করোনার টিকায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই কম ও কিছু উত্তর

0
9

“টিকা নেয়ার পর মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া বা এনাফাইলেক্সিস কিন্তু শুধু করোনার টিকার বেলাতেই দেখা যাচ্ছে তা নয়। বিভিন্ন সময়ের সিডিসির রিপোর্ট থেকে দেখা যায় যে জলাতঙ্কের ও ফ্লুর টিকা নেয়ার পরও কারো কারো এমন হয়েছিল। কিন্তু কেন এমন হয় যে টিকা নেয়ার পর কারো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় আর কারো হয় না? কারো-বা আবার এনাফাইলেক্সিসের মতো মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয়। এর উত্তর হচ্ছে যে সব মানুষের শরীর এক রকম নয়। কেউ কেউ অন্যদের চেয়ে ভিন্নভাবে কোনো উদ্দীপকে প্রতিক্রিয়া দেখায়”

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক
পৃথিবীর অনেক দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ টিকা নিতে ভিড় করলেও এখনো প্রায় সব দেশেই টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান বেশ কিছু মানুষ আছেন, যারা টিকা নিতে আগ্রহী নন। গত মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বর ২০২০ যুক্তরাষ্ট্রের কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন তাদের এক জনমত জরিপে দেখেছে যে ২৭ শতাংশ মানুষ টিকা নেয়ার ব্যাপারে এখনো দ্বিধাগ্রস্ত। তবে নভেম্বরের আগে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের জরিপগুলোতে এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ ছিল। সে হিসাবে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। অন্যান্য দেশের মানুষের মনোভাবও অনেকটা এ রকমই। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।
তবে এখন পর্যন্ত যে টিকাগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে, সেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ মানুষ নেয়ার পর দেখা যাচ্ছে এতটা দ্বিধা বা ভয়ের কোনো কারণ নেই। যারা প্রথম জনগণের মধ্যে এই টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে, ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সেই অতি বিখ্যাত সংস্থা যুক্তরাজ্যের মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথ প্রোডাক্টস রেগুলেটরি অথরিটি (এমএইচআরএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) উভয়ই সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানিয়েছিল যে এসব টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে তাদের কোনো সংশয় নেই। তারা তাই এগুলোকে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত কোনো টিকাই একেবারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত নয়। কিছু না কিছু সমস্যা সব টিকারই আছে। কিন্তু এখন যেহেতু মহামারি তার রুদ্ররূপে আবির্ভূত হয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তাই এখন হাতের কাছে যে টিকা আছে তা দিয়েই আমাদের এর মুখোমুখি হতে হবে।
এই টিকা বর্তমানে প্রচলিত অনেক টিকার চেয়েই উন্নত মানের। যেমন সারা পৃথিবীতে বিপুল জনপ্রিয় ফ্লুর টিকা, যা প্রতিবছর একবার নিতে হয়, তা সর্বোচ্চ মাত্র ৬০ শতাংশ কার্যকর। কিন্তু তারপরও মানুষ বিকল্প না থাকায় তা নিচ্ছে। বাচ্চাদের সুরক্ষার জন্য আমরা যেসব টিকা ব্যবহার করি, সেগুলোর কার্যকারিতাও সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ। এগুলোও আমরা আরো ভালো বিকল্পের অভাবে আমাদের বাচ্চাদের দিচ্ছি। সেই তুলনায় ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না কিংবা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকা এবং গামালিয়া রিসার্চের আবিষ্কৃত করোনার টিকাগুলোর কার্যকারিতা ৯০ শতাংশ থেকে ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কেবল গণচীনের সিনোভ্যাক কোম্পানির টিকার বেলায় অতি সম্প্রতি (মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি ২০২১) ব্রাজিলে পরিচালিত সর্বশেষ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এর কার্যকারিতা ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ দেখা গেছে, যদিও এর আগের ফলাফলগুলোতে তা বেশি বলে জানা গিয়েছিল। তবে এই ফলাফলের পরেও এই টিকা ব্যবহারের জন্য জরুরি রেগুলেটরি অনুমোদন পেতে অসুবিধা হবে না, কারণ তার জন্য ৫০ শতাংশ কার্যকারিতা থাকলেই চলে। যুক্তরাষ্ট্রও গত জুলাই ও আগস্টে বলেছিল যে, কোনো টিকা ৫০ শতাংশ কার্যকর হলেও তাদের এফডিএ তার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেবে। কারণ সেই একটাই- এর চেয়ে ভালো বিকল্পের অভাব। এই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার টিকাগুলোর কার্যকারিতা গ্রহণযোগ্য।
পাশ্চাত্য নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াতে রাশিয়া বা চীনের টিকার বিষয়ে খবরাদি তেমন আসে না। কিন্তু এমএইচআরএ এবং এফডিএর কথা আমরা জানি। তারা তাদের তিনটি টিকা নেয়ার পর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যে হয়, তা গোপন করেনি। তারা বলেছে, টিকাগুলো সাধারণভাবে সহনীয়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এগুলো নেয়ার পর মাথাব্যথা, বমিভাব, মৃদু অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, গায়ে ব্যথা, ইনজেকশন নেয়ার জায়গাতে কিছুটা ফোলা বা লাল হওয়া, হালকা জ্বর, ক্লান্তি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। তবে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক নয়, স্বল্পস্থায়ী এবং প্রয়োজনে দ্রুত আরামের জন্য সাধারণ ব্যথা ও জ্বর কমানোর ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। অতি নগণ্য ক্ষেত্রে কারো কারো শরীরে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া এনাফাইলেক্সিসের পর্যায়ে চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাকে হাসপাতালে বা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রেখে চিকিৎসা করতে হয়। তবে এ ধরনের ঘটনা বা দুর্ঘটনার হার একেবারেই কম। যেমন সম্প্রতি (৬ জানুয়ারি ২০২১) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) গত মাসে (১৪-২৩ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত) করোনার টিকা নিয়েছে এমন প্রায় ১৯ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত তাদের একটি জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে যে ১৯ লাখ টিকা গ্রহীতার মধ্যে মাত্র ২১ জনের মধ্যে মারাত্মক এই অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অর্থাৎ মারাত্মক এই অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া ঘটার হার প্রতি ১ লাখ জনে মাত্র ১ দশমিক ১ জন, অর্থাৎ খুবই কম। এরা সবাই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন এবং কেউ মারা যাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে তাদের অনুমোদিত দুটি টিকার ওপর যে ৫৪ পৃষ্ঠার পর্যালোচনা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে তারা মডার্নার ক্লিনিক্যাল স্টাডির ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে ৩ জনের এবং ফাইজার-বায়োএনটেকের ক্লিনিক্যাল স্টাডির ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে ৪ জনের মুখের একটি অংশে কিছুক্ষণের জন্য আংশিক অবশ ভাব দেখা যাওয়ার কথা বলেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘বেলস পালসি’। তবে কিছুক্ষণ পরই তা আবার মিলিয়ে যায় এবং এতে রোগীর কোনো ক্ষতি হয়নি। তার মানে প্রতি প্রায় ১০ হাজার জনে ১ জনের এই সমস্যাটি কিছু সময়ের জন্য দেখা গিয়েছিল। এটিও তেমন কোনো ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া নয় বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।
