প্রবেশনে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামির দিন কাটছে ভালো কাজ করে

0
18
মাদক মামলার এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসান আলী সরদারের সময় কাটছে বাড়িতে সন্তানদের সাথে

কাজী শওকত হোসেন ময়না,সাতক্ষীর জেলা প্রতিনিধি : মাদক মামলার এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসান আলী সরদারের সময় কাটছে বাড়িতে। মা-বাবার সেবা, গাছ লাগানো ও মাদক বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে কাটছে তার সময়। সংশোধনের সুযোগ দিয়ে মাদক মামলায় ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছেন সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ইয়াসমিন নাহার।
যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের উদ্দেশ্যে হাসান আলী বলছেন, ‘মাদক ভালো জিনিস নয়, সমাজকে ক্ষতি করে। আপনারা ভালো হয়ে যান।’
হাসান আলী সরদার (৩৮) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালি ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের রজব আলী সরদারের ছেলে। সাত বছর আগে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ২০১৫ সালে তিন কেজি গাঁজাসহ সাতক্ষীরা সদরের খানপুর বাজার এলাকা থেকে র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন ছিলেন কারাগারে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় একটি মাদক মামলা।
গত ১০ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক ইয়াসমিন নাহার মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এক বছর সাজা প্রদান করে পাঁচটি শর্তে আসামিকে প্রবেশনে বাড়িতে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়।
শর্তগুলো হলো- কোনো প্রকার মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করবে না। কোনো খারাপ সঙ্গীর সঙ্গে মিশবে না। প্রবেশনকালীন সময়ে ১০টি গাছ রোপণ করতে হবে। পিতা-মাতার সেবা করতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে হবে। শত ভঙ্গ করলে আসামিকে আবারও যেতে হবে কারাগারে। শর্ত সঠিকভাবে পালন করলে এক বছরের সাজা বাতিল হয়ে যাবে।
প্রবেশনকালীন সময়ে হাসান আলী সরদার কি করছেন জানতে যাওয়া হয় তার বাড়িতে। দেখা যায়, বরই বাগানে কাজ করছেন তিনি। লাগিয়েছেন ১০টি মেহগনি গাছ।
তিনি জানান, আদালত যে শর্ত দিয়ে আমাকে বাড়িতে থাকার সুযোগ দিয়েছে সেই সকল শর্ত আমি মেনে চলছি। গাছ লাগিয়েছি, কুলের (বরই) বাগান করে ব্যবসা শুরু করেছি। মাদক বিরোধী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি। মা-বাবার সেবা করছি। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, ‘আমাকে দেখে শিখুন। মাদক ভালো জিনিস নয়, সমাজকে ক্ষতি করে। আপনারা ভালো হয়ে যান।’
হাসান আলীর বাবা রজব আলী সরদার বলেন, ‘হাসান এখন অনেক বদলে গেছে। মাঠে-ঘাটে কাজ করে। আমাদের খোঁজখবর নেয়, সেবাযতœ করে। এতে আমরা খুশি।’
মা আকলিমা খাতুন জানান, বাড়িতে গাছ লাগিয়েছে, ঘের করছে, কুলবাগান করেছে। আমাদের সেবাযতœ সব সময় করে। সন্তান যখন সেবা যতœ তো করবেই। বউ-বাচ্চারও সেবা করছে। আগের থেকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হুসাইন জানান, আদালতের শর্ত মেনে সে গাছ লাগানোসহ মাদক বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। সামাজিক মানুষদের সঙ্গে চলাফেরা করছে। হাসানের মতো যদি সকলেই মাদককে না বলে মাদক বিরোধী কর্মকা- শুরু করে তবে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল হবে।
মাদক মামলাটি পরিচালনাকারী আসামি পক্ষের আইনজীবী এটিএম ফখরুল আলম জানান, তিন কেজি গাঁজাসহ আটকের পর র‌্যাব সাতক্ষীরা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নম্বর জিআর নং ৪৩/১৫ (টিআর ২৯/১৬)। গত ১০ নভেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা করে আদালত।
তিনি বলেন, আদালত আসামিকে এক বছরের সাজা দিয়ে সংশোধনের জন্য বাড়িতে প্রবেশনে পাঠিয়েছেন। সেখানে পাঁচটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্ত ভঙ্গ করলে আসামিকে আবারও কারাগারে যেতে হবে। শর্ত মানলে, সাজা বাতিল হবে। তাছাড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তাকে তিন মাস পর পর একটি রিপোর্ট দাখিল করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
সাতক্ষীরা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা সুমনা শারমিন জানান, এখন ছেলেটি অনেক ভালো কাজ করছে। আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। সেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে নিয়মিত।

LEAVE A REPLY