জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী : ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক সম্পদ বিবেচনা করুন

0
11

কভিড-১৯ মহামারির কারণে সারা বিশ্ব আজ এক বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষের। এমনি অবস্থায় সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অনুপস্থিতিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশন। শনিবার রাতে সেই অধিবেশনে ভাষণ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে বিশ্ব শিগগিরই কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন পাবে। এই ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সব দেশ যাতে এই ভ্যাকসিন সময়মতো এবং একই সঙ্গে পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, কারিগরি জ্ঞান ও মেধাস্বত্ব দেওয়া হলে এই ভ্যাকসিন ‘বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের সক্ষমতা’ বাংলাদেশেরও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে কভিড-১৯ প্রমাণ করেছে, আমাদের সবার ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা। সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে কেউই সুরক্ষিত থাকবে না।
১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরের মতো তাঁর ১৭তম ভাষণও বাংলায় দিয়েছেন। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ বারবার সাম্রাজ্যবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। সেসব ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের কারণে সপরিবারে প্রাণ দিতে হয়েছে জাতির পিতাকে। সামরিক শাসনের জাঁতাকলে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে এ দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সে সোনার বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে সবার মানবাধিকার নিশ্চিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে জাতি ও বিশ্বের কাছে এটিই আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশ নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে।
সামরিক অভিযানের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার শুধু টালবাহানা করছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কভিডের কারণে অনেক প্রবাসী শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন এবং অনেককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি এই প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি সহমর্মিতার সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

আমরা মনে করি, সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে বিষয়গুলোর অবতারণা করেছেন, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। আমরা আশাবাদী যে বিশ্বনেতারা সেগুলোর সঠিক মূল্যায়ন করবেন।

LEAVE A REPLY