কাউন্সিলরের বাড়িতে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ

0
22

কল্যাণ রিপোর্ট : বৈধভাবে সংযোগ না নিয়েও প্রায় চার বছর ধরে বাসভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে চৌগাছা পৌরসভার এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন এতে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় দেড় লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। চৌগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি কলেজপাড়ায় ওই বাড়িটির অবস্থান।
তবে চৌগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অভিযুক্ত কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার দাবি, তিনি চার বছর নয়, চলতি বছর ওই বাড়িতে উঠেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রায় চার বছর ধরে বাড়িতে বৈধভাবে কোনও সংযোগ নেওয়া না হলেও রীতিমতো বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় এই অনৈতিক কাজ চলছে। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জানতে চাইলে পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, তিন-চার বছর নয়, সম্প্রতি কলেজের পাশে আমার নতুন বাড়িতে উঠেছি। বিদ্যুতের মিটারের আবেদনও করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে লাইনের কাজ কমপ্লিট রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সঙ্গে কথা বলেছি; যেকোনও সময় মিটার লেগে যাবে। মিটার বাদেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি- এটি খুবই সামান্য একটি বিষয়। আমি পৌর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। তুচ্ছ এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষ মিথ্যাচার করছে।
এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম প্রকৌশলী কামাল জিয়াউল ইসলাম বলেন, পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তার তিনতলা বাড়িতে অনৈতিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগটি সত্য। আমরা তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদের সভায় জানিয়েছি। সভা থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পৌর মেয়রকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় চার বছর ধরে তিনি এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তার বাড়ির অবয়ব অনুযায়ী প্রতিমাসে কমবেশি তিন হাজার টাকার মতো বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চার বছরের হিসেবে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ নিয়ে এতদিন ধরে কোনও ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। সে কারণে বিষয়টি আমার জানা ছিল না।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রকৌশলী এম এনামুল হক বলেন, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চৌগাছা পৌর মেয়র নূরউদ্দিন আল মামুন হিমেলের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY