পুলিশি রাষ্ট্র বানাবেন না-এসপিকে সতর্ক করলেন হাইকোর্ট

0
61


কল্যাণ ডেস্ক : কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাতকে সতর্ক করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘দেশকে পুলিশি রাষ্ট্র বানাবেন না।’ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচন চলাকালীন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসানের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় এই এসপিকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছিল।
সোমবার (২৫ জানুয়ারি) নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাত হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হলে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে ভেড়ামারা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী ও ওই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে হয়রানি না করারও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
কুষ্টিয়ার এসপি এস এম তানভীর আরাফাতকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘পত্র-পত্রিকায় যা দেখলাম তা যদি কুষ্টিয়ার বাস্তব চরিত্র হয়, তবে তা হবে জাতির জন্য ভয়ঙ্কর। এমন যাতে মানুষের মনে না হয় যে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশকে পুলিশি রাষ্ট্র বানাবেন না। জাতি উৎকণ্ঠিত, এটা নিরসনের দায়িত্ব আপনাদের।’
হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘পুলিশকে কথায় নয়, কাজে পটু হতে হবে। কে কোন মতাদর্শের, কোন দলের, সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। সর্বস্তরের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ কারও জন্য ভীতিকর না হয়ে তাদের কর্মকা-ে মানুষের বন্ধু হতে হবে।’
পরে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন।
আদালতে কুষ্টিয়ার এসপির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আহমেদ ইশতিয়াক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. তাহিরুল ইসলাম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. লোকমান হোসেন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হাতেম আলী।
আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. তাহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়ার এসপি আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন করলে আদালত তাকে ভবিষ্যতের জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে ভেড়ামারার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহজাহান আলী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।’
এর আগে, গত রোববার (২৪ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার এসপি নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন করে ২৫ জানুয়ারি তিনি আদালতে হাজির হন। গত ২০ জানুয়ারি এসপিকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসানের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তলব করেছিল আদালত।
এসপি’র বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসান বলেন, ‘কুষ্টিয়া ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের সময় ভেড়ামারা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করি। সেখানে কয়েকজনকে ভোটকেন্দ্রের বুথের ভেতর পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে বসে থাকতে দেখি। পরিচয়পত্র দেখাতে বললে তারা প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত এ ফোর সাইজের কাগজ দেখান। প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার সময় ওই কেন্দ্রে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত ৪০/৫০ জন ফোর্সসহ আসেন। তিনি প্রবেশ করেই প্রিজাইডিং অফিসারকে উচ্চস্বরে তলব করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন ফোর্স প্রিজাইডিং অফিসারকে আমার সঙ্গে কথা বলতে না দিয়েই তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপাচাপি করেন।’
মহসিন হাসান বলেন, ‘এ সময় নিজের পরিচয় দিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা শেষ হলে উনাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলি। কিন্তু এএসপি মোস্তাফিজুর রহমান ধমক দিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারকে নিয়ে যান। এ সময় পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কে? কী করেন এখানে? আমি পরিচয় দিলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আপনি এখানে কি করেন? বেয়াদব, বের হয়ে যান। পুলিশ সুপার ও তার ফোর্সদের আক্রমণাত্মক, চরম অসৌজন্যমূলক ও মারমুখী আচরণে হতচকিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। এরপর এসপিসহ তার ফোর্সরা আমার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে উদ্দেশ্যে করে একাধিকবার বলেন, এসব লোককে পাঠায় কে? বেয়াদব ছেলে। এখানে কাজ কি আপনার? বের হয়ে যান এখান থেকে। তারা কেন্দ্র থেকে চলে যাওয়ার পর আমি বিষয়টি ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করি।’
আবেদনে আরও বলা হয়, পুলিশ সুপার ও তার সঙ্গী ফোর্সদের আচরণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ এর ৬৯, ৭০, ৭৪, ৮০ ও ৮১ বিধির সরাসরি লঙ্ঘন। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রার্থনা করছি।

LEAVE A REPLY