যশোরে দিনদুপুরে থানার পাশে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই

0
86

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরে দিনদুপুরে বোমা ফাটিয়ে এবং এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে কোতোয়ালি থানার পাশে ইউসিবিএল ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত এনামুল হককে (২৫) যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর খুলনায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তার সাথে থাকা ইমনকে (২৪) পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এনামুল হক শহরের বকচরের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
ঘটনার সময় অদূরে টহল পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা ছিনতাইকারীদের ধরতে কোন ভূমিকা রাখেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের দাবি, তারা ছিনতাইকারীদের পালিয়ে যাবার ফুটেজ পেয়েছেন। তাদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, শহরের আরএন রোডের আগমনী মোটরসের স্বত্ত্বাধিকারীর ইকবাল হোসেনের ছোট ভাই এনামুল হক (২৫) ও ইকবালের শ্যালক ইমন (২৪) দুপুরে টাকা জমা দেয়ার জন্য মোটরসাইকেলে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে আসেন। তারা ব্যাংকের সামনে পৌঁছানোর সাথে সাথে টাকার ব্যাগ বহণকারী এনামুলের ওপর হামলা চালায় ছিনতাইকারীরা। তারা ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে এনামুল বাঁধা দেন। এসময় ছিনতাইকারীরা এনামুলের দুই হাতে, বুক ও পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় একটি বোমা বিস্ফোরণও ঘটায় ছিনতাইকারীরা। বোমার স্পিন্টারে ব্যাংকের এটিএম বুথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা মারাত্মক আহত অবস্থায় এনামুল উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেন।

চিকিৎসাধীন এনামুল জানান, তিনি ১৭ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। ব্যাংকের সামনে যাওয়ার সাথে সাথে তিন ছিনতাইকারী তার উপর হামলা চালায়।
আহত ইমনসহ স্থানীয় দোকানদাররা অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অদূরে টহল পুলিশের গাড়ি দাড়িয়ে থাকলেও তারা ছিনতাইকারীদের ধরতে কোন ভূমিকা রাখেনি।
তবে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ছিনতাইকারীদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাসমীম আহমেদ, পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলের চারিদিকে একাধিক সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ওই ক্যামেরাগুলো থেকে ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক দল ছিনতাইকারী আটকে অভিযান শুরু করেছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুর রশিদ ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আহমেদ তারেক শামস জানিয়েছেন, বুক-পেট ও হাতে ছুরিকাহত এনামুলের অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ছিনতাইয়ের ঘটনাটি তাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তারা আহত এনামুলের সঙ্গী ইমনকে জিঙ্গাসাবাদ করতে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তবে তাকে হেফাজতে নেয়ার ব্যাপারে পুলিশের কোন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

LEAVE A REPLY