বাগেরহাটে দ্রুততম সময়ে শিশু ধর্ষণ মামলার রায়ে যাবজ্জীবন

0
8

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : বাগেরহাটে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশু ধর্ষণ মামলার রায়ে আদালত এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন। একই সাথে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদ-ের আদেশ দেন আদালতের বিচারক।
বাগেরহাটের নারী-ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম সোমবার বেলা ১২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে রায় ঘোষণার মধ্যে নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়েরকৃত মামলার বিচার কাজ শেষ করে আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি আব্দুল মান্নান সরদার (৫০) আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে এত অল্প সময়ে আর কোনো ফৌজদারি মামলা বিচার শেষ হওয়ার নজির নেই বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। দ-প্রাপ্ত আসামি আব্দুল মান্নান বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার মাকড়ডোন গ্রামের আহম্মদ সরদারের ছেলে।
সোমবার বেলা ১১টার পর পর আসামিকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার পর আসামিকে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ৩ অক্টোবর বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মাকোরডোন গ্রামে ওই সাত বছর বয়সী ওই শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই শিশুটি মাকোরডোন এলাকায় ভূমিহীন আশ্রয়ন প্রকল্পে মামার কাছে থেকে বড় হচ্ছে। ৩ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান সরদার বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভন দিয়ে শিশুটিকে তার বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শিশুটির মামা বাদী হয়ে ওই দিন মোংলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই দিন রাতেই আসামিকে আটক করে।
মোংলা থানার উপপরিদর্শক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিত মুখার্জ্জী ১১ অক্টোবর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত পরে দিন ১২ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। ১৩ অক্টোবর ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষগ্রহণ করেন আদালত। এরপর ১৪ অক্টোবর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ভিকটিমের পরীক্ষাকারী চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা, মহিলা পুলিশ কনস্টেবলসহ আরো পাঁচজন সাক্ষ দেন। ১৫ অক্টোবর আসামি পক্ষে সাফাই সাক্ষগ্রহণ করে আদালত। ১৮ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষে সোমবার রায় ঘোষণার জন্য তারিখ নির্ধারণ করে আদালত। ঘটনার দুই সপ্তাহের মধ্যে রায় ঘোষণার মধ্যে দিয়ে শিশু ধর্ষণ মামলার বিচার কাজ শেষ হয়েছে।

LEAVE A REPLY