প্রতিশ্রুতির সবটুকু পূরণ করেছি তারপরও অনেক পাওনা আছে পৌরবাসীর : মেয়র রেন্টু

67

এসএস জ্যোতি : উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে যশোর পৌরসভা। সেই সঙ্গে বদলে গেছে পৌরবাসীর জীবনমান। আর এই উন্নয়নের কারিগর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বদলে গেছে পৌরবাসীর জীবন মানসহ পৌর এলাকার পুরো চিত্র।
এখনও আরো অনেক নন্দিত উদ্যোগ রয়েছে তার পরিকল্পনায়। যা বাস্তবায়নে তিনি আবারো পৌরসভার মেয়র হতে প্রার্থী হচ্ছেন।
যশোর পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৮৬৪ সালে। দেড়শ’ বছরের পুরনো এই পৌরসভার আয়তন ১৪ দশমিক ৭২ বর্গকিলোমিটার। ৯টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী দুই লাখ ৮৬ হাজার ১৬৩ জন। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা আরো অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা এটি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা মার্কা নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। ২০১৬ সালের ৬ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, বিনোদনের ব্যবস্থা, ফুটপাত, জলাবদ্ধতা দূর করা, সড়ক বাতি, যানজট নিরসন, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজে হাত দেন। তার নিরলস প্রচেষ্টায় পৌরসভার মধ্যে ভারি যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ হয়েছে। শহরজুড়ে চলা অপরিকল্পিত ইজিবাইককে সিস্টেমের মধ্যে আনা হয়েছে। ড্রেন করা হয়েছে। শহরে জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে। রাতের অন্ধকার শহর আলোকিত হয়েছে। তাই রাতের বেলা নিঃসঙ্কোচে ঘুরে বেড়ানো যায় শহরময়।
২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা মার্কা নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির শতভাগ পূরণ করেছেন। প্রতিশ্রুতির বাইরেও অনেক কাজ করেছেন তিনি। যেমন সুইমিংপুল, শহীদ মিনার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল না তার নির্বাচনী ইশতেহারে। কিন্তু সেগুলো করেছেন। শহরকে দৃষ্টিনন্দন করতে যশোরের ঐতিহ্য খেজুর গাছ ও আল্লাহু লেখা ভাস্কর্য করেছেন। যা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন পৌর এলাকার অসংখ্য মানুষ।
পৌরসভায় সেবা গ্রহণের জন্য প্রদত্ত অর্থের লেনদেনে হয়রানি রোথে পৌর ভবনে স্থাপন করা হয়েছে ব্যাংকের বুথ। এখানে সব টাকার লেনদেন হচ্ছে। দুর্নীতি তো হয় অর্থ লেনদেনে। সেটি বন্ধ করার জন্যই এটি করেছেন মেয়র রেন্টু।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার, ফুটপাত ও খাসজমি দখলমুক্ত করার ব্যাপারে মেয়র নিরলসভাবে কাজ করেছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে মুক্তিশ্বেরী নদীর সঙ্গে সাড়ে ৫ কিলোমিটার খাল দখলমুক্ত করে তা খনন করা হয়েছে। এখন আর শহরে জলাবদ্ধতা নেই। শহরের পুরনো পৌরসভা, আরএন রোডের নতুন বাজার, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের দুই পাশ, বিমান অফিস মোড়, ঘোপ জেলরোডের পাশে, খালধার রোড ও নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়া রোডের মোট সাতটি স্থানে দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। কোথাও জলাবদ্ধতা নেই। জলাবদ্ধতার কোনো অভিযোগ পাই না। তবে হঠাৎ করে ভারি বৃষ্টি হলে হয়তো পানি সরতে ৫-১০ মিনিট দেরি হয়।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি, যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে বরাবর মেয়র যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
সেই প্রত্যয়ের অংশ হিসেবে গোটা শহর সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছেন। কোথাও কেউ অপরাধ করলে ধরা পড়ছে। মাদকের ব্যাপারে সব সময় সোচ্চার মেয়র রেন্টু।
পৌরসভার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভার সেবায় আমরা নাগরিকরা সন্তুষ্ট। আমাদের ট্যাক্সের বিনিময়ে পরিচ্ছন্ন শহর, সুন্দর সড়ক, সড়ক বাতি, সুপেয় পানি, জলাবদ্ধতা দূর ও বিনোদনের ব্যবস্থা করেছেন মেয়র। যা অতীতে দেখা যায়নি।
পৌরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতেও কাজ করেছেন মেয়র। যশোর জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়নে হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা, এসি, কেন্দ্রীয় ক্যাশ কাউন্টার, ফ্যান, সরকারি ওষুধ মানসম্মত কিনা সেটি বুঝে নেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে মেয়র রেন্টু বলেন ,যশোরকে উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে আমরা অনেক কাজ সম্পন্ন করেছি। জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বর্জ্যমুক্ত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প করা হয়েছে যা দেশের প্রথম হিসেবে যশোরে করা হয়েছে। সেই সাথে সাথে যশোরের উন্নয়নে পৌরপার্ক উন্নয়ন, সড়ক উন্নয়ন, সড়ক বাতি উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীর উন্নয়নের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে মাস্টারপ্লান। যার মধ্যে রয়েছে টেকসই সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেন নির্মাণ। সড়কগুলোতে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ। সুপেয় পানি সরবলাহের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট অন্যতম। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে মাল্টিপল সার্ভিস ভবন বা সিটি সেন্টার নির্মাণ, ইকোপার্ক ও মিউজিয়াম নির্মাণ, স্বল্প আয়ের লোকদের গৃহায়নের জন্য লো কস্ট হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন। ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারের জন্য ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা ছাড়াও আরো বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, ‘পাঁচ বছরে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।’
আবার প্রার্থী হলে জনগণকে কী প্রতিশ্রুতি দেবেন-এই প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘প্রতিশ্রুতির শতভাগ পূরণ করেছি। তারপরও অনেক কাজ বাকি আছে। সেগুলো করতে হবে। জনগণের জন্য আমার দরজা খোলা। সবাই অবাধে আমার কাছে আসতে পারে।’

Previous articleকলকাতার নতুন ছবির খবর দিলেন জয়া
Next articleগৃহহীনদের ঘর উপহার সবচেয়ে বড় উৎসব : প্রধানমন্ত্রী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here