এমন অধঃপতন কেন : ছাত্রলীগকে দুর্বৃত্তমুক্ত করুন

0
10

এ দেশে ছাত্ররাজনীতির সোনালি অতীত রয়েছে, প্রশংসনীয় ঐতিহ্য রয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন,সর্বত্রই ছাত্রদের ছিল অগ্রণী ভূমিকা। কিন্তু এখন ছাত্ররাজনীতির মধ্যে সেসব ঐতিহ্যের ছিটেফোঁটাও কি অবশিষ্ট আছে? এখন ছাত্ররাজনীতি মানেই হচ্ছে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, লুটতরাজসহ নানা ধরনের অপকর্মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন। এখন কোনো কোনো ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও পাওয়া যায়। শুধু সেখানে থামলেও হতো। তাঁদের জন্য এখন সমাজে মানসম্মান নিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ছাত্রী, গৃহবধূ কেউই নিরাপদ নয় তাঁদের হাত থেকে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সে দলের ছাত্রসংগঠনই হয়ে ওঠে এক ত্রাসের নাম। যেমন এখন ছাত্রলীগ হয়ে উঠেছে সেই ত্রাসের নাম।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠন হচ্ছে ছাত্রলীগ। একসময় এ দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনেরই অগ্রভাগে ছিল এই ছাত্রলীগ। এই ছাত্রলীগ থেকেই উঠে এসেছে দেশ পরিচালনাকারী বহু নেতা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও একসময় ছাত্রলীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ক্ষমতাসীন দলে এখনো অনেক নেতা রয়েছেন, রাজনীতিতে যাঁদের অনুপ্রবেশ হয়েছিল ছাত্রলীগের হাত ধরে। ছাত্রসংগঠনটির গঠনতন্ত্রে ঘোষিত তিন মূলনীতি হলো শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি। কিন্তু বর্তমান ছাত্রলীগের কর্মকা-ে এই তিন মূলনীতির কিছু কি অবশিষ্ট আছে? যদি এসব মূলনীতির ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তাঁরা এমন ঘৃণ্য অপরাধ করে কী করে? ভাবা যায়, স্বামীসহ গৃহবধূকে তুলে নিয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে সেই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগেরই কিছু বীরপুঙ্গব। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে। ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মানিক ঘটা করে ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদ্্্যাপন করে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে কয়েক ডজন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। এমনকি খোদ ছাত্রলীগেরই অনেক নারীকর্মী ধর্ষিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে বিচার চেয়ে বিচার না পেয়ে আত্মহত্যাও করেছেন কেউ কেউ। ছাত্রলীগে ধর্ষণের এমন বাড়বাড়ন্ত কেন? কারণ একটাই, অপরাধের বিচার না হওয়া।
১২৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে এই বীরপুঙ্গবরা আজ থেকে অপরাধ করছে না। গত ১০ বছরে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হয়েছেন ১১ কর্মী। আট বছর আগে এই ছাত্রলীগ কর্মীরাই পুড়িয়ে দিয়েছিল বিশেষ স্থাপত্য নকশার ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসটি। চলতি বছরই ছাগল উন্নয়ন খামারের পাঁঠা না দেওয়ায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে এঁরা পিটিয়ে আহত করেছিলেন। তার পরও এঁরা ঘুরে বেড়াত কিভাবে? আমরা চাই, গৃহবধূ ধর্ষণের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যা অন্য দুর্বৃত্তদের কাছে বিশেষ বার্তা পৌঁছাবে।

LEAVE A REPLY