সতত উন্নয়ন

19

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। এই বার্তা একদিকে যেমন জাতির জন্য উদ্দীপনামূলক, তেমনি তা থেকে আগামীর দিকনির্দেশনাও মিলবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা নতুন করে শপথ নেই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আদর্শকে ধারণ করে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণকামী বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
এতে কোন সংশয় নেই যে, ২০০৯ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের যে মহাসড়ক বেয়ে ধাবিত হচ্ছে তা যেন কোনভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে না পারে, সেদিকে সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উন্নয়নের পথে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। কিছু অসাধু মানুষ নানা কৌশলে জনগণের সম্পদ কুক্ষিগত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি।
স্বাধীনতার পর জাতি প্রত্যক্ষ করেছে যে, একমাত্র আওযামী লীগ ব্যতীত যে দলই ক্ষমতায় এসেছে তারা নিজেদের আখের গোছানোতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। একপর্যায়ে বিশ্ববাসী দেখতে পেয়েছে, পরপর তিন বছর বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বে শীর্সস্থান দখল করেছে। সেই পঙ্কিলতা ও পতিত ভাবমূর্তি থেকে দেশকে টেনে তোলার বড় কাজটি করেছে আওয়ামী লীগ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশে বহু বছর সামরিক শাসন চলেছে। তৎকালীন শাসকরাও আত্মোন্নয়নেই সকল শক্তি নিয়োগ করেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশের উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের সুনাম যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি দেশের জননেত্রী হয়ে উঠেছেন বিশ্বনেতা। করোনাকালে উন্নত সব দেশ যেখানে অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে পারেনি, সেখানে নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশের অর্জন ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। সতত উন্নয়নই সরকারের মূলমন্ত্র।
প্রধানমন্ত্রী বিষময় বিগত বছরের পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এক গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে আমাদের বিগত ২০২০ সাল অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আমফান এবং উপর্যুপরি বন্যা আমাদের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আমরা সেসব ধকল দৃঢ়তার সঙ্গে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। আশার কথা বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও আমরা দ্রুত টিকা নিয়ে আসার সর্বাত্বক চেষ্টা করছি। টিকা আসার পর পরই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হবে।
ইতোপূর্বে আমাদের গ্রামগুলো বরাবরই উন্নয়ন ভাবনার বাইরে ছিল। আওয়ামী লীগই প্রথম গ্রামোন্নয়নকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে। ২০১৮ সালে দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে বিষটি অন্তর্ভুক্ত করে ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল একটি শোষণ-বঞ্চনামুক্ত গণতান্ত্রিক এবং অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের। যেখানে সকল ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-পেশার মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে। প্রতিটি মানুষ অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার সুযোগ পাবে। জাতির পরম সৌভাগ্য যে জাতির পিতার কন্যার নেতৃত্বে জাতির স্বপ্নপূরণের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here