স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালীদের হুমকি

0
27

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়ে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলে জানা গেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। সারা দেশে মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এসব কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ সরকারি সাহায্য-সহায়তা বিতরণ, বিভিন্ন নিয়োগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন, হাটবাজার ও খেয়াঘাট ইজারা এবং বালুমহাল, জলমহাল ও খাসজমি বরাদ্দ দেয়া ইত্যাদি জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রজাতন্ত্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব কর্মকা- সততার সঙ্গে পরিচালনাকালীন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ ক্ষুণœ হলেই তারা কর্মকর্তাদের ওপর রুষ্ট হন, এমনকি কখনও কখনও তাদের ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে থাকে। সম্প্রতি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বয়োবৃদ্ধ বাবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়াই এর প্রমাণ। আশার কথা, সরকার ইতোমধ্যে মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বস্তুত সরকারের জনকল্যাণমুখী ও রাজস্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য দেশে পরিশুদ্ধ রাজনীতির বিকাশ ও চর্চার উন্মেষ ঘটাতে হবে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত যোগ্য, সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তারা সব ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে স্বাধীনভাবে স্বীয় কর্তব্য সম্পাদন করতে পারবেন-এ রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তারা কাজ করার সুযোগ না পেলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এটি সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়ার অন্তরায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের প্রসার ঘটলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্টের পাশাপাশি জনস্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষিত হয় এবং ব্যক্তিস্বার্থ সবকিছুর নিয়ামক হয়ে ওঠে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখবেন-এটাই নিয়ম। এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে রাষ্ট্র ও সমাজজীবন এক অরাজক অবস্থার মধ্যে নিপাতিত হবে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিঘœ সৃষ্টিকারী যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে এ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে-অপরাধীরা কোনোরকম অনুকম্পার যোগ্য নয়। এ দায়িত্ব শাসক দলকেই নিতে হবে। কারণ এক্ষেত্রে তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।

LEAVE A REPLY