শিশু সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা!

0
17

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরে পিতার বিরুদ্ধে আল আমিন (৫) নামে এক শিশুকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বাকুড়া গ্রামে বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। পিতার বিরুদ্ধে শিশুটিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছে শিশুটির নানি। তবে শিশুটির পিতার পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শিশুটি এখন গুরুতর অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা অথবা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।

হাসপাতালে শিশুটির নানি শাকিরন বলেন, একই গ্রামের প্রতিবেশী দাউদ সর্দারের ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশুটির জন্ম হয়। এরপর আদালতে মামলা হলে ডিএনএ পরীক্ষায় দাউদ হায়দার শিশুটির পিতা নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে আমার মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেই। মেয়ে এখন অন্য গ্রামে থাকে।

বুধবার রাতে আল আমিনকে নিয়ে আমি একসাথেই ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত একটার দিকে আল আমিনের চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙে দেখি বিছানার একপাশে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। তাড়াতাড়ি পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে আল আমিনকে নিয়ে হাসপাতালে আসি। ধারনা করছি দাউদ হায়দারই শিশুটিকে হত্যার জন্য এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

দাউদ সর্দার কেন এমন ঘটনা ঘটাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে শিশুটির নানি জানান সম্পত্তির ব্যাপার আছে। পাশাপাশি দাউদের ছেলে মেয়েরাও বড় বড় চাকরি করে। এই বাচ্চা বেঁচে থাকলে তাদের মান সম্মানের ব্যাপার এজন্য হয়তো হত্যার চেষ্টা করতে পারে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা, শরীফুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, শিশুটির সমস্ত শরীর পুড়ে গেছে। তার অবস্থা গুরুতর। এ কারণে তাকে খুলনা অথবা ঢাকায় নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাতে দাউদ সর্দারের ফোনে ফোন দেওয়া হলে ফোন ধরেন তার মেয়ে। তিনি বলেন, ‘আব্বা বাইরে গিয়েছেন। এশার নামাজ পড়ে ফিরবেন। তার ফিরতে ঘণ্টা দুয়েক দেরি হবে।’

দাউদের ব্যাপারে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শাকিরন গ্রামে থাকে না। সে যশোর থাকে। এ ঘটনা ঘটার আগে সে কখন গ্রামে এসেছে তাও আমরা জানি না। এর আগে সে মেয়ের বিয়ে দিতে এবং শিশুটির খরচের জন্য পাঁচ লাখ টাকাও নিয়েছে। আমরা শিশুটিকে আমাদের কাছে রাখতে চাইলে শাকিরন তাও দেয়নি। সে আরো ১০ লাখ টাকা চেয়েছে। সামনে বাবার মামলার রায় হবে। আর আগুন দিয়ে শিশুটিকে পোড়ানোর ঘটনায় আমার আব্বা জড়িত না।’

এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক রাতে বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে কিছুক্ষণ আগে জানতে পেরে বাঁকড়া ফাঁড়িকে বিষয়টি খোঁজ নিতে বলেছি।

LEAVE A REPLY