শ্রীলঙ্কা সফর এত কঠিন, কারণ…

0
8

ক্রীড়া ডেস্ক : করোনার সময় শ্রীলঙ্কা সফর খুবই কঠিন। সেখানে কোয়ারেন্টিনের বিধি মেনে ক্রিকেট খেলা প্রায় অসম্ভবই।
এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যখন চম্পকা রমানায়েকের কাছে শ্রীলঙ্কার করোনা পরিস্থিতি জানতে চাওয়া হয়েছিল, কলম্বো থেকে মুঠোফোনে বলেছিলেন, ‘পরিস্থিতি ভালোভাবেই সামলানো হচ্ছে।’ জুনে একই প্রশ্নে তাঁর উত্তর, ‘অনেক উন্নতি হয়েছে, জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক হতে চলেছে।’ গত বুধবার শ্রীলঙ্কার সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আরও ইতিবাচক খবর শোনালেন বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের শ্রীলঙ্কান বোলিং কোচ, ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। গত তিন-চার মাস আমরা খুবই স্বাভাবিক জীবন যাপন করছি। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি। অন্যান্য খেলাধুলাও শুরু হয়েছে।’
করোনা মহামারি মোকাবিলায় উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কাই সবচেয়ে সফল। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাল বিকেল পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩ হাজার ৩১৩ জন। মারা গেছেন মাত্র ১৩ জন। শ্রীলঙ্কায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই প্রবাসী। গত ১০০ দিনে স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ সংক্রমিত হননি।
শ্রীলঙ্কার এসব তথ্য-পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি মেলাতে গেলে আফসোস বাড়বে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাই দেশে ক্রিকেট ফেরানোর চেয়ে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে স্থগিত টেস্ট সিরিজ খেলে আসাটাকেই তুলনামূলক নিরাপদ মনে করছে। কিন্তু কাজটা যে এত জটিল হবে, তা কি আর ভেবেছিল!
দুই বোর্ডই সিরিজ খেলা নিয়ে ভীষণ উন্মুখ থাকার পরও জট ছাড়াতে কেন এত বেগ পেতে হচ্ছে, তার একটা ধারণা মিলবে বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় অবস্থানরত চম্পকার কথায়। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে ছুটিতে গিয়ে তিনি আর ফিরতে পারেননি ঢাকার কর্মস্থলে। সরকারের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় ৫ অক্টোবর শুরু এইচপি ক্যাম্পে যোগ দিতে ফিরতে পারবেন কি না, সেটি নিয়েও আছে সংশয়। কর্মস্থল নিয়ে চিন্তা থাকলেও চম্পকার স্বস্তি, তাঁর দেশে করোনা পরিস্থিতি অনেক ভালো। হোয়াটসঅ্যাপে চম্পকা জানালেন, ‘করোনা আমাদের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়ায়নি। ভাইরাসটা এসেছে বিদেশ থেকে। বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিন হচ্ছে খুব কঠোরভাবে।’
বাংলাদেশ দলের সঙ্গে প্রায় ছয় বছর কাজ করেছেন শ্রীলঙ্কান ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়েন। আইপিএলের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে কাজ করতে এখন তিনি দুবাইয়ে। সেখান থেকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি জানালেন মারিও, ‘আমাদের দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ কারণ, সেনাবাহিনী করোনা প্রতিরোধের দায়িত্ব নিয়েছে। শুরু থেকে কারফিউ দিয়েছে।’ চম্পকা বিষয়টি আরেকটু খুলে বললেন, ‘সরকার শুরুতেই বিভিন্ন নিয়ম করে দিয়েছিল। মানুষ সেই নিয়ম মেনেছে। কোভিড টাস্কফোর্স ঠিক করে দিচ্ছে, বিদেশ থেকে আসা কে কোথায় দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন করবে। কঠিন কোয়ারেন্টিন শেষে প্রত্যেককে আবার নিজ বাড়িতে দুই সপ্তাহের আইসোলেশন করতে হচ্ছে। আপনি যদি এখন শ্রীলঙ্কায় আসতে চান, আপনাকে এ নিয়ম মানতেই হবে। টাস্কফোর্সের সদস্যরা (নির্দিষ্ট করে বললে সেনাসদস্যরা) বিমানবন্দর থেকে কোয়ারেন্টিনের জন্য নির্ধারিত হোটেলে নিয়ে যাবে। সেখানেই থাকতে হবে।’
বাংলাদেশ দলের ক্ষেত্রেও একই কোয়ারেন্টিন শর্ত দিয়েছে শ্রীলঙ্কান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ কঠিন নিয়ম মেনে ক্রিকেট খেলা প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশ দলের কোয়ারেন্টিনের কঠিন শর্ত শিথিল করতে তাই নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। কিন্তু সেনাবাহিনীচালিত লঙ্কান কোভিড টাস্কফোর্স বিদেশ থেকে আসাদের কোয়ারেন্টিন নিয়ে ভীষণ কঠোর বলে সে চেষ্টা কতটা সফল হবে কে জানে! অক্টোবর-নভেম্বরে মহামারির যে দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেটি প্রতিরোধে লঙ্কান কোভিড টাস্কফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ড. জয়ারুয়ান বান্দ্রা তিন দিন আগেও জোর দিয়ে বলেছেন, ‘কোনো প্রেক্ষাপটেই নিয়ম শিথিল করা যাবে না।’
নিজ দেশের সবকিছু জানেন বলেই প্রশ্নটা মারিওরও, ‘সফরটা কি আসলেই হবে?’

LEAVE A REPLY