৩ জনকে কোপানোর পরও গ্রেপ্তার হয়নি আসামিরা, এবার হত্যার হুমকি

0
3

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্য ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পরও পুলিশ এ সংক্রান্ত মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই সুযোগে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ওই সেনাসদ্যের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন দেবহাটার পুষ্পকাটী গ্রামের গোলাম মোস্তফা টুটুল। এসময় তার বোন মোশরেকা খাতুন ও নাসিম মাহমুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম মোস্তফা তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার বড়ভাই অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হায়দর আলী এবং তার পরিবারের সদস্যরা পৈর্তৃকসূত্রে পাওয়া বহেরা মৌজার ২ একর ৬৬ শতক জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। ২০১৭ সালে আলীপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল নামের এক ব্যক্তি ২৫-৩০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হায়দর আলী আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত এই মামলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। মামলা এখনও চলমান রয়েছে। এদিকে মোস্তাফিজুর রহমান বকুল জমি দখলের জন্য তাদেরকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিতে থাকে।
গোলাম মোস্তফা বলেন, গত ৮ জানুয়ারি সাবেক সেনা সদস্য হায়দর আলী, তার স্ত্রী শিরিনা হায়দর, ভাই গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী সোনিয়া পারভিন এবং শিশু শাফিন মোস্তাকিমসহ কয়েকজন ওই জমিতে অবস্থান করছিলেন। এসময় মোস্তাফিজুর রহমান বকুল, তার ভাই বাবু, মাসুদ, তাদের সহযোগী জাহাঙ্গীর হোসেন, জাহাঙ্গীর, পুষ্পকাটীর জসিম সরদার, আব্দুর রহিম, আব্দুর রকিব, মুজিবর রহমান ও জিয়ারুলসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে হায়দর আলী ও তার স্ত্রী শিরিনা হায়দর এবং গোলাম মোস্তফার স্ত্রী সোনিয়া গুরুতর জখম হন। তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখান থেকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় দেবহাটা থানায় গত ১০ জানুয়ারি একটি মামলা করা হয় (মামলা নং-০৩)। মামলার খবর পেয়ে স্থানীয় রব্বানী মেম্বার ও বকুলসহ তাদের সহযোগীরা সেনাসদস্য পরিবারকে নতুন করে হত্যার হুমকি দিতে শুরু করেছে। গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা এলাকায় মহড়া দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনা নিয়ে পুলিশকে জানালেও এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন তারা পরিবারের সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবিতে পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

LEAVE A REPLY