এমপি রনজিতের সন্ত্রাসীদের হামলা-মামলার প্রতিবাদে যশোরে জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন

0
22

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী ও তাদের স্বজনদের উপর হামলা, মামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে যশোর জেলা জাতীয় পার্টি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. জহুরুল হক জহির। বিবৃতিতে তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের উপর এমপি রনজিত রায়ের সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা মামলার বিবরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাঘারপাড়া এলাকার নেতা-কর্মীরা প্রতিনিয়ত এমপি রনজিত রায়ের সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলা, মামলার শিকার হচ্ছে। এমনকি আমার নিজের পরিবারও এমপির সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় এড. জহিরের ভাইপো ঢাকা তীতুমীর কলেজের ছাত্র হুসাইন আল সাকিব সুমন ও নিজাম মোল্লা রক্তাক্ত জখম হন। এছাড়া ২০১৮ সালে জানুয়ারি মাসে বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদক আয়ুব হোসেনের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে এবং আয়ুব হোসেন এর চাচাতো ভাই ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জহির মোল্লাকে এমপির ক্যাডার বাহিনী পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট বন্দবিলা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড (প্রেমচারা, দক্ষিণ চাঁদপুর) জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক তৈয়বুর রহমানের পিতা তফসির মোল্লাকে গভীর রাতে জবাই করে হত্যা করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। এমপির ইন্ধনে হত্যার শিকার তফসির মোল্লার স্ত্রী ও সাবালক চার সন্তান থাকা সত্ত্বেও মরদেহ উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে এস-আই নাসিরুল হক খান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে বাঘারপাড়া থানার মামলা নং-০৬, তাং: ০৯/০৮/২০১৮ইং দায়ের করেন। তফসির মোল্লাকে হত্যার পূর্বে এমপি রনজিত রায়ের সন্ত্রাসী বাহিনী একই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি এবং ১৭ জুলাই দুই দফা তফসির মোল্লার বাড়িতে হামলা করে। হত্যা মামলাটি বর্তমানে সিআইডি যশোরে তদন্তাধীন আছে।
এড. জহির বলেন, শুধু হামলা করেই ক্ষ্যান্ত হননি এমপি রণজিত। উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামানসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে বাঘারপাড়া থানার পেন্ডিং নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করিয়ে জেলও খাটিয়েছেন ।
সংবাদ সম্মেলনে এড. জহির দাবি করেন স্থানীয় রাজনীতিতে এমপি রণজিত রায়ের অবস্থান শূন্যের কোঠায় হওয়ার কারণেই তিনি উপজেলার শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী বর্তমানে কারা অন্তরীণ আমজাদ হোসেন মোল্যাকে আওয়ামী লীগে যোগদান করান। একই সাথে তিনি আওয়ামী লীগে টেনে নেন ইউনিয়ন বিএনপির দীর্ঘ ২০ বছরের সভাপতি শওকত হোসেন মন্ডল ও তার ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী আনোয়ার হোসেন টুটুলকে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখে জানতে চান যেখানে আওয়ামী লীগের প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশকে যুদ্ধাপরাধী মুক্ত করার জেহাদে সামিল তখন এমপি রণজিত রায় কেন একজন যুদ্ধাপরাধীকে দলে টানেন, কেনই বা একজন চিহ্নিত রাজাকারের পুত্রবধূর হাত থেকে ফুল নেন মিষ্টি খান।
এড. জহুর বলেন, যেহেতু আমি একাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি রণজিত রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছি তাই তিনি ব্যক্তি আক্রোশেই আমার দল ও আমার পরিবারকে ক্ষতি করার জন্য সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, আমার দলের নেতাকর্মী এবং আমার পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থেকে শীর্ষ রাজাকার আমজাদ মোল্যার বিচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। যা এমপি রণজিত রায় সহ্য করতে পারছেন না। তারই অংশ হিসেবে বন্দবিলা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব হোসেনের চাচা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী এহিয়ার রহমানকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে আটকে রাখে রাজাকার আমজাদ মোল্যার ভাগ্নে জাহিদুলের বাড়িতে। আর তাকে উদ্ধার করতে যেয়ে রাজাকার ও এমপির সন্ত্রাসীদের সাথে সংঘর্ষ হয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়া সচেতন মানুষ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের। যে ঘটনায় আহত হয় বেশ কয়েকজন। আহত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে আমজাদ রাজাকারের ঘনিষ্ঠ সহচর ছবেদ আলী। এ হত্যার ঘটনায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীসহ অর্ধশতাধিক নিরীহ লোকের নামে নিহত ছবেদের দুই ছেলে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়ে মামলা করে। যে মামলা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আশা করে বলা হয়, নিশ্চই বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে যুদ্ধাপরাধী মুক্ত করার জেহাদের ঘোষনার আলোকে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী বর্তমানে কারা অন্তরীণ আমজাদ হোসেন মোল্যার ঘনিষ্ট সহচর এমপি রণজিত রায়ের বিচার করবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগামীতে নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী, জেলা জাতীয় পার্টি সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মনিরুজ্জামান হীরণ, বাঘারপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান তরফদার, বাঘারপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সোলায়মান হোসেন, জেলা স্বে”ছাসেবক পার্টির আহবায়ক নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব শেখ মুকুল হোসেন, বাঘারপাড়া উপজেলা যুবসংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান, বাঘারপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদক আইয়ুব হোসেন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY