আমি ও আমার আমি…

85


তানিয়া খাতুন নিশি
দীর্ঘ অপেক্ষার পর এখন একটু একটু করে প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছি। আর আজকের এই প্রশান্তির নিঃশ্বাস নেয়ার পেছনে আমাকে যারা উৎসাহ দিয়েছেন অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমি পারব বলে আমাকে অভয় দিয়েছেন সেই সব মানুষগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধার আসনে আসীন আমার বস। আজ তাই আমার বসের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় আমি। দৈনিক কল্যাণ পত্রিকার সম্পাদক একরাম উদ-দৌলা আমার সেই শ্রদ্ধার সম্পদ।
আমি যখন যশোর সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স করতাম তখন দৈনিক কল্যাণে মহিলা কলেজ ক্যাম্পাস রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতাম।
পরীক্ষা শেষে হঠাৎ করে শ্বশুরবাড়ি সিরাজগঞ্জে এলাম বেড়াতে। এখানে আসার পর আমি বুঝতে পারলাম যে মা হতে চলছি। আর যেতে পারলাম না প্রিয় যশোরে। বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেলাম।
সাংবাদিকতার সেই দিনগুলোতে বস খুব উৎসাহ দিতেন, বলতেন নিশি তুই পারবি, তোর ভিতরে সেই ক্ষমতা আছে। তুই একদিন অনেক বড় হবি। তোকে ঢাকায় পাঠাবো ট্রেনিং করতে। আমার হাত ধরে কতজন বড় বড় সাংবাদিক হয়েছে। তুইও হবি, আমি দোয়া করি।


সব কিছু কেমন যেনো হঠাৎ ধমকে গেলো। আমি সিরাজগঞ্জ থেকে গেলাম। কিন্তু আমি তো কাজ করতে, ব্যস্ত থাকতে ভালবাসি। কি করি কিভাবে অলস সময় কাটায় এই ভাবনা থেকে শুরু করি বুটিকের কাজ। তারপর একদিন বসকে করে বললাম বস আমিতো বুটিক নিয়ে কাজ করছি। বস শুনে উৎফুল্ল হয়ে উঠে বললেন, কি বলিস তাই খুব ভালো কাজ করছিস তো নিশি। দেখেছিস আমি তোকে বলতাম না তুই থেমে থাকবি না তুই অনেক দূর যেতে পারবি তোর ভিতরে সেই ট্যালেন্ট আছে।
আজ শুধু বসের কথাই বললাম আমার এই ছোট্ট জীবনে আরো অনেক গুনী ব্যক্তির অবদান আছে। যারা আমাকে নতুন কিছু ভাবতে শেখায়, করতে শেখায় আমাকে সচেতন করেন, কাজ করার অনুপ্রেরণা প্রদান করেন।
আমি টাকার জন্য বুটিক ব্যবসা করিনা, করি আমার সময়টা ভালো কাজে ব্যয় করার জন্য। আমার স্বামী বলেন নিশি অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডা।
তাই সকলকে বলি কাজটাকে কেউ ছোট মনে করবেন না। কটু কথা বলবেন না যে লেখাপড়া শিখে কাপড়ের ব্যবসা করছে। আজ হয়তো আমি ছোট কাপড়ের ব্যবসায়ী। আবার ছোটই বা বলি কি করে আমার এখানে ২৫ জন মহিলা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। আরো অনেকে কাজের জন্য আসে। তারা বলে, নিশি আপা আমি কাজ করতে চাই, আমার সন্তানকে খরচ দিতে চাই। কেউ বলে স্বামী ভালো না, কষ্টে রাখে, কাজ করে হাত খরচ চালাতে চাই। আজ হয়তো তাদের সকলকে আমি কাজ দিতে পারছি না। হয়তো একদিন আল্লাহর রহমনে এদের সকলকে আমি কাজ দিতে পারব। হয়ে উঠতে পারব একজন সফল নারী। সফল ব্যবসায়ী। তাই সকলকে অনুরোধ করি কাজকে ছোট করবেন না ছোট কাজ করে বলে অসম্মান করবেন না। কেননা বিন্দু বিন্দু জল থেকেই সিন্ধুর উৎপত্তি।

Previous articleপরীমনি-সিয়াম জুটির ‘বিশ্বসুন্দরী’ আসছে ১১ ডিসেম্বর
Next articleযাবজ্জীবনে ৩০ বছর, রায়ে ‘আমৃত্যু কারাদণ্ড’ বললে বাকি জীবন জেলে : আপিল বিভাগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here