এই বাচ্চাগুলো কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

26

“স্কুল একজন শিক্ষার্থীর বেসিক ফান্ডামেল্টাল তৈরি করে। তাদের ভিত্তি তৈরি হয় ওই বয়সেই। স্কুলের লম্বা একটা সময়ের কারণে তার লেখাপড়ার ভিত্তি যেমন তৈরি হয়, পাশাপাশি তার রুচি এবং মনন গঠনের ভিত্তিও তৈরি হয়ে যায়। স্কুলের পর কলেজজীবন চলে যায় দেখতে দেখতে। তখন সবাই দৌড়ের ওপর থাকে। খুবই স্বল্প সময় সেটা। তারপর শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। সেখানে আবার আরেকটা লম্বা সময় পাওয়া যায় নিজেকে তৈরি করার। কিন্তু স্কুলের কথা গোপন রেখে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যত কথাই বলা হোক, সেটা হবে অর্ধেক গল্প। বাকি অর্ধেক গল্প তার রয়ে গেছে স্কুলজীবনে”

জাকারিয়া স্বপন
বাংলাদেশের স্কুলগুলোর লেখাপড়ার অবস্থা আমার জানা ছিল না। এই বছর আমার মেয়ে যখন অষ্টম শ্রেণিতে উঠল, আমি একটু একটু করে তার বিষয়গুলো দেখতে শুরু করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে পুশ করতে খুব অপছন্দ করি। সেটা নিজের মেয়ের বেলাতেও প্রযোজ্য। তাকে তার রাস্তা খুঁজে নিতে হবে- এটাই তার জন্য মেসেজ।
তবে আমার নিজের বোঝার জন্য তার কিছু কিছু বিষয় দেখতে শুরু করি। তাকে নিয়মিত পড়ানো নয়, শুধু কী পড়ছে, কেমন শিখছে- এটা বোঝার জন্য যতটুকু করা প্রয়োজন। তার লেখাপড়া তাকেই করতে হবে। কোথাও আটকে গেলে, সেটা তাকেই সমাধান করতে হবে। কারণ, এটা তার শেখার বয়স- পারফর্ম করার বয়স নয়। আমি তাকে তার স্কুলের ওপর ছেড়ে দিলাম। এবং তার স্কুলটির কথা যেই শোনে, তাদের সবারই মতামত হলো- এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো স্কুলগুলোর একটি। যেহেতু পাবলিক পারসেপশন এত উঁচু, আমরা ধরে নিতে পারি, এটা হাতে গোনা কিছু স্কুলের মধ্যেই পড়ে।
ক্লাস সেভেন পর্যন্ত আমি কিছুই দেখিনি। আমি জানি মেয়েটার ব্রেইন শার্প। সে তার মতো বিষয়গুলো ধরতে পারবে- সেটা আমি নিশ্চিত। অন্য মা-বাবা যেমন সারাক্ষণ বাচ্চার হোমওয়ার্ক পরীক্ষা করছে- সেটা আমি করছি না। আমি তাকে তার মতো ছেড়ে দিয়েছি। দেখি সে কী করে!
কিন্তু অষ্টম শ্রেণিতে যখন টুকটাক খোঁজ নিতে গেলাম, তখন তার অবস্থা দেখে তো আমার মাথায় হাত! বলে কী! প্রতিটি বিষয়ের শর্টকাট শিখিয়ে দিচ্ছে, একটা বিষয়েরও গভীরে যায়নি; এবং বিষয়গুলো কীভাবে কাজ করে- তার বেসিকগুলো পরিষ্কার করে বোঝেনি। সেটা গণিত বলি, পদার্থবিদ্যা বলি, রসায়ন কিংবা জীববিদ্যা! সে শিখেছে – এটাকে এর সঙ্গে এভাবে যোগ করলে উত্তরটা পাওয়া যাবে। কিন্তু সেটার ফান্ডামেল্টাল বিষয়টি শেখেনি। আর আমি চেয়েছিলাম ঠিক উল্টো। আমি চেয়েছিলাম ও পরীক্ষায় ফেল করুক, কিন্তু ফান্ডামেল্টাল বিষয়টা যেন পানির মতো পরিষ্কার ধারণা থাকে। আমি যেটাই জিজ্ঞেস করি, সে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। এবং তার চেহারা দেখে আমি বুঝতে পারি, এমন প্রশ্ন সে এই প্রথম শুনছে!
মেয়েটিকে নিয়ে আমি কী করি? তাকে কোচিংয়ে দেব? বাসায় আলাদা করে টিউটর রেখে দেব? কিন্তু তারাও তো কিছু টেকনিক শিখিয়ে দেবে শুধু। আমি চাই না, সে এখুনি টেকনিক শিখুক। আমি চাই, স্কুলজীবনে সে ফান্ডামেল্টাল বিষয় শিখবে। আলো কীভাবে কাজ করে, কাঠের ভেতর দিয়ে কেন তাপ পরিবাহিত হয় না, অক্সিজেন কীভাবে তৈরি হয়, গাছের জীবন আছে, কীভাবে বুঝতে পারবে- এমন যে বিষয়টাই পড়বে, সেটার বেসিক জিনিসটুকু শিখবে।
আমি আশাহত হয়ে চুপ মেরে থাকি। এর থেকে উত্তরণের পথ কী! এই সমস্যার সমাধান কী! নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া। বেসিক শক্ত না হলে, কিছু টেকনিক শিখে সে কতদূর যাবে? নিচের ক্লাসগুলোতে ভালো করবে। একটু ওপরে উঠলেই তো আটকে যাবে! তাহলে কি আমাকেই বসতে হবে পড়াতে!

