বাগেরহাটে শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন

0
17

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে তিন মাস বয়সী এক শিশুকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় তিন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আাদালত। একই সাথে প্রত্যেক আসামিকে ৪৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ নূরে আলম আসামিদের উপস্থিতিতে এই আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশান বাড়িয়া এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় ওরফে রাহাত হাওলাদার (২১), জসিম হাওলাদারের ছেলে মহিউদ্দিন হাওলাদার (২২) ও আব্দুর রশিদ হাওলাদারের ছেলে ফয়জুল ইসলাম (২৯)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ভোর রাতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিশারীঘাটা গ্রামে বাবা-মায়ের পাশ থেকে তিন মাস বয়সী শিশু আব্দুল্লাহকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিনই শিশুটির বাবা সিরাজুল ইসলাম সোহাগ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নামে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে অপহরণের সময় চুরি করা আব্দুল্লাহর বাবার মুঠোফোন থেকে কল করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। পরে আসামিদের চাহিদা অনুযায়ী শিশুটির বাবা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলেও তারা শিশুটিকে ফেরত দেয়নি। এরপর ওই বছর ১৩ মার্চ হৃদয় ওরফে রাহাত হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হৃদয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৭ মার্চ দুপুরে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিশারীঘাটা এলাকার একটি রাস্তার পাশে থাকা টয়েলেটের মধ্য থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে হৃদয়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ৯ মার্চ আদালতে চার্জ গঠন করা হয়। ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তি তর্ক শেষে আদালত এই রায় দেন।
এই মামলার রাষ্ট্রীয় কৌসুলী রণজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। এছাড়া দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। আমরা এই রায়ে খুশি হয়েছি।
এদিকে মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম সোহাগও। তিনি বলেন, শুধু টাকার জন্য ওরা আমার সন্তানকে হত্যা করে। আমার সন্তানকে ফেরত পাওয়ার জন্য ওদের চাহিদা মত টাকাও দিয়েছিলাম। তারপরও ওদের মন গলেনি। শেষ পর্যন্ত আমার সন্তানকে নির্দয়ভাবে মেরে ফেলল ওরা। আমি এই রায়ে খুশি।
এই মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন শেখ সাহিবুর রহমান সাহেব ও এনামুল হোসেন।

LEAVE A REPLY