বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতায় এনেছেন মহাকবি মাইকেল মদূসূদন দত্ত : জেলা প্রশাসক

0
16
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কল্যাণ রিপোর্ট : বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ আধুনিক বাংলা কাব্যের রূপকার অমৃতাক্ষর ছন্দের জনক ও সনেট প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার বিকেলে কবির জন্মভূমি কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে কবির আবক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
করোনাভাইরাসের কারণে এবার সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। তারপরও জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মধুপল্লী, বিদায় ঘাট, বুড়ো কাঠবাদাম গাছতলাসহ আলোচনা অনুষ্ঠানে মধুভক্তদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন।
তাঁর বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতায় এনেছেন মহাকবি মাইকেল মদূসূদন দত্ত। স্বদেশ চেতনার ধারক ও বাহক ছিলেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি। তিনি আরো বলেন, বাংলা তার মাতৃভাষা, বাঙালি তার বিশ্বাসের জায়গা। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রবর্তক।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, স্মৃতিবিজড়িত মধুকবির জন্মভূমি সাগরদাঁড়িতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাগার তৈরি করার বিষয়ে যশোরবাসীসহ কেশবপুরের আপামর জনসাধারণ দীর্ঘদিন দাবি করে আসছেন। এই এলাকার যিনি সংসদ সদস্য আছেন তিনিসহ আমরা যারা প্রশাসনে আছি তারাও আপ্রাণ চেষ্টা করছি।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জসীম উদ্দীন, মধুসূদন একাডেমির পরিচালক কবি ও মধু গবেষক খসরু পারভেজ, আবু শারাফ সাদেক কারিগরি কলেজের প্রভাষক কানাইলাল ভট্টাচার্য, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মহাকবির জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপ-পরিচালক হুসাইন শওকত। যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপ-পরিচালক হুসাইন শওকত মহাকবির আবক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। পরে একে একে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন যশোর জেলা প্রশাসন, কেশবপুর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, কেশবপুর প্রেসক্লাব, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চারুপীঠ আর্ট স্কুল ও লোকজ একাডেমী। আলোচনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান ও শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী । আলোচনা শেষে মধুমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

LEAVE A REPLY