নাগালে করোনার টিকা! : ডিসেম্বরে বাংলাদেশেও প্রয়োগ শুরু হোক

16

সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত দুই হাজার ৪১৯ জন শনাক্ত হয়েছে। আগের ৮০ দিনের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ সংক্রমণ। এই অবস্থায় কিছুটা আশা জাগিয়েছে কয়েকটি কম্পানির টিকা। ধারণা করা হচ্ছে, ১১ বা ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে জনসাধারণের মধ্যে টিকা প্রদানের অভিযান শুরু হবে। এর আগেই টিকার প্রয়োগ শুরু হতে পারে যুক্তরাজ্যে। জার্মানি এবং রাশিয়াও ডিসেম্বরেই টিকার প্রয়োগ শুরু করতে পারে। বাংলাদেশে ডিসেম্বরের মধ্যে অনুমোদিত টিকা প্রাপ্তির বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। জোর চেষ্টা চলছে ডিসেম্বরেই টিকা হাতে পাওয়ার জন্য। অনুমোদিত টিকা না পাওয়া গেলেও কোনো কোনো টিকার ট্রায়াল যে ডিসেম্বরেই শুরু হতে যাচ্ছে, এটা প্রায় নিশ্চিত।
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকার তিন কোটি ডোজ পাওয়ার জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মা এবং বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি হয়েছে। সেরাম ইনস্টিটিউট ভারতে এই টিকার বাণিজ্যিক উৎপাদন করবে। কিন্তু ট্রায়ালের ফলাফল পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, টিকাটির কার্যকারিতা ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্নার টিকার সাফল্য দাবি করা হয়েছে ৯৫ শতাংশ। অক্সফোর্ডের গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশেষ কম্বিনেশনে তাদের টিকার কার্যকারিতাও প্রায় ৯০ শতাংশ। রাশিয়ার টিকার কার্যকারিতাও ৯০ শতাংশের বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অক্সফোর্ডের টিকাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হবে। কারণ ফাইজার ও মডার্নার টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হবে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা আমাদের জন্য খুব কঠিন হবে। এ দুটি টিকার দামও হবে অনেক বেশি, ৪০ ডলারের কাছাকাছি। অন্যদিকে অক্সফোর্ডের টিকার দাম পড়বে পাঁচ ডলারের মতো। সংরক্ষণ ও পরিবহন করা যাবে সাধারণ ফ্রিজিং টেম্পারেচারে। তা ছাড়া আশা করা হচ্ছে, ভারত ও বাংলাদেশে প্রায় একই সময়ে এই টিকার প্রয়োগ শুরু করা যাবে। তার পরও বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় অন্য টিকাগুলোর ট্রায়াল দ্রুত শুরু করা জরুরি। এতে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কোন টিকার কেমন কার্যকারিতা তা যেমন জানা যাবে, একইভাবে সেসব টিকা আগে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
জনপ্রতি দুই ডোজ করে টিকার প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশের লোকসংখ্যা ১৭ কোটি হলে টিকার ডোজ লাগবে ৩৪ কোটি। কোনো একক কম্পানির ওপর ভরসা করলে এই পরিমাণ টিকা পেতে অনেক সময় লেগে যাবে এবং টিকা প্রদানে বিলম্বের জন্য আমাদের অনেক মূল্য দিতে হবে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে টিকা আমদানিকেও উৎসাহিত করা যেতে পারে। যৌথ চুক্তিতে বাংলাদেশেও কোনো কোনো টিকা উৎপাদনের চেষ্টা চালাতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here