ইজিবাইক চালক রোহান হত্যার রহস্য উন্মোচন

0
15

কল্যাণ রিপোর্ট : নড়াইলে ইজিবাইকচালক রোহান হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উন্মোচন করেছে যশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। যশোর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক গাজী মাহ্বুবুর রহমান, এসআই স্নেহাশিস দাশসহ একটি টিম বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) মধ্যরাতে তিনজনকে গ্রেফতার করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে। নিহতের ইজিবাইক ও মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারদের শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) নড়াইল আদালতে নেয়া হলে তারা খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। বিচারক মোরশেদুল আলম তাদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতাররা হলেন- নড়াইল সদরের কোমরখালী গ্রামের আলীম মোল্লার ছেলে আল মামুন (১৯), এইক গ্রামের মনজুর শেখের ছেলে শাহিন শেখ (১৯) ও ভোয়াখালী গ্রামের রফিকের ছেলে মাসুদ রানা (৩১)।
গ্রেফতার আল মামুন ও মাসুদ রানার দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে নিহত আবু রোহানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং যশোর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন উপশহর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
যশোর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, নিহত আবু রোহান মোল্লা পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। অভিযুক্ত আল মামুন ও শাহিন শেখসহ তাদের সহযোগীরা ইজিবাইক ছিনতাইয়ের একটি সক্রিয় চক্র। গত ২৪ নভেম্বর রোহান মোল্লার ইজিবাইকটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তারা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিনই সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্তরা পাশের বামনহাট এলাকায় গানের অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়ার কথা বলে রোহানের ইজিবাইক ভাড়া করে রওনা দেন। তারা নড়াইল সদর থানার বামনহাট (মাইজপাড়া টু গাবতলা) পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছালে আল মামুন ও শাহিন শেখসহ তাদের সহযোগীরা ইজিবাইক চালক রোহান মোল্লাকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে মোবাইল ও ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার রাতেই অভিযুক্ত আল মামুন ও শাহিন শেখের সহযোগীরা ৮০ হাজার টাকায় ইজিবাইক বিক্রি করে দেন।
অভিযুক্ত মাসুদ রানা পিবিআইকে জানান- তিনি একজন পেশাগত চোরাইমাল ক্রয়কারী।
যশোর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, অভিযুক্তরা পরিকল্পনানুযায়ী হত্যাকা- সংঘটিত করেছে মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত আল মামুন, শাহিন শেখ ও মাসুদ রানাকে নড়াউল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY