বাইডেনের সামনে কঠিন পরীক্ষা, দুরূহ চ্যালেঞ্জ

0
9

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)
বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের মানুষের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা রেখে গেলেন। অজ্ঞতা আর মেধাহীনতার অন্ধত্বপূর্ণ গোঁয়াড়, একরোখা ও মিথ্যা অহংকারে দৃষ্টি আবদ্ধ ব্যক্তিকে দেশের নেতা হিসেবে জনগণ বেছে নিলে সেই দেশের পরিণতি কী হতে পারে, তার উদাহরণ এই সময়ের আমেরিকা। গত চার বছরে শুধু আমেরিকার অভ্যন্তরে নয়, পশ্চিমা বিশ্বজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানি ও অনুসরণে উগ্রপন্থী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী রাজনীতির যে রকম বিস্তার ও উত্থান ঘটেছে, তা আগামী দিনে বিশ্ব শান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে
গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০ জানুয়ারি শপথ নিয়েছেন। নজিরবিহীন নিরাপত্তাবেষ্টনী, বুলেটপ্রুফ কাচে ঘেরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শপথ গ্রহণ, যা আমেরিকার প্রায় আড়াই‘শ বছরের ইতিহাসে কখনো হয়নি। সশস্ত্র বাহিনীর ২৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ডসহ হাজার হাজার পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার বেষ্টনী দেখে মনে হয়েছে, আমেরিকার গর্ব গণতন্ত্র আজ অবরুদ্ধ। এতেই আঁচ করা যায়, জো বাইডেনের জন্য আগামী দিনে কত বড় কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিল আর প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউস সামান্য দূরত্বে পাশাপাশি, এর ঠিক বিপরীতে রাস্তার অন্য পাশে লিংকন মেমোরিয়াল, যার সংলগ্ন এলাকায় আছে আমেরিকার চারজন ফাউন্ডিং ফাদারস- জর্জ ওয়াশিংটন, জন অ্যাডামস, থমাস জেফারসন ও জেমস মেডিসনের মেমোরিয়াল। তবে লিংকন মেমোরিয়ালটি সবচেয়ে বেশি প্রতিভাত এবং উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান। সুন্দর ড্রেসিং- কাটিং করা দূর্বা ঘাসের বিশাল খোলা মাঠসহ হোয়াইট হাউসের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত লিংকন মেমোরিয়াল। ২০০১ সালে সম্পূর্ণ চত্বরটি ঘুরে ঘুরে দেখার সময় লিংকন মেমোরিয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের গাইড এই পুরো চত্বরের বিন্যাস ও লে-আউট সম্পর্কে চমকপ্রদ একটা ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউস, ক্যাপিটল হিল, একটু দূরে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ভবন। এই তিনটি ভবনই লিংকন মেমোরিয়াল থেকে এমনভাবে দৃশ্যমান, যাতে ওই তিন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে কর্মরত সবাই মনে করেন, গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ফাউন্ডিং ফাদাররা সদাসর্বদা তাদের ওপর নজর রাখছেন। কী অসাধারণ থিম। কিন্তু ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারিতে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা ক্যাপিটল হিল ভবনে আক্রমণ ও ধ্বংসযজ্ঞের যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তাতে লিংকন এবং অন্যান্য ফাউন্ডিং ফাদারের সব দর্শন ধুলায় মিশে গেছে। নিশ্চয়ই বেদনায় তারা নীল হয়েছেন, আত্মদংশনে অভিশাপ দিয়েছেন হয়তো। আমেরিকার বৈদেশিক নীতিনির্ধারক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন (সিএফআর)-এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিচার্ড হাস লিখেছেন, আগামী দিনে একক পরাশক্তির স্থান থেকে যদি আমেরিকার অধোগমন হয়, তাহলে নিশ্চয়ই সবাই বলবেন, আমেরিকার নিঃশেষ হওয়ার যাত্রা শুরুর দিনটা ছিল ৬ জানুয়ারি ২০২১। ২১ জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার কলামে নিকোলাস ক্রিস্টফ লিখেছেন, শতকরা ৮১ ভাগ রিপাবলিকান মনে করে, ডেমোক্রেটিক পার্টি সমাজতন্ত্রবাদীরা দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে শতকরা ৭৮ ভাগ ডেমোক্র্যাট মনে করে, চরম বর্ণবাদীরা রিপাবলিকান পার্টি দখল করে নিয়েছে। চরম বিভাজনের এই চিত্র সর্বত্র, সশস্ত্র বাহিনী থেকে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টসহ রাষ্ট্রের সব অঙ্গনে। নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেন উদ্বোধনী ভাষণে অনেক আশার আলো দেখিয়েছেন। কিন্তু কতটুকু কী করতে পারবেন, সে সম্পর্কে খোদ আমেরিকার বড় বড় বিশ্লেষক আপাতত মুখ বন্ধ করে রেখেছেন। পাহাড় সমান অভ্যন্তরীণ সংকট। তার সঙ্গে বিশ্ব অঙ্গনের চ্যালেঞ্জ আরো কঠিন। করোনা প্যানডেমিক বিপর্যস্ত অবস্থা। বিশ্বের ফার্স্ট রাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে লাস্ট হয়েছে। গত শতকের ত্রিশের দশকের শুরুতে গ্রেট ডিপ্রেশনের পর্যায়ে এসে সার্বিক অর্থনীতি এখন ভঙ্গুর অবস্থায়। জাতিগত বিভাজনের চরম সংকট। প্রথম কয়েক দিনের কাজ দেখে মনে হচ্ছে, সবকিছুকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করবে বাইডেন প্রশাসন। শপথ নেয়ার পরপরই করোনা সংকট থেকে উত্তরণের উপায়সংক্রান্ত ১৭টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন বাইডেন।
