স্বাগত ২০২১ : নতুন বছর পুরোনো চ্যালেঞ্জ

23

গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি বা ‘ইংরেজি বছরে’র ক্যালেন্ডার থেকে ২০২০ সালের বিদায় এবং ২০২১ সালের আগমন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় সবকিছু ইংরেজি তারিখ অনুযায়ী হয় বলে দেশ-বিদেশে প্রায় সর্বত্রই গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বছরের প্রথম দিনে আমরা দৈনিক কল্যাণ পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আমরা জানি, পুরোনো নানা চ্যালেঞ্জ নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বছর।
গতবছর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটি থেকে ক্ষণগণনার মাধ্যমে মুজিববর্ষের আয়োজন শুরু হয়। ১৭ মার্চ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ঘটা করে উদযাপন করা হবে-এমনই ছিল পরিকল্পনা। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ১৭ মার্চের সব অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে করা না যাওয়ায় মুজিববর্ষের মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার।
বাস্তবে চলতে গেলে পেছন ফিরতে হয়। করোনার বাইরে ২০২০ সালটি ছিল গতানুগতিক। রাজনীতি ছিল অচঞ্চল। উল্লেখ করার মতো ঘটনা ছিল-নির্বাহী আদেশে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। বছরের শেষ ভাগে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা ও ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নড়েচড়ে বসতে হয় ক্ষমতাসীনদের।
কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খানের মৃত্যু, কোভিড-১৯-এর ভুয়া পরীক্ষা সনদ দেওয়ার দায়ে সাহেদ করিম এবং চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ ও তাঁর স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীর গ্রেপ্তারসহ নানা ঘটনা বছরজুড়ে আলোচিত ছিল।
শেষে আলোচনায় উঠে আছে, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা-দুর্নীতি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদকে বিদায় নিতে হয়েছে।
৮ মার্চ প্রথম দেশে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্ত হন। ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরদিন দেশের মানুষ প্রথম ‘লকডাউন’ দেখতে পায় মাদারীপুরের শিবচরে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় সাধারণ ছুটি, শেষ হয় ৩০ মে। গণপরিবহন চলাচল শুরু হয় ১ জুন। ৬৬ দিন পর সচল হয় ঢাকা। তবে কোয়ারেন্টিন বা বিচ্ছিন্ন থাকা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, জীবাণুনাশকের ব্যবহার, বাসায় থেকে কাজ (হোম অফিস)-এগুলো নতুন স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে যায়। জীবাণুনাশক ও সুরক্ষাসামগ্রী কিনতে বাড়তি ব্যয় করতে হয় মানুষকে।
দেশে গত ৯ মাসে করোনাভাইরাসে মারা গেছেন সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখের বেশি। বিশ্বের ২১ দেশে করোনায় মারা যান আরও ২ হাজার ৩৩০ বাংলাদেশি।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইভেন্ট, ম্যাচ, টুর্নামেন্ট বাতিল হয়েছে। সম্ভাব্য তুমুল ব্যস্ততার বছরে দেশের সব খেলায়ই পড়েছে লম্বা বিরতি। ক্রিকেট দলের ১০টি টেস্ট খেলার কথা ছিল এবার। খেলেছে দুই টেস্ট। মাত্র তিনটি ওয়ানডে খেলতে পেরেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ব একাদশ ও অবশিষ্ট এশিয়া একাদশের দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়নি। প্রতিযাগিতামূলক ক্রিকেট আবার মাঠে গড়ায় অক্টোবরে প্রেসিডেন্টস কাপ দিয়ে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে হয়ে গেল পাঁচ দল নিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। ফুটবলে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মিলিয়ে তিনটি প্রতিযোগিতা পুরোপুরি শেষ হতে পেরেছে এ বছর। জানুয়ারিতে হওয়া বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে সেমি ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ দল। করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বাকি খেলাগুলোতেও।
করোনার কারণে অর্থনীতির গতি যেন অনেকটাই থমকে গেছে। মহামারির আঘাতে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও বিদায়ি বছরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর অর্থনীতির ক্ষতি সামাল দিতে সোয়া লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল সরকার। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ সামনে রেখে আর্থিক প্রণোদনার একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বছরজুড়েই বাজার ভুগিয়েছে ভোক্তাদের। এ বছর অনেক গুণীজনকে হারিয়েছি আমরা। তাঁদের শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়। ভালো নয়, মহামারির মন্দায় স্লান ২০২০ বিদায় নিলো। স্বাগত ২০২১। নতুন বছরে কভিডমুক্ত হোক,২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে চাই কার্যকর গণতন্ত্র, সুশাসন, দুর্নীতি দমন, মানবাধিকার এবং নারী-শিশুর অধিকার-সব ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাওয়া।বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাক-এটাই প্রত্যাশা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here