যশোরে নৌকার প্রার্থী নীরা বিপুল ভোটে জয়ী

0
43


কল্যাণ রিপোর্ট : যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
তিনি ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৬২৫ ভোটের ব্যবধানে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি ধানের শীষের নূর-উন-নবী পেয়েছেন ১২ হাজার ৩৯৪ ভোট। নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৯৪। শতাংশের হিসেবে যা ৫১ দশমিক ৭৭।
ভোটের পর পরই ব্যালটপেপার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গণনার পর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ।
এ সময় নৌকা প্রতীকের প্রধান নিবাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল উপস্থিত থাকলেও বিএনপির প্রার্থীর কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলো না।
নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৯৪। শতাংশের হিসেবে যা ৫১ দশমিক ৭৭। এর মধ্যে বাতিল ভোটের সংখ্যা ১ হাজার ৭৮১টি। বৈধ ভোট ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪১৩।

তিনি জানান, সদর উপজেলার ১৭৫টি কেন্দ্রে ৫ লাখ ৬০ হাজার ৫২৪ জন ভোটার রয়েছেন। যাদের মধ্যে থেকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৯ জন। আর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পড়েছে ১২ হাজার ৩৯৪টি।
এর মধ্যে যশোর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৪৫টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে ভোটে পড়েছে ৬৫ হাজার ৪৫৭ ভোট। আর ধানের শীর্ষ পেয়েছে ৩ হাজার ৫৬৮ ভোট। বাকি ভোটগুলো সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের।
নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, ভোট হয়েছে অবাধ,সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। বিএনপির অভিযোগ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে জনগনকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সকালে ভোটারের উপস্থিত কিছুটা কম ছিল। কিন্তু বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপস্থিতি বাড়ে। কেন্দ্রে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। তবে নির্বাচনে সারাদিন কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল কম।

নির্বাচন চলাকালীন কয়েকটি কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাদেও দাবি ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে।
সকাল ১০টার দিকে কাশিমপুর ইউনিয়নের মীরাপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে দলের ইউনিয়ন কমিটির সহসভাপতি শাহাজান আলীসহ ৫ জন আহত হয়েছে। শাহাজান আলী যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এছাড়া পৃথক নির্বাচনী সহিংসতায় আহত হয়ে আরও ৪জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এরা হলেন, বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাইদগাছী গ্রামের কাজী আব্দুল আজিজ এলাহী,তার ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী মঞ্জুর এলাহী সনি, যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী তৌফিক এলাহী টনি এবং নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের সিরাজসিংহা গ্রামের বিএনপি কর্মী আতিয়ার রহমান। নৌকার সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে গেলে তাদের মারপিট করে বলে অভিযোগ করেছেন আহতরা।
আরবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামকে বালিয়াভেকুটিয়া কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে তাকে মারপিট করেন নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা।
এদিকে পৌর কাউন্সিলর সন্তোষ দত্তের বিরুদ্ধে সকাল ১০টার দিকে ইসলামিয়া বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর পরই প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু কাউন্সিলর সন্তোষ দত্তকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
যশোর শহরের সেবাসংঘ বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা ভোট দেন। অপর দিকে ধানের শীষের প্রার্থী নুর উন নবী শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন।
সাড়ে ১০টার দিকে যশোর সরকারি সিটি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসনা শারমীন মিথীকে দেখা যায়। ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ ভাল।’
কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অফিসার শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, সকালের দিকে ভোটার তেমন আসেনি। এজন্য দেড় ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে।
তিনি আরো জানান, এই কেন্দ্রে তিন হাজার ৭৩৯ জন ভোটার রয়েছেন। যাদের ভোট দেয়ার জন্য আছে ১০টি বুথ।
যশোর শহরের এমএসটিপি বালিকা মহাবিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আজমির হোসেন দুপুর ১২টার দিকে জানান, এ কেন্দ্রে ভোটার তিন হাজার ৭০০ জন। ১২টি বুথ রয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২ পর্যন্ত এক হাজার ১০০ ভোট পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার আরো বাড়ছে।
যশোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়েছে। কোথায় কোন ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি ঘটনা ঘটেনি।
জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানিয়েছেন,নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কঠোর নির্দেশনা ছিলো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়। নির্বাচন চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করায় ভোট শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবির বলেন, ভোটকেন্দ্রে সার্বিক নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য ১৭৫ জন প্রিজাইটিং অফিসার ও ১ হাজার ১৩ জন পোলিং অফিসার কাজ করছেন।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় ২ জন জুডিসিয়াল ও ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছে। ১৮টি মোবাইল টিম ও ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্সের ৬টি টিম নির্বাচনের মাঠে সারাদিন সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।
উল্লখ্য,যশোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে কেশবপুর সংসদীয় উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন শাহীন চাকলাদার। সেকারণে চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে এ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হল।

LEAVE A REPLY