তার মতো শিল্পীর মত্যু হয় না : ববিতা

55

বিনোদন ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে পরম শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ করেছেন তার সহশিল্পী বাংলাদেশের অভিনেত্রী ববিতা; বলছেন, তার মতো শিল্পীর মৃত্যু হয় না; দর্শকদের হৃদয়ে তিনি চিরকাল ছিলেন, আছেন, থাকবেন।
কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে অভিনয় করে দেশের গ-ি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি লাভ করেন সেই সময়ের ষোড়শী নায়িকা ববিতা।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণে ‘অশনি সংকেত’র শুটিংয়ের দিনে ফিরে গেলেন ববিতা।
“ছবির প্রথম শট সৌমিত্র দা’র সঙ্গে ছিল। গোল ফ্রেমের চশমা, ধুতি পরে গঙ্গাচরণের (ছবির চরিত্র) গেটআপে তাকে অপূর্ব লাগছিল। আমি খুব ভয়ে ছিলাম, একে তো বিদেশ তার উপর ওনার মতো জাঁদরেল শিল্পীর সঙ্গে কাজ করছি। পারব কি পারব না সেটা নিয়ে খুব ভয় পাচ্ছিলাম।”
সত্তরের দশকের শুরুর দিকে যখন ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে ডাক পাওয়া ববিতা ছিলেন নবীন অভিনয়শিল্পী; ঢাকায় দুয়েকটি কাজ করলেও সেভাবে পরিচিতি মেলেনি দর্শকদের কাছে। তার বিপরীতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ‘অপুর সংসার’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ততদিনে বেশ খ্যাতি পেয়েছিলেন।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগেই তাকে নিয়ে পড়াশোনার চেষ্টা করেছেন ববিতা। ‘অপুর সংসার’ ছবিটি দেখে তার ভয়টা আরও বেড়ে গিয়েছিল, তার মতো শিল্পীর সঙ্গে মানিয়ে নেবেন কিভাবে।
তবে পরে সেই ভয় কেটে গেছে জানিয়ে ববিতা বললেন, “কাজ শুরুর পর বুঝেছি, সৌমিত্র দা কী যে ভালো মানুষ! খুব আপন করে নিয়েছিলেন। সেটে পরামর্শ পেয়েছি তার কাছ থেকে। বন্ধুর মতো মিশেছেন আমার সঙ্গে। শুটিংয়ের অবসরে কাগজে নানা গেম খেলতাম আমরা। অবসরে তিনি আবৃত্তিও করতেন।”
১৯৭৩ সালে ছবিটি জার্মানীর বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বিয়ার পুরস্কার লাভের পর দেশের গ-ি পরিয়ে বিদেশেও আলোচনায় আসে। পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে সৌমিত্র ও ববিতাও অংশ নিয়েছিলেন।
‘অশনি সংকেত’ সাফল্য পাওয়ার পর ঢাকার ফিরে একের পর এক চলচ্চিত্রে ডাক পেতে থাকেন ববিতা; ক্রমেই হয়ে উঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ নায়িকা।
এরপর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও ছবিতে কাজ করলেও যোগাযোগ ছিল।
“যখন কলকাতায় গিয়েছি তখনই ওনাকে ফোনে ধরেছি, দাদা কেমন আছেন। উনি বলতেন, ‘তুমি নাকি অনেক বিখ্যাত হয়ে গেছে বাংলাদেশে। অনেক ছবি করছ। পুরস্কার পাচ্ছো। অশনি সংকেতের সময় বুঝতে পেরেছি। তুমি অনেক বড় শিল্পী হবে’। এই কথাগুলো ওনার মুখে শুনে আমার কী যে ভালো লাগত।”
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ঢাকায় এলেও কয়েকবার দেখা হয়েছে তাদের।
“ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। একদম বাচ্চা মেয়ের মতো অনুষ্ঠানের দরজা দিয়ে ঢুকেই সৌমিত্র দাকে বললাম, দাদা আপনি কেমন আছেন, কতদিন দেখি না আপনাকে। তার সঙ্গে দেখা হোক না না হোক। আমার হৃদয়ে ছিলেন ও আছেন। সেই বিষয়টিই সেইদিন অনুভব করেছিলাম।”
ববিতা বললেন, “সৌমিত্র দা বাংলা ছবির অভিভাবক, বিরাট বটবৃক্ষ। যার তলায় বর্তমান বাংলা ছবির জগৎ বিরাজ করছিল।
“গত একটি মাস ধরে আমি এতো উদ্বিগ্ন, চিন্তিত ছিলাম। এই বুঝি সৌমিত্র ভালো হয়ে যাবেন। কিন্তু শেষমেষ সেটা আর হলো না। ওনার মতো শিল্পীর মৃত্যু হয় না। তার জন্য শান্তি কামনা করছি। উনি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে ছিলেন, আছেন ও থাকবেন।”

Previous articleকরোনা মুক্ত হয়ে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য যশোর ফিরছেন
Next article‘বিশ্ব ক্রিকেটে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কোহলি’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here