প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা : মানুষের সেবক হিসেবেই কাজ করে যাবেন

0
14

অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হচ্ছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। দারিদ্র্যের হার কমছে। দেশের অবকাঠামো খাতে রীতিমতো বিপ্লব সাধিত হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বেশ কিছু মেগাপ্রজেক্টের কাজ শেষ পর্যায়ে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পায়রা ও মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দেশ এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রায় শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় চলে এসেছে। কেউ যাতে গৃহহীন বা ভূমিহীন না থাকে সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে। তাঁর নেতৃত্বে গত এক যুগে দেশ কেবলই এগিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ ও ‘বিকাশ’-এর মাধ্যমে প্রেরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ক্ষমতায় আছেন মানুষের সেবা করার জন্য। বারবার ভোটে নির্বাচিত করায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তিনি এভাবেই মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ঘটে যাওয়া অনেক অনিয়মের খবর পত্রপত্রিকায় এসেছে। কিছু লোভী মানুষ দুস্থ ও অসহায় মানুষকে দেওয়া সরকারি সহায়তার অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করেছে। সেসব মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য ঠেকাতে সরকার সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের বিভিন্ন ভাতার টাকা সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল ফোনে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন কিংবা ভূমিহীন থাকবে না। পাশাপাশি প্রত্যেক মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি অন্যদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
কোনো দেশের উন্নয়ন অনেকটাই নির্ভর করে নেতৃত্বের দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার ওপর। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, তখনই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ক্ষমতা চলে যায় স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির হাতে। একই সঙ্গে থেমে যায় দেশের উন্নয়ন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি আবার ক্ষমতায় আসে। শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রাম। দেশ এরই মধ্যে অনেক দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষস্থানে চলে এসেছে। আমাদের বিশ্বাস, এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। উন্নয়নশীল দেশ থেকে বাংলাদেশ দ্রুতই উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে।

LEAVE A REPLY