সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে’ বাদ মাশরাফি

19
মাশরাফিকে না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করছেন মিনহাজুল আবেদীন। পাশে হাবিবুল বাশার।

ক্রীড়া ডেস্ক : মাশরাফি বিন মুর্তজা বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে বোলার, সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক। দেশের ক্রিকেটের পালাবদলের নায়কও। এমন একজনকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ নয়। পরীক্ষাটা ভীষণ কঠিন ছিল, স্বীকার করলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। শেষ পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক কমিটি, সবাই মিলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য বাংলাদেশের ২৪ জনের প্রাথমিক দলে রাখা হয়নি মাশরাফিকে। চোটের কারণে তাকে দলের বাইরে থাকতে হয়েছে অনেকবারই। তবে ২০১১ বিশ্বকাপে ফিটনেসের কারণে বিতর্কিতভাবে দলে জায়গা না পাওয়ার ঘটনা ছাড়া দল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা তার এবারই প্রথম।
মিনহাজুল ও হাবিবুল বাশারের নির্বাচক কমিটিকেই নিতে হলো এমন সিদ্ধান্ত। দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে মিনহাজুল বললেন, সবার সঙ্গে অনেক আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“ওর প্রতি আমাদের সম্মান সবসময় আছে। দেশের জন্য ও অনেক কিছু দিয়েছে। এটা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তারপরও বাস্তবতা আমাদের মানতেই হবে। সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ২০২৩ বিশ্বকাপে ফোকাস করে আমরা, টিম ম্যানজমেন্ট সবাই সম্মিলিত ভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মাশরাফিকে বাদ দিতে হয়েছে।”
“টিম ম্যানেজমেন্ট, ফিটনেস ট্রেনার, বোলিং কোচ, সবাই সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখানে কারও কোনো দ্বিমত ছিল না।”
মিনহাজুল জানালেন, কোভিড বিরতির পর দেশের ক্রিকেটকে তারা নতুনভাবে সামনে এগিয়ে নিতে চান। ভবিষ্যতের সেই ভাবনায় ঠাঁই হয়নি মাশরাফির।
“এখানে অনেক ইস্যু এসেছে। টিম ম্যানেজমেন্ট আমাদেরকে অনেক কিছুর পরিকল্পনা দিয়েছে এবং আমরাও আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি। অনেক আলোচনার পরই সিদ্ধান্তে এসেছি এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য, দেশের ক্রিকেটের কথা চিন্তা করে, আগামীতে এগিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
“২০২১ সালে আমরা নতুনভাবে শুরু করছি। ১০ মাস পরে সবাই কিন্তু নতুন করে শুরু করছে। আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি এই মহামারীতে। সেই হিসেবে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে ভালো ক্রিকেট শুরু করতে চাই।”
মাশরাফিকে বাদ দেওয়ার আরেকটি কারণ হিসেবে তরুণদের জায়গা দেওয়া ও ২০২৩ বিশ্বকাপের ভাবনা মাথায় রাখার কথা বারবার উঠে এলো প্রধান নির্বাচকের কথায়।
“তরুণ ক্রিকেটারদের তো আমাদের জায়গা দিতে হবে। ওদের সুযোগ করে দিতে হবে। এই যে নতুনভাবে চলা, ওর জায়গায় যে খেলবে, তার জন্য অবশ্যই এটা অনেক বড় সুযোগ। একজন ক্রিকেটারকে আমরা গড়ে তুলব।”
“অবশ্যই ২০২৩ বিশ্বকাপে একটা ফোকাস আমরা রেখেছি। ২০২১ থেকেই প্রচুর ম্যাচ আছে আমাদের। টেস্ট ক্রিকেট বলেন, ওয়ানডে বলেন, সবকিছু মিলিয়েই। এজন্য টেস্ট আর ওয়ানডের পুলটা একটু বড় করা হয়েছে। এই ফোকাসটা রেখেই টিম ম্যানেজম্যান্টের যে পরিকল্পনা আছে, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছি আমরা।”
মিনহাজুল জানালেন, দল থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে মাশরাফির সঙ্গে তার ‘বিস্তারিত’ কথা হয়েছে এবং ‘ভুল বোঝাবুঝির’ কোনো সুযোগ তিনি দেখেন না।
গত মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ওয়ানডের অধিনায়কত্বকে বিদায় জানান মাশরাফি। সেই সময় ও পরে অনেকবার বলেছেন, খেলা চালিয়ে যেতে চান তিনি। জাতীয় দলে সুযোগ না হলেও খেলে যাবেন ঘরোয়া ক্রিকেট।
নেতৃত্ব ছাড়ার পর প্রথম সিরিজেই জায়গা হারালেন দলে। ৩৭ বছর বয়সে বাদ পড়ার পর আবার ফেরা বাংলাদেশের বাস্তবতায় কঠিন। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের কি তবে এখানেই সমাপ্তি? ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করলে ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হবে তাকে? মিনহাজুল উত্তর ছেড়ে দিলেন সময়ের হাতে।
“ও খেলা চালিয়ে যাবে, সেটা বলেছেই। এটা পুরোপুরি ওর ওপর। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবে, দেখা যাক কী হয়। এটা তো আমরা বলতে পারি না ওর পারফরম্যান্স কী হবে না হবে। তখন দেখা যাবে সেটা।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here