দুই.
আমি যখন কাউকে চাকরির জন্য হায়ার করি, আমি তার রিজুমিতে প্রথমেই দেখি সে কোন স্কুলে লেখাপড়া করেছে। এটা ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই করি। মাঝে মাঝে খেয়াল করলাম, অনেক রিজুমিতে স্কুলের নাম থাকে না। তাদের আমি জিজ্ঞেস করি, ‘তোমরা স্কুলের নাম লিখছো না কেন?’
উত্তরে বেশি ভাগ প্রার্থীই বলে, তারা রিজুমি লেখা শিখেছে ক্যারিয়ার কাউন্সিল থেকে। তারা নাকি স্কুলের নাম লিখতে না করেছে!
আমি অবাক হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। মনে মনে বলি, কোন ‘বেকুব’ এদের এই রিজুমি লেখা শিখিয়েছে! রিজুমি মানুষ লেখেই তার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়ার জন্য। স্কুলের তথ্য ছাড়া সেটা বাংলাদেশে জানা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশের বেশি ভাগ মানুষ রিজুমিতে মিথ্যা তথ্য দেয়, সেটাও সত্যি। তাই তাদের কাছে হয়তো স্কুলের তথ্য গোপন করে যাওয়াটাই ভালো কাজ! যেকোনো উপায়েই হোক, চাকরিটা পেলেই হলো!
স্কুল একজন শিক্ষার্থীর বেসিক ফান্ডামেল্টাল তৈরি করে। তাদের ভিত্তি তৈরি হয় ওই বয়সেই। স্কুলের লম্বা একটা সময়ের কারণে তার লেখাপড়ার ভিত্তি যেমন তৈরি হয়, পাশাপাশি তার রুচি এবং মনন গঠনের ভিত্তিও তৈরি হয়ে যায়। স্কুলের পর কলেজজীবন চলে যায় দেখতে দেখতে। তখন সবাই দৌড়ের ওপর থাকে। খুবই স্বল্প সময় সেটা। তারপর শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। সেখানে আবার আরেকটা লম্বা সময় পাওয়া যায় নিজেকে তৈরি করার। কিন্তু স্কুলের কথা গোপন রেখে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যত কথাই বলা হোক, সেটা হবে অর্ধেক গল্প। বাকি অর্ধেক গল্প তার রয়ে গেছে স্কুলজীবনে।
আমি প্রত্যেক মানুষের স্কুলজীবনের গল্পটা জানতে চাই। কোন শিক্ষকের সাহচর্যে সে এসেছিল, কোন সহপাঠীর দ্বারা সে প্রভাবিত হয়েছে, কোন ভোরের আলো তাকে মুগ্ধ করেছে, কোন শিশির ফোঁটা তার মুখে হাসি ফুটিয়েছে, কোন বৃষ্টি তাকে কাঁকভেজা করেছে, কোন শালিক তাকে পথে নামিয়েছে! যার এই গল্প নেই, তার জীবনে অনেক কিছুই নেই। সে ক্যালকুলেটর চেপে জটিল ক্যালকুলাসের সমাধান করে দিতে পারবে, ভালো একজন এক্সিকিউটিভ হতে পারবে, কিন্তু প্রকৃত কোনো সমস্যার সমাধান তার মাথা থেকে আসবে না। কারণ, তার গভীর দৃষ্টি তৈরি হয়নি। সে ফর্মুলা শিখেছে, কিন্তু ফর্মুলাটা কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেটা খেয়াল করেনি।
একটি ভালো স্কুল একটি বাচ্চার ভেতরের দৃষ্টিটা খুলে দেবে। সূত্র মুখস্থ করার জন্য তো আমি বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাই না। আমি তাকে স্কুলে পাঠাই প্রকৃতি কীভাবে চলে, প্রকৃতির রহস্যটা কী, এগুলো কীভাবে কানেকটেড-এগুলোর যোগসূত্রটা ধরতে পারার ক্ষমতা তৈরির জন্য পাঠাই। আর সেখানেই আমাদের স্কুলগুলো ব্যর্থ হয়ে গেছে।

