বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার ঔদ্ধত্য যশোরে প্রতিবাদের ঝড়

0
14

কল্যাণ রিপোর্ট : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমারের ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার ঔদ্ধত্য দেখানোর প্রতিবাদে যশোরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
কর্মসূচি থেকে উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসাথে ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের প্রশ্রয় না দিয়ে তাদেরকে নিঃস্ক্রীয় করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মেধা ও মনন বিকাশে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা দূরকরণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ ডিসেম্বর ২০২০ যশোর বকুলতলাস্থ বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের সমানে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মসূচিতে সুরবিতান, উদীচী, বিবর্তন, চাঁদেরহাট, কিংশুক, তির্যক, শেকড়, সুরধুনী, পুনশ্চ, স্বরলিপি, সপ্তসুর, স্পন্দন, বাউলিয়া সংঘ, সুরনিকেতন, ভবেরহাট, লাল-সবুজ, উৎকর্ষ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, মহিলা পরিষদ, আইডিই, শারদাঞ্জলি ফোরাম, সনাতন বিদার্থী সংসদসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা ও কর্মীবৃন্দ অংশ নেন।
মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশে স্থাপিত নানা ভাস্বর্যের ছবি ও নানা শ্লোগান সম্বলিত পোস্টার- ব্যানার হাতে কর্মসূচিতে অংশ নেন সকলে।সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা কোতয়ালী মডেল থানার সামনে এসে শেষ হয়।বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, ইতিহাসের মহানায়ক। তাকে স্মরণ করতে, সম্মান জানাতে এই ভাস্কর্য স্থাপন করা হচ্ছে। সেই বঙ্গবন্ধু নিয়ে চক্রান্তু শুরু করেছে উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। এসব অপশক্তি শুক্রবার গভীর রাতে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে ভাস্কর্যের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে, এমনকি প্রধান প্রধান মুসলিম রাষ্ট্রেও ভাস্কর্য রয়েছে। কিন্তু ঢাকার ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্যকে ‘মূর্তি’ আখ্যা দিয়ে তা অপসারণের দাবি করছে কিছু প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী গোষ্ঠী। তাদের এ ধৃষ্টতাপূর্ণ দাবি মাহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। ‘কট্টর’ এসব মৌলবাদীদের এই আস্ফালনকে কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবেনা। সরকার মৌলবাদীদের কাছে আত্মসমর্পণ না করবে না এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কারণ এসব কট্টরপন্থী মৌলবাদীদের ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। পাকিস্তানী চিন্তা চেতনায় এসব ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে না পারলে দেশের অগ্রগতি বাঁধাগ্রস্ত হবে। বক্তারা অবিলম্বে এসব দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।বক্তব্য রাখেন সম্মিলিতি সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য সুকুমার দাস, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারু, সাবেক সভাপতি হারুণ অর রশিদ, বর্তমান সহসভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, প্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম। সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল, উদীচী যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, তির্যক যশোরের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজেদ রহমান বকুল, সুরবিতান সংগীত একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব বিশ্বাস, জেলা মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারদিনা রহমান এ্যানী। সঞ্চালনা করেন জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সানোয়ার আলম খান দুলু।
এদিকে, এদিন বিকেলে শহরের নেতাজি সুভাষ চন্দ্র সড়কে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলম। বক্তব্য রাখেন জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমারা রায়, জাসদ নেতা আবুল কায়েস, শরীফ আহমেদ বাপী, আহসান উল্লাহ ময়না, মতিউর রহমান, মাস্টার নূর ইসলাম, জাকির হোসেন প্রমুখ।
সন্ধ্যায় যশোর শহর আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে শহরের গাড়ীখানা রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

LEAVE A REPLY