ট্রাম্প কর্তৃক সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের বিরুদ্ধে জারিকৃত অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা দ্বিতীয় দিনেই বাতিল করেছেন। প্রায় এক কোটি বেআইনি অভিবাসীর জন্য নতুন রোডম্যাপ দিয়েছেন, যাতে তারা সবাই আট বছরের মাথায় আমেরিকার নাগরিক হতে পারে। মেক্সিকোর সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করেছেন। আমেরিকার মানুষের কাছ থেকেই নিকৃষ্টতম প্রেসিডেন্টের খেতাব নিয়ে ট্রাম্প বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু গত চার বছর তিনি আমেরিকার অভ্যন্তরে এবং বিশ্ব অঙ্গনে যে জঞ্জাল তৈরি করেছেন, তার ভার ৭৮ বছর বয়সী নতুন প্রেসিডেন্ট কতখানি সফলতার সঙ্গে বহন করতে পারবেন, সেটাই আগামী দিনে দেখার বিষয় হবে। আমেরিকা ফার্স্ট নামের সস্তা স্লোগান দ্বারা উগ্রপন্থী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ ইভেনজেলিকাল খ্রিষ্টীয় কট্টরবাদ, ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ (গান কন্ট্রোল) বিরোধী গোষ্ঠীসমূহকে ট্রাম্প যেভাবে উত্তেজিত ও সংঘবদ্ধ করে গেছেন, তার পরিণতিতে আগামী দিনে আমেরিকার অভ্যন্তরে বর্ণবাদী দাঙ্গা, যত্রতত্র শুটিংয়ের মাধ্যমে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি এবং অভিবাসী, বিশেষ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে হেইট ক্যাম্পেইন ও বিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠিন কাজ হবে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের মানুষের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা রেখে গেলেন। অজ্ঞতা আর মেধাহীনতার অন্ধত্বপূর্ণ গোঁয়াড়, একরোখা ও মিথ্যা অহংকারে দৃষ্টি আবদ্ধ ব্যক্তিকে দেশের নেতা হিসেবে জনগণ বেছে নিলে সেই দেশের পরিণতি কী হতে পারে, তার উদাহরণ এই সময়ের আমেরিকা। গত চার বছরে শুধু আমেরিকার অভ্যন্তরে নয়, পশ্চিমা বিশ্বজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানি ও অনুসরণে উগ্রপন্থী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী রাজনীতির যে রকম বিস্তার ও উত্থান ঘটেছে, তা আগামী দিনে বিশ্ব শান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। ইউরোপের কয়েকটি বড় দেশের রাজনৈতিক চিত্রের দিকে তাকালে উপরিউক্ত কথার যথার্থতা বোঝা যায়।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফ্রন্ট, জার্মানির অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি, পোলান্ডের ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি, অস্ট্রিয়ার ফ্রিডম পার্টি, সুইডেনের সুইডেন ডেমোক্রেটস ও গ্রিসের গোল্ডেন ডন গ্রিস- এই চরমপন্থী দলগুলোর পক্ষে গত চার-পাঁচ বছরের জনসমর্থন আগের থেকে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাঙ্গেরিতে ইতোমধ্যেই ক্ষমতায় এসেছে কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর আরবান। এই দলগুলোর প্রধান কমন লক্ষ্য হলো, এরা অভিবাসনবিরোধী, ইসলামবিদ্বেষী এবং শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদে বিশ্বাসী। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে আক্রমণকারী ব্রেন্টন টারান্ট বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পই হচ্ছে তার আদর্শ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ু চুক্তিতে প্রত্যাবর্তন ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন- এই দুটি কাজ জো বাইডেন প্রশাসন যত দ্রুত ও সহজে করতে পারবে, ঠিক ততটাই কঠিন হবে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে প্রত্যাবর্তন, মধ্যপ্রাচ্যকে শান্তির পথে ফিরিয়ে আনা এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্প-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়া। বিশ্বব্যাপী আজকে ইসলামিস্ট উগ্রবাদী জিহাদি গোