ঝিকরগাছার শিত্তরদাহ ফাঁড়ির ইনচার্জ এর সহযেগীতায় বাড়ী ঘর ভাংচূড়

63

বিশেষ প্রতিনিধি : ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের কানারালী গ্রামে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শিত্তরদাহ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমানের ইন্ধনে বসতবাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছে সন্ত্রাসী আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে আব্দুর রব।
জানাগেছে, উপজেলার কানাইরালী গ্রামের আমিন জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের শরিকানা জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। উভয় পক্ষ একত্রিত হয়ে বিরোধীয় ওই সম্পত্তি মাপামাপি করে দেখাগেছে, আমিন জাহাঙ্গীর হোসেনের বসতবাড়ির কিছু অংশ আব্দুর রাজ্জাকের ভাগে পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিশী-মিমাংসার মাধ্যমে জাহাঙ্গীর কে জায়গা ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক জাহাঙ্গীর ইতিমধ্যে পাকা বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করলেও সম্পন্ন হয়নি। সে কারনে ঘর নির্মান কাজ দেরী হওয়ায় আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে আব্দুর রব শিত্তরদাহ পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করে।
অভিযোগ মোতাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআই সোহেল রানা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে। এ সময় জাহাঙ্গীর ঘর ভাঙ্গার জন্য দুই মাস সময় নেয়। কিন্তু দুই মাস পার হতে না হতেই আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে আব্দুর রব কোন আলোচনা ছাড়াই রোববার সকালে লোকজন নিয়ে জাহাঙ্গীরের বসতঘর ভেঙ্গে দিয়েছে।
এ সময় জাহাঙ্গীর স্থানীয় শিত্তরদাহ ফাঁড়িতে বারবার ফোন দিলেও ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান ও এএসআই সোহেল রানা তাদেরকে কোন সহযোগিতা দেয়নি, বরং নিরব থেকেছেন। যে কারনে সন্ত্রাসী আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে আব্দুর রব বাধাহীণভাবে বসতঘর ও ঘরে থাকা আসবাপত্র ভেঙ্গে দিয়েছে। বসতঘর ভাঙ্গার সময় সিএস ম্যাপ, জমির দলিল, মূল্যবান বই ও কাগজপত্র, নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার সহ কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তিনি নতুন বাড়িঘর নির্মান কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু এখনো নতুন বাড়িতে বসবাস করার উপযোগী হয়নি। এরই মাধ্যে তারা জোরপূর্বক ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুর রব জানান, জমি মাপযোগ হয়েছে ৩/৪ বছর হয়েছে। কিন্তু বারবার বলা সর্ত্তেও তিনি ইচ্ছে করে আমাদের জায়গা ছাড়ছে না। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের বলেছি। কোন কাজ না হওয়ায় শিত্তরদাহ পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেছি। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআই সোহেল রানা জাহাঙ্গীরের সাথে কথা বলেছে। সে বলেছে, আমার কাছে টাকা নেই তাই ঘর ভাঙ্গতে পারছি না। পারলে ওরা ভেঙ্গে ফেলুক। তাই আমরা ভেঙ্গে দিয়েছি।
এএসআই সোহেল রানা জানান, আমি ঘরভাঙ্গার কথা বলেনি। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আমি কারও ঘরভাঙ্গার কথা বলতে পারি না। আর কোর্টের অর্ডার ছাড়া কেউ ঘর ভাঙ্গতে পারবে না। অর্থে ম্যানেজ হওয়া শিত্তরদাহ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান এ বিষয় কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তবে ঘরবাড়ি ভাঙ্গার বিষয় কোন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান তিনি। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত ঝিকরগাছা থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী আমিন জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here