অভিনন্দন সাদাত : তার কৃতিত্বে উজ্জ্বল বাংলাদেশ

0
18

শিশুদের নোবেলখ্যাত পুরস্কার ‘কিডসরাইটস ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন’স পিস প্রাইজ’-এ ভূষিত হয়েছে নড়াইলের আবদুল হাই সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোর সাদাত রহমান। এই পুরস্কার পাওয়ার মধ্য দিয়ে মালালা ইউসুফজাই, গ্রেটা থুনবার্গদের কাতারে দাঁড়াল বাংলাদেশের সাদাত। তাকে আমাদের অভিনন্দন।
‘কিডসরাইটস’ নামের সংগঠনটি ২০০৫ সালে রোমে অনুষ্ঠিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক শীর্ষ সম্মেলন থেকে এ পুরস্কার চালু করে। শিশুদের অধিকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অসাধারণ অবদানের জন্য প্রতিবছর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা ওই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। গত বছর সুইডেনের শিশু পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও ক্যামেরুনের ডিভিনা মালম যৌথভাবে মর্যাদাপূর্ণ ওই পুরস্কার পান। ২০১৩ সালে এই পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই পরের বছর জয় করেছিলেন নোবেল। ফ্লোরিডার স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে বহু হতাহতের পর যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ‘মার্চ ফর আওয়ার লাইভস’-এর আয়োজক শিক্ষার্থীরাও এই পুরস্কার পেয়েছে। সেই তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশের সাদাত রহমানের নাম।
সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় সাদাত ও তার বন্ধুরা মিলে ‘নড়াইল ভলান্টিয়ারস’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলে। তৈরি করে ‘সাইবার টিনস’ অ্যাপ। এই অ্যাপ সাইবার বুলিংয়ের শিকার কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদ ইন্টারনেটের ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি গোপনীয়তার সঙ্গে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুযোগ করে দেয়। অন্যদিকে সংগঠনের মাধ্যমে সাইবার বিশেষজ্ঞ, সোশ্যাল ওয়ার্কার ও পুলিশকে এক জায়গায় নিয়ে আসে সাদাত। এই অ্যাপের মাধ্যমে এরই মধ্যে সাইবার বুলিংয়ের শিকার তিন শতাধিক মানুষ উপকৃত হয়েছে। এই অ্যাপের কল্যাণে সাইবার অপরাধের জন্য আটজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ইন্টারনেট সেফটি নিয়ে সেমিনারের মাধ্যমে সাদাত ৪৫ হাজারের বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কাছে তার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। নিজের এলাকার প্রতিটি স্কুলে ‘সাইবার ক্লাবস’ তৈরি করেছে সে।
ইন্টারনেটের এই সময়ে এসে জটিল এক মনস্তাত্ত্বিক উপদ্রবের শিকার হচ্ছে কমবেশি সব বয়সের মানুষ। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরী ও নারীরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন সাইবার আক্রমণে। এই অপরাধের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাইবার বুলিং’। কিশোর সাদাত এই সাইবার বুলিং বন্ধে যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আমাদের তরুণসমাজকে জনহিতকর কাজে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমরা মনে করি।

LEAVE A REPLY