তিন.
আমার মেয়ের করুণ অবস্থা দেখে আমি অন্য স্কুলগুলোর খবর নিতে শুরু করি। যাকেই জিজ্ঞেস করি, সেই অভিভাবকদের চোখ ছানাবড়া। তাদের কথা হলো, ‘আপনার মেয়ে যেই স্কুলে পড়ে সেখানে ভর্তি করাতে পারা হলো আমাদের স্বপ্ন। আর আপনি কিনা তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন?’
তাদের পাল্টা প্রশ্ন শুনে, আমি লজ্জা পেয়ে যাই। হয়তো সমস্যাটা আমারই। নইলে এতগুলো অভিভাবক- সবাই একই কথা বলছে কেন?
পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি- সবাই তার বাচ্চার জন্য কোচিং নয়তো টিউটর রেখে দিয়েছে। অর্থাৎ আপনি স্কুলেও পাঠাবেন এবং তারপর আবার কোচিংয়ে দেবেন। যারা কোচিং কিংবা টিউটর রেখে পড়ায়, তাদের স্কুল নিয়ে ভাবতে হয় না। পরীক্ষার ফল নিয়েও ভাবতে হয় না। আমাদের অভিভাবকরা ফল নিয়ে বেশি চিন্তিত। তার বাচ্চাটা আসলেই কিছু শিখল কি না- সেটা খুব কম অভিভাবকই ভাবেন।
অবস্থা বেগতিক দেখে, দেশের বাইরে খোঁজ নিতে শুরু করি। অন্য দেশে এই বয়সের বাচ্চারা কী শেখে, কীভাবে শেখে, কতটা শেখে। সিঙ্গাপুর, জাপান, মালয়েশিয়া, ভারত, চীন, ইউরোপ, ইংল্যান্ড, আমেরিকা! ওই বাচ্চাগুলো কী শিখছে? ওই দেশগুলো তাদের বাচ্চাগুলোকে কীভাবে তৈরি করছে?
আমার গবেষণা এখনো শেষ হয়নি। ভাবছি একবার ফিনল্যান্ড যাব তাদের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাটা দেখার জন্য। কিন্তু যতটুকু এখন পর্যন্ত চারপাশ থেকে দেখলাম, তাতেই আমার চোখ চরকগাছ। পার্থক্য অনেক- ফারাক বিশাল। আমাদের দেশের হাতে গোনা কিছু ছেলেমেয়ে হয়তো তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে। তবু অনেক কষ্ট করে, মূলত বই পড়ে। কিন্তু উন্নত দেশগুলো যেভাবে তাদের সন্তানদেও তৈরি করছে, তাদের গড় মেধা আমাদের থেকে অনেক অনেক ওপরে!
চোখ বন্ধ করে একটু দেখার চেষ্টা করলাম! আমাদের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী স্কুলে পড়ছে। তার শতকরা কত ভাগ আন্তর্জাতিক মানের? তাদের কতজন ভারতের ছেলেমেয়ের সঙ্গে পেরে উঠবে? কতজন সিঙ্গাপুর, নয়তো জাপানের পরবর্তী জেনারেশনের সঙ্গে পেরে উঠবে? কতজন ইউরোপ নয়তো আমেরিকার বাচ্চাগুলোর সঙ্গে পেরে উঠবে?

