক্রিয়ায়ই চলছে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনা মোকাবেলায় সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ভ্যাকসিন নিয়ে বিভিন্ন দেশ গবেষণা করছে। সব দেশেই আমরা আবেদন দিয়ে রেখেছি। এ জন্য টাকাও বরাদ্দ করে রেখেছি। যেখান থেকে আগে পাওয়া যাবে, সেখান থেকে আমরা নিব।’ বেসরকারিভাবেও চলছে টিকা সংগ্রহের জোর প্রচেষ্টা। বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে টিকা উৎপাদনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে কমপক্ষে দুটি দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। উৎপাদনের সুযোগ পেলে আপাতত দেশে প্রতি মাসে সিঙ্গল ডোজের এক কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন করা যাবে বলে জানিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। পাশাপাশি বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান টিকা উদ্ভাবনের গবেষণায়ও অনেক দূর এগিয়ে গেছে। টিকা উদ্ভাবন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে থাকা অন্যান্য দেশের ভ্যাকসিনের বাংলাদেশে ট্রায়ালের ক্ষেত্রেও অনেক অগ্রগতি হয়েছে। চীনের সিনোভ্যাকের ট্রায়ালের অনুমতির পর এখন প্রক্রিয়া চলছে ভারত বায়োটেকের ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমতির বিষয়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের পাশাপাশি টিকা কিভাবে দ্রুত দেশে আনা যাবে সে জন্য আগাম পরিবহন ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে কম্পানিগুলো। পাশাপাশি সরকারি তহবিল থেকে যে ভ্যাকসিন কিনে আনা হবে তা নিয়েও কাজ চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, টিকা প্রয়োগে মাঠপর্যায়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত সবাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, পরিবহন ও সংরক্ষণের জন্য পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
করোনা প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত সাফল্য খুবই কম। সারা দুনিয়ায় অনেকটা অনিয়ন্ত্রিতভাবেই বেড়ে চলেছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। দেশে করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে তিন লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে চার হাজার। আমাদের পাশের দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ লাখ এবং মৃতের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয় দিক থেকেই বিশ্বে এক নম্বরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অতি উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তারা আজ অনেকটাই অসহায়। একই অবস্থা সারা দুনিয়ারই। এখন সবার সামনে একটাই আশা, কার্যকর টিকার উদ্ভাবন। সেই টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে পিছিয়ে পড়লে চলবে না। আর টিকাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে টিকা উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে দেশে টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা করা। আমরা আশা করি, আমাদের নীতিনির্ধারকরা সেভাবেই অগ্রসর হবেন। পাশাপাশি এ সময়ে জনসচেতনতা প্রদর্শন ও নিয়ম-কানুন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে তাদের সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

LEAVE A REPLY