রাজধানীতে হঠাৎ ৯ বাসে আগুন : করোনার আতঙ্কের মধ্যে নাশকতার আতঙ্ক

26

কল্যাণ ডেস্ক : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আগুন সন্ত্রাসের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছিল। পাঁচ বছর পর ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের দিন রাজধানীর অন্তত নয়টি স্থানে বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে কাছাকাছি সময়ে নয়টি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ফের নাশকতার গন্ধ পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই এবাবে বাসে আগুন দেওয়াকে পরিকল্পিত নাশকতার ইঙ্গিত দেখছে পুলিশ। এর সঙ্গে উপনির্বাচনের যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ জনগণের মধ্যেও নাশকতার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ছে।
এ ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও সহিংসতার উদ্দেশেই সরকারি বাস ও গণপরিবহনে আগুন দেয়া বলে ধারণা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
এ বিষয়ে ডিএমপি জানায়, ইতোমধ্যে ককটেলসহ রাজধানীর তুরাগ থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও গণপরিবনে অগ্নিকা-ের ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুর ১টার পর প্রায় একই সময়ে রাজধানীর শাহজাহানপুর, নয়া পল্টান, গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার সংলগ্ন সড়ক ও শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে চারটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর কিছু সময় আগেই জাতীয় প্রেসক্লাব ও নয়া পল্টন এলাকায় ঢাকা-১৮ আসনে ভোটগ্রহণে কারচুপির অভিযোগ এনে ছাত্রদল ও সেচ্ছাসেবক দল বিক্ষোভ মিছিল করে।
ঘণ্টা দুয়েক পর দুপুর ৩টার দিকে সচিবালয়ের পেছনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে রজনীগন্ধা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নয়াবাজার এলাকায় দিশারী পরিবহনের একটি বাসও আগুনে পুড়তে থাকে।
এখানেই শেষ নয়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ভাটারা থানার প্রগতি সরণি এলাকায় একটি এবং প্রায় একই সময়ে কারওয়ান বাজারের সামনের সড়কে আরও একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, একদিনে রাজধানীতে নয়টি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভালেও বাসগুলো পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। তবে আটটি ঘটনার কোনোটিতেই এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পল্টন থানা সূত্রে জানা গেছে, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অন্তত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিএনপির সহসাংগাঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমানও রয়েছে। তবে আটকদের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত না থাকলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। বাকিদের নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাহবাগ থানার একজন এসআই বলেন, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশ মাঠে নেমেছে, তারা তদন্ত করছে। শিগগিরই ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আগুনে পোড়া রজনীগন্ধা বাসে যাত্রী ছিলেন ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, আমি বাসের সামনের দিকে ছিলাম। বাসটিতে পেছন থেকে কে বা কারা আগুন দিয়েছে। পেছনের যাত্রীদের আগুন আগুন চিৎকার শুনে দ্রুত নেমে যাই সবাই। এরপর পুরো বাস পুড়ে যায়।
নয়াবাজার এলাকার দিশারী পরিবহনের যে বাসটিতে আগুন লাগে, ওই বাসের একজন যাত্রীর শঙ্কা— ২০১৪-১৫ সালের মতো আবার কি ঢাকায় বাস পোড়ানো শুরু হয়েছে? তিনি বলেন, ‘আবার কি নাশকতা শুরু হয়ে গেল? তাহলে আমরা বাসে চলাচল করব কিভাবে? এমনিতেই করোনার আতঙ্কে সবাই কুপোকাত। তার মধ্যে বাসে আগুন দেওয়া মোটেই ভালো লাগছে না। এটি সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়াবে।’
এদিকে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন কেন্দ্র করে তুরাগ ও আব্দুরল্লাহপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চার জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মুত্তাকিন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি, মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, রাজধানীতে কয়েকটি জায়গায় বাসে আগুনের ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ধারণা করা হচ্ছে, এসব ঘটনা উপনির্বাচনকেন্দ্রিক। এ ঘটনায় কারা জড়িত সেটা তদন্তের পর জানা যাবে। তবে ঘটনা যাই হোক, নাশকতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই এমনটা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।
বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর গোটা রাজধানীতেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে পুলিশ। ডিসি ওয়ালিদ বলেন, বাসে আগুন দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকাগুলোতে যানচলাচলে কোনো বিঘœ ঘটেনি। এলাকাগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো রাজধানীতে সতর্ক রয়েছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here