অনুভূতির বন্ধন

49

কাজী বর্ণ উত্তম

বন্ধন মানুষ নিজেই তৈরী করে
নিজের জন্য কখনো, কখনো অপরের জন্য,
সময়ে সময়ে বন্ধন থেকে বাঁচতে মুক্ত হতে চায় মানুষ
মানুষের স্বার্থঘটিত কারণে,
কাজটা সংঘাত মূলক কিন্তু কখনো অনিবার্য হয়ে ওঠে।
মুক্তির জন্য মানুষ কাজ করে চলে,
কখনো কখনো চঞ্চল অস্থির হয়ে উঠে,
কিন্তু বন্ধনটা তো বাস্তবতা,
তাকে ভাঙা সহজ নয়, তবু ভাঙতে হয়।
আর ওই ভাঙার চেষ্টার ভেতর দিয়ে
বন্ধনের যে চরিত্র সেটা পরিষ্কার ভাবে ফুটে ওঠে।
মানুষ মুক্তি চায়,কিন্তু মুক্তির প্রসঙ্গে-
চলে আসে খাঁচায় বন্দী মানুষের কথা,
মানুষের বেদনার যন্ত্রণার অপ্রিয় সত্যের কথা,
খাঁচার বদ্ধতা, কঠিনতম নিষ্ঠুরতার কথা।
মানুষের গাঁয়ের রং,গোত্র, সম্প্রদায় আর ধর্ম দিয়ে
মানুষ থেকে মানুষ কে বিচ্ছিন্ন করেই চলেছে।
মসনদে আসীন হওয়ার এ কালের তলোয়ারের নাম রাজনীতি – যা মানুষ থেকে মানুষ কে বিভক্ত করছে।
সম্পদ দিয়ে আমরা
মানুষ থেকে মানুষ কে শ্রেনীবিন্যাস করছি।
ভালোবাসার কোন রং নেই
তেমনি রক্তের রং শুধু ই লাল।
অনুভূতির জন্য রক্তের সম্পর্ক হওয়ার প্রয়োজন নেই
অনুভূতির জন্য একই সমাজ বা রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার প্রয়োজন নেই,
অনুভূতি হল এক আত্মার সাথে অন্য আত্মার মিলন বন্ধন।
যে অনুভূতির বন্ধনে আছে –
বিশুদ্ধ ভালোবাসার বন্ধন-
জ্ঞানের সকল দরজা জানালার উন্মুক্ত মিলন বন্ধন-
হিংসা লালসা মুক্ত নির্মোহ ভালোবাসার বন্ধন।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here