চার.
বাংলাদেশের ১০ কোটির মতো মানুষের বয়স ৩০-এর নিচে। ৪ কোটির মতো ছাত্রছাত্রী স্কুল-মাদ্রাসায় পড়ে। পৃথিবীর অনেক দেশের জনসংখ্যাও এত নেই। বিশাল একটি তরুণ গোষ্ঠী আমরা পেয়ে গেছি। কিন্তু আজ থেকে ২০ বছর পর, কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তারা? এই বিশ্ব কীভাবে তাদের গ্রহণ করবে? কিংবা তারাই বা নিজেকে কীভাবে ফিট করবে?
এই চিন্তায় কিছুদিন ঠিকমতো ঘুমাতে পারলাম না। দরিদ্র স্কুলগুলোর কথা বাদই দিলাম, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত স্কুলগুলোর বাচ্চাগুলোও কি আসলে এই অতি দ্রুত গতিতে পরিবর্তন হয়ে যাওয়া পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে? আমি নিশ্চিত প্রতিবছর কয়েক’শ ছেলেমেয়ে তো অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের জন্য তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সেটা যে কয়েক হাজার নয়, সেটা আমি নিশ্চিত।
তার ওপর আবার কথা আছে। যারা বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের বাচ্চাগুলোকে তৈরি করছেন, তাদের একটা বিশাল অংশ আবার এই দেশের জন্য তৈরি করছেন না। তারা তৈরিই হচ্ছেন বাইরের দেশের জন্য। এই দেশ গাণিতিক অর্থে কত হাজার মানুষ প্রতিবছর তৈরি করে আন্তর্জাতিক মানের, তা নির্ণয়ের সময় আরো আগেই পেরিয়ে গেছে। সেই সংখ্যা খুব বেশি হবার নয়। অথচ মানুষ ছাড়া আমাদের আর আছেটা কি?
এই যে কোটি কোটি মানুষ, তারা কি শুধুই কম বেতনের শ্রমিক হবে? এটাই কি আমাদের টার্গেট?

পাঁচ.
আমি আগেই বলেছি, আমাদের হাতে সময় আছে আর মাত্র ২০ বছর। আর এর ভেতর যদি আমরা একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে চাই, তাহলে সেটা কোন দেশের কাছাকাছি হতে পারে? বর্তমানে অনেক উন্নত দেশ আছে। কাদের মতো হব আমরা? সিঙ্গাপুর? মালয়েশিয়া? চীন? জাপান? কোরিয়া? নরওয়ে? সুইডেন? নাকি কানাডা নয়তো যুক্তরাষ্ট্র-কোনো না কোনো একটা দেশের কাছাকাছি তো আমরা যাব? সেই দেশটা কোনটি? তাহলে একটু তাকিয়ে দেখলে হয়, সেই দেশের মানুষগুলো এখন কী শিখছে, আর ২০ বছর পর তারা কোথায় থাকবে?
গত ১০০ বছরের আগের বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করলে, আমরা অনেকটা এগিয়েছি। কিন্তু এই ফাঁকে অন্যরা যে আরো বেশি দূর চলে গেছে? এই গ্যাপ পূরণ হবে কীভাবে? এখন থেকে ২০ বছর পর নরওয়ের একদল তরুণ যা নিয়ে কথা বলবে, যা নিয়ে কাজ করবে-সেটা বোঝার মতো মানুষ আমাদের তখন যথেষ্ট থাকবে তো? এই প্রশ্নগুলো আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে।
এই দূরত্ব যদি আগামী ২০ বছরের মধ্যে কমিয়ে আনতে হয়, তাহলে এখুনি দুটি কাজ করা যেতে পারে।

ক) সারা দেশে প্রতিবছর অন্তত ১ লাখ ছেলেমেয়েকে আন্তর্জাতিক মানে তৈরি করার পদক্ষেপ নেয়া।

খ) অন্তত ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে নেয়ার পদক্ষেপ।
ওপরের দুটি বিষয় অর্জন করতে এখন শুরু করলেও অন্তত ৫ বছর সময় লাগবে। কিন্তু সেটা না করলে, কখনই কাজটা হবে না।
বর্তমান সময়ের বাচ্চাগুলোর দিকে তাকিয়ে শুধু একটা কথাই বারবার মনে হচ্ছে- এরা হয়তো একসময় নাসার মতো প্রতিষ্ঠানেও কাজ করবে। প্রশ্ন শুধু, নভোচারী হয়ে নাকি ঝাড়–দার হয়ে? চাকরি তো দুজনই নাসাতেই করে!
লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ

Previous articleগাড়ি প্রস্তুত, ঘোড়া আস্তাবলে! : রাজধানীর সার্কুলার রুট
Next articleটুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ইনজুরিতে সাইফউদ্দিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here