তবু গত ৮ জানুয়ারি ২০২১ এফডিএ এবং পরে এমএইচআরএ পরামর্শ দিয়েছে টিকার উপাদানগুলোর কোনোটার সঙ্গে যদি কারো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার অতীত ইতিহাস থাকে কিংবা যারা প্রথমবার এই টিকা নেয়ার পর মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার কবলে পড়েছেন, তারা যেন দ্বিতীয় ডোজ না নেন। অর্থাৎ এই দুই ধরনের মানুষ যেন এই টিকা না নেন। এ ছাড়া অন্যরা এই টিকাগুলো বিনা দ্বিধায় নিতে পারেন। এফডিএর সেন্টার ফর বায়োলজিক্স ইভ্যালুয়েশন অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক সরাসরিই বলেছেন, টিকার ফর্মুলায় যে উপাদানগুলো আছে, সেগুলোতে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম।
আমাদের অনেকেরই বিভিন্ন খাবারে অ্যালার্জি আছে। কারো চিংড়ি মাছে, কারো বেগুনে, কারো-বা আবার গরুর মাংসে বা অন্যান্য খাবারে। তাই এই বিজ্ঞানী পরিচালক আরো পরামর্শ দিয়েছেন যে, এসব ক্ষেত্রে টিকা নেয়ার আগেই টিকা প্রয়োগকারীকে বলতে হবে কোন খাবারে বা যদি জানা থাকে, কোন ওষুধে তার অ্যালার্জি হয়। টিকা প্রয়োগকারী তখন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে কিছু ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং টিকা দেয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ তাকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন। সিডিসি বলেছে, এসব টিকা গ্রহণকারীকে টিকা দেয়ার পর সম্ভাব্য অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য কমপক্ষে ৩০ মিনিট বসিয়ে রাখতে হবে। কারণ যদি কোনো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তা এই সময়ের মধ্যেই দেখা দেবে। আর অন্যরা টিকা নেয়ার ১৫ মিনিট পরেই চলে যেতে পারবেন।
টিকা নেয়ার পর মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া বা এনাফাইলেক্সিস কিন্তু শুধু করোনার টিকার বেলাতেই দেখা যাচ্ছে তা নয়। বিভিন্ন সময়ের সিডিসির রিপোর্ট থেকে দেখা যায় যে জলাতঙ্কের ও ফ্লুর টিকা নেয়ার পরও কারো কারো এমন হয়েছিল। কিন্তু কেন এমন হয় যে টিকা নেয়ার পর কারো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় আর কারো হয় না? কারো-বা আবার এনাফাইলেক্সিসের মতো মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয়। এর উত্তর হচ্ছে যে সব মানুষের শরীর এক রকম নয়। কেউ কেউ অন্যদের চেয়ে ভিন্নভাবে কোনো উদ্দীপকে প্রতিক্রিয়া দেখায়। সে কারণেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে এফডিএ, সিডিসি, এমএইচআরএ, টিজিএ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড, হেলথ কানাডা ইত্যাদি সংস্থা শুধু টিকা নেয়ার আগে নয়, টিকা নেয়ার পরেও এই প্রতিক্রিয়াগুলো প্রতিনিয়ত মনিটর করছে। এসবের লক্ষ্য হলো টিকা গ্রহীতাদের নিরাপত্তা সর্বতোভাবে নিশ্চিত করা, যাতে সামান্যতম বিরূপ প্রতিক্রিয়াও বাদ না যায়।
কেউ কেউ বলছেন এত দ্রুততার সঙ্গে টিকা আবিষ্কার হলো, এটা নিরাপদ হবে তো? অর্থাৎ এত অল্প সময়ে এর সবকিছু ঠিকঠাক মতো দেখা হয়েছে তো? এটা ঠিক যে করোনার এই টিকাগুলো অনেক দ্রুত আবিষ্কৃত হয়েছে। কিন্তু এর পেছনে দ্রুত হওয়ার কারণগুলো ভুলে গেলে চলবে না। করোনার প্রাদুর্ভাবে চারপাশে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানীরাও অসহায়। কারণ এর বিরুদ্ধে চিকিৎসা কিংবা প্রতিষেধক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রযুক্তি কিছুই জানা নেই। জনস্বাস্থ্যের প্রতি এত বড় একটা হুমকির মুখে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের একাগ্র চিত্তের অনুসন্ধানে অন্যতম সহায়ক শক্তি ছিল বিজ্ঞানের সংশ্লিষ্ট সব শাখার প্রযুক্তিগত অভূতপূর্ব অগ্রগতি। ফলে যে গবেষণার অংশটির জন্য আগে এক বছর সময় লাগত, সেটি এখন লাগে এক মাস। কোনো কোনোটা তার চেয়েও কম। এভাবে টিকা গবেষণার অনেকগুলো খণ্ডিতাংশের সময়গত যোগফল যেখানে কয়েক বছর বা এক দশক হতো, সেটি এখন কয়েক মাসে বা এক বছরে সম্ভব হয়েছে। ফলাফল পর্যালোচনার ব্যাপারেও তাই। তা ছাড়া এবারের টিকা গবেষণায় তহবিলের কোনো অভাব ছিল না। এতেও সময় বেঁচেছে অনেক। আগে পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ করাটাই ছিল গবেষকদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। মহামারির তুঙ্গের অবস্থাটি স্বেচ্ছাসেবক ও রোগী সংগ্রহের জন্যও অত্যন্ত সুবিধাজনক ছিল। কারণ ত্রিশ বা চল্লিশ হাজার স্বেচ্ছাসেবক বা রোগী গবেষণার জন্য সংগ্রহ করাটা মোটেও কোনো কঠিন বিষয় ছিল না। মহামারি না থাকলে এত বিপুলসংখ্যক গবেষণাধীন স্বেচ্ছাসেবক বা রোগী দ্রুততম সময়ে সংগ্রহ করা সম্ভব হতো না।
তা ছাড়া ফাইজার-বায়োএনটেক বা মডার্নার কাছে ম্যাসেঞ্জার আরএনএ দিয়ে টিকা তৈরির তত্ত্বটা দীর্ঘদিনের গবেষণায় অগ্রসর অবস্থাতেই ছিল। কিন্তু সুযোগের অভাবে টিকা তৈরির কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। এবার মহামারি আসাতে এই তত্ত্ব দিয়ে টিকা দ্রুত তৈরি করে ফেলা গেছে। তত্ত্বটি তৈরি অবস্থায় না থাকলে হয়তো আরো ৫-৭ বছর লেগে যেত। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকা, সিনোভ্যাক বা গামালিয়ার এডিনো ভেক্টর দিয়ে তৈরি টিকার বেলাতেও তাই। এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে তারা বহুদিন ধরেই গবেষণা করছিল। দু-একটা টিকাও তারা বানিয়েছিল। ফলে করোনার টিকা তারা এক বছরের মধ্যেই বাজারে আনতে পেরেছে। তাই দ্রুত আবিষ্কার করাতেই এই টিকা নিরাপদ নয়, এমন ভাবা ঠিক হবে না।
টিকা অনুমোদনের আগেই এর কিছু উপাদানের উৎপাদন শুরু করাও দ্রুততার আরেকটি কারণ ছিল। এতে কোনো ঝুঁকি ছিল না, কারণ এসব উপাদান অন্য কাজেও ব্যবহার করা যায়। এ ধরনের টিকা উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায় থাকে, যার মধ্যে কয়েকটি একসঙ্গেই চালানো যায়। তাতেও সময় বাঁচে। এই টিকার যারা অনুমোদন দিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী তারাও তাদের ফার্মাকোভিজিল্যান্স সব সময় চালু রাখবেন। এর মাধ্যমে সবচেয়ে ছোট ও সাধারণ বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঘটনা পর্যন্ত সংস্থাগুলোর নথিভুক্ত হয়। যদি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঘটনাগুলো ঘটতেই থাকে, তখন তারা টিকাটির প্রয়োগ জনস্বাস্থ্য রক্ষার তাগিদেই বন্ধ করে দেবেন।
তাই আসুন, অপপ্রচারে কান না দিয়ে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের প্রতি আস্থা রাখি। এই মারাত্মক মহামারিকে প্রতিহত করতে আসুন সবাই টিকা নিই।
লেখক : পরিচালক, বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার; সাবেক ডিন, ফার্মেসি অনুষদ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

LEAVE A REPLY