বাফুফে নির্বাচন : দৌড়ে এগিয়ে নাবিল-ইমরুল

0
26

ক্রীড়া ডেস্ক : ফুটবলের নির্বাচনকে ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে অনেক আলোচনা। উত্তপ্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সভাপতি পদে যেমন ত্রিমুখী লড়াইয়ের উত্তাপ, তেমনি চার সহসভাপতি পদের জন্য আট প্রার্থীর লড়াইও জমে উঠেছে। প্রতিদিন বদলাচ্ছে এই লড়াইয়ের ছবি। ভোটের দুদিন আগে ছবিটা হয়তো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়, তবে দৌড়ে এগিয়ে কাজী নাবিল আহমেদ ও ইমরুল হাসান।
ভোটের আগে ভোটাররা প্রকাশ্যে মনের কথা বলতে রাজি নন। তবে পরোক্ষে তাঁরা বুঝিয়ে দিচ্ছেন মনোভাব। ঢাকা মোহামেডানের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফে নির্বাচনের কাউন্সিলর মোহাম্মদ মঞ্জুর আলম মনে করেন, ‘ফুটবলকে বাঁচানোর জন্য চার সহসভাপতির গুরুত্ব অনেক। তাই যাঁরা ক্লাব পর্যায় থেকে ফুটবলে অবদান রাখছেন, তাঁদেরই আসা উচিত। তাঁদের ভাবমূর্তিটাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে এই পদে বসানো উচিত হবে না আমাদের।’ এমন মনোভাব আরো অনেক ভোটারের। সেই বিবেচনায় দেখলে এখন পর্যন্ত আবাহনীর ডিরেক্টর ইন-চার্জ নাবিল আহমেদ ও ইমরুল হাসান এগিয়ে আছেন। নাবিল অনেক দিন ধরেই আবাহনীর ফুটবল ঐতিহ্যের পতাকা উড্ডীন রেখেছেন। ফেডারেশনে গিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান হয়ে চেষ্টা করেছেন জাতীয় দলের ভাগ্য বদলাতে। অন্যদিকে ইমরুল হাসান তাঁর ক্লাব বসুন্ধরা কিংস নিয়ে দারুণ সফল। শীর্ষ লিগে দুই মৌসুমে সব ট্রফি জেতা হয়ে গেছে তাদের। লাতিন তারকাদের এনে ক্লাব ফুটবলের জনপ্রিয়তাতেও ভূমিকা রাখছে কিংস। ইমরুল হাসানের লক্ষ্য এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গন রাঙানো। ক্লাব পর্যায়ে সফল এই সংগঠক নিজের ভাবমূর্তিতে অন্যদের ছাড়িয়ে গেছেন। তাই জাতীয় পর্যায়ে তাঁর কাজ করার আগ্রহকে স্বাগত জানাচ্ছেন অনেক ভোটার।
দুজনকে বাদ দিলে বাকি থাকে আরো ছয়জন। তাঁদের মধ্যে একদম নবাগত আতাউর রহমান মানিক পেশায় ব্যবসায়ী হলেও ফুটবলে নতুন। তবে দেশের ফুটবলকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। বর্তমান কমিটির দুই সহসভাপতি তাবিথ আউয়াল ও মাহিউদ্দিন আহমেদ মহি নানা হার্ডল পেরিয়ে লড়াই জেতার চেষ্টা করছেন। ফুটবলে সব সময় স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করা বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আবার নিজের ক্যারিশমায় পদ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। করোনায় আক্রান্ত হয়ে পিছিয়ে পড়া মহি নিজের অবস্থান ফেরানোর চেষ্টা করছেন। চেষ্টার খামতি রাখছেন না শেখ মারুফ হাসানও। পুলিশ এফসির এই প্রেসিডেন্ট অনেক আগে থেকে দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িত থাকলেও কখনো ফেডারেশনের পদে বসেননি।
নির্বাচনে চমক হতে পারেন জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নেতা রেদোয়ান ফুয়াদ। স্বাভাবিকভাবে জেলার ভোট পড়বে তাঁর বাক্সে। সঙ্গে ক্লাবের কিছু ভোট যোগ হলেই জামালপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টের ফুটবল ফেডারেশনে আসার স্বপ্ন পূরণ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন আমিরুল ইসলাম বাবু। এত দিন সদস্য পদে নির্বাচন করে ভোটের রেকর্ড গড়া বাবুকে নিয়ে অনেক বিতর্ক। বিশেষ করে কাজী সালাউদ্দিনের প্যানেলে তাঁকে সহসভাপতি প্রার্থী করা নিয়েই বিব্রত প্যানেলের অনেকে। তিনি এই পদের যোগ্য কি না, সে নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তা ছাড়া সদস্য পদ আর সহসভাপতি পদের ভোটের লড়াই এক নয়। এর পরও তিনি লড়ে যাচ্ছেন, নিজস্ব কায়দায় পদোন্নতির জন্য।

LEAVE A REPLY