বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় দুই বাংলাদেশি

21

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিবিসি ২০২০ সালের জন্য বিশ্বজুড়ে ১০০ জন অনুপ্রেরণামূলক এবং প্রভাবশালী নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন বাংলাদেশের রিনা আক্তার ও রিমা সুলতানা রিমু।
বিবিসি বলছে, এবার ১০০ নারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা হলো যারা পরিবর্তন আনতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং মহামারির এই কঠিন সময়েও তাদের কাজের মাধ্যমে নিজেদের আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন।
তালিকায় আছেন ফিনল্যান্ডের কোয়ালিশন সরকারের প্রধান স্যান্না ম্যারিন। ওই সরকারের প্রতিটি সদস্য নারী।
এ ছাড়া রয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাস টিকা গবেষণা দলের প্রধান সারাহ গিলবার্ট। পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সানিয়া নিশতার, ভারতের নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া ৮২ বছর বয়সী বিলকিস বানু।
বাংলাদেশের রিনা আক্তার সম্পর্কে বিবিসির বর্ণনায় বলা হয়েছে, মাত্র আট বছর বয়সে তার এক আত্মীয় তাকে পতিতালয়ে বিক্রি করে দিয়েছিল। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন ও পরে যৌনকর্মীতে পরিণত হন। তবে এখন তিনি অন্য যৌনকর্মীদের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করছেন।

করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে রিনা ও তার দল ঢাকায় প্রতি সপ্তাহে অন্তত চার শ যৌনকর্মীকে খাবার সরবরাহ করেছেন। এসব যৌনকর্মী মহামারির কারণে চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থায় পড়েন।
রিনা আক্তার বিবিসিকে বলেছেন, ‘লোকজন আমাদের পেশাকে ছোট করে দেখে কিন্তু আমরা এটি করি খাবার কেনার জন্য। আমি চেষ্টা করছি যাতে এই পেশার কেউ না খেয়ে থাকে এবং তাদের বাচ্চাদের যেন এ কাজ করতে না হয়।’
অন্যদিকে রিমা সুলতানা রিমু একজন শিক্ষক। তিনি কক্সবাজারভিত্তিক ইয়াং উইমেন লিডার্স ফর পিসের একজন সদস্য। এ কর্মসূচিটি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব উইমেন পিসবিল্ডার্স-এর অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য সংঘাতসংকুল দেশগুলো থেকে আসা তরুণ নারীদের ক্ষমতায়ন করা, যাতে করে তারা নেতৃত্ব দেয়া ও শান্তির এজেন্টে পরিণত হবেন।
রিমা তার মানবিক কর্মকা- পরিচালনা করেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিস্থিতি মোকাবিলায়। রোহিঙ্গা শরণার্থী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের যাদের শিক্ষার সুযোগ নেই, তাদের জন্য লিঙ্গ সংবেদনশীল ও বয়সভিত্তিক সাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তিনি।
রেডিও ব্রডকাস্ট ও থিয়েটার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও কাজ করেছেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে লিঙ্গসমতা আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ। অধিকার আদায়ের জন্য নারীর শক্তিতে আমি বিশ্বাস করি।’

মাহিরা খান : পাকিস্তানের অভিনেত্রী। তিনি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার। রং ফর্সাকারী ক্রিম প্রত্যাখ্যান করা মাহিরা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে সমর্থন করেন। তিনি সামাজিক সমস্যাসংক্রান্ত ইস্যুগুলোকে মোকাবিলা করতে এগুলো সিনেমা ও টিভিতে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী। তিনি জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন।
ড. সানিয়া নিশতার : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এই নারী মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং এমন আরো কিছু মাধ্যমে লাখ লাখ পাকিস্তানির জীবনমান উন্নত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন।
বিলকিস বানু : ৮২ বছর বয়সী ভারতের বিলকিস বানু বেশ আলোচনায় এসেছিলেন নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়ে। ভারতীয় সাংবাদিক ও লেখক রানা আইয়ুব শাহীনবাগের মুসলিমদের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়া এই নারীকে ‘প্রান্তজনের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এ ছাড়া ১০০ নারীর তালিকায় আরো যাদের নাম আছে তাদের মধ্যে আছেন ইথিওপিয়ার ফুটবলার লোজা আবেরা জেইনোর, সিয়েরা লিওনের মেয়র ইয়ভনে আকি সাভিয়্যের, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী সারাহ আল আমিরি, সিরিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা ওয়াদ আল কাতিয়াব, যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেত্রী জেন ফনডা এবং যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানী সারাহ গিলবার্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here