যশোরে ট্রেন দুর্ঘটনা : সাত ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ শুরু

42

কল্যাণ রিপোর্ট : ‘রং সাইড দিয়ে এসে প্রতিরোধক দণ্ড ভেঙে রেললাইন অতিক্রমের চেষ্টা করায় যশোরে ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।’ দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়ালিউল হক এমনটাই বর্ণনা দেন।
শনিবার রাতে খুলনা-বেনাপোল মহাসড়কের মুড়লি রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রাকচালক নিহত ও হেলপার আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ট্রেনের ইঞ্জিন। দুর্ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত ট্রাকচালক আকবর আলী (৫০) চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে। আহত হেলপার অঙ্গন (৩৩) রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের খুলনা-বেনাপোল মহাসড়কের মুড়লি রেলক্রসিংয়ে কয়লাবোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৭৩৭৬) রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে।
এ সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। ট্রেনটি ট্রাকটিকে প্রায় তিনশ গজ ঠেলে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হেলপার আহত হন। তাকে গুরুতর অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়ালিউল হক জানান, মুড়লি গেটের গেটকিপার যথাসময়ে প্রতিরোধক দণ্ড নামিয়েছিল। এরপর সে সবুজ আলো জ্বালিয়ে যাওয়ার জন্য সংকেত দেয়। যেহেতু এটি মহাসড়ক, ব্যারিয়ার নামানো থাকায় অন্যান্য গাড়িগুলো রাইট সাইডে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
কিন্তু দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি রং সাইড দিয়ে ব্যারিয়ার ভেঙে লাইনের ওপর উঠে পড়ে। এ সময় ট্রাকটির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে গেটকিপার ট্রেনের উদ্দেশ্যে লাল আলো জ্বালিয়ে থামানোর সংকেত দেন। কিন্তু এরই মধ্যে ট্রেনটি হাজারিগেট পার হয়ে যায় এবং এর গতি ছিল ৬৫ কিলোমিটারের বেশি।
ফলে লোকোমাস্টার (চালক) চেষ্টা করেও ট্রেন থামিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে পারেননি। হার্ডব্রেক করলে ট্রেনের যাত্রীদের দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এদিকে দুর্ঘটনার পর রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টা খুলনা ও যশোরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পৌনে দু’টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এছাড়া দুর্ঘটনার পর খুলনা বা বেনাপোলে যাতায়াতকারী বাস, ট্রাক বিকল্প পথে যাতায়াত করছিল।
যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি মুড়লি পৌঁছালে ক্রসিংয়ে ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ট্রেনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Previous articleশেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলা : সাক্ষ্য দিলেন আরও ৫ জন
Next articleনকল ওষুধ বিক্রির ঘটনায় দুজন আটক, যশোরে ওষুধের দোকান বন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here