দেশের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের ভাইস চেয়ারম্যান পিংকির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

0
32

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঘটনার দীর্ঘ পাঁচ মাস পর ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) সাদিয়া আক্তার পিংকিকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন আরেক তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের বর্ষা মীর। আসামিরা সবাই তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের মানুষ। গত ১১ নভেম্বর ঝিনাইদহের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল আমলি আদালতে তিনি এ হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। আদালত কোটচাঁদপুর থানাকে মামলাটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাদিয়া আক্তার পিংকি-ই হচ্ছেন তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) সম্প্রদায়ের মধ্যে দেশের সর্বপ্রথম একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
মামলার বাদী বর্ষা মীরের আদালতে দায়ের করা অভিযোগসূত্রে বলেন, এলাকার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে গত ৭ জুন কোটচাঁদপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাদিয়া আক্তার পিংকি ও তার পাঁচ সহোযাগী হিজড়া লাবলী ওরফে আক্তারুলকে কোটচাঁদপুর উপজেলার পেছনে তার ভাড়া বাসা থেকে করোনা হয়েছে প্রচার করে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে হিজড়া লাবলী ওরফে আক্তারুলকে দুই হাতের রগ কেটে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করলে মৃত লাবলী ওরফে আক্তারুলের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার নাস্তিপুর কবরস্থানে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
মামলার বাদী বর্ষা মীর আরো অভিযোগ করেন, লাবলী ওরফে আক্তারুলের বাড়ি দর্শনা থানার নাস্তিপুর গ্রামে। তিনি একজন পুরুষ। তার স্ত্রী ও দুটি সন্তান রয়েছে। ৬ বছর আগে সাদিয়া আক্তার পিংকি তাকে ফুসলিয়ে অপারেশনের মাধ্যমে হিজড়া বানান। সেই থেকে সে কোটচাঁদপুর বাসা ভাড়া নিয়ে হিজড়াদের সাথে চলাফেরা করে জীবন ধারণ করে আসছিল। প্রায় ১ বছর ধরে এলাকার আধিপত্য নিয়ে পিংকির সাথে লাবলী ওরফে আক্তারুলের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয়। যে কারণে তাকে হত্যা করা হয়।
এদিকে কোটচাঁদপুর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) সাদিয়া আক্তার পিংকি এ প্রতিবেদককে বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝিনাইদহের সদর থানার চাকলা এলাকার বর্ষা হিজড়া এলাকার বিভিন্ন হিজড়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে দাবিয়ে রাখত। আমি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। গত উপজেলা নির্বাচনের আগে আমি কথা দিয়ে ছিলাম সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আমি তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়দের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করব। সে লক্ষ্যে হিজড়াদের মধ্যে এ আধিপত্যের দ্বন্দ্ব নিরশনে আমি বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সাথেও আমি বলেছি। কিন্তু বর্ষা হিজড়া বসতে চায়নি বা বসেনি। আমি সব সময় নির্যাতিতদের পাশে আছি। যে কারণে বর্ষা হিজড়া মেনে নিতে না পেরে আমাকে দুর্বল করতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
তিনি মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, প্রশাসনের উচিত হবে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া।
পিংকি বলেন, আমি যতটুকু জেনেছি তা হলো, লাবলী ওরফে আক্তারুল ওই সময় চরম অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েকজন হিজড়া তাকে মাইক্রোতে করে তার নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
কোটচাঁদপুর থানার ওসি মাহাবুবুল আলম বলেন, এখনো পর্যন্ত আমি আদালতের কোনো নির্দেশনা পাইনি, শুনেছি মাত্র।

LEAVE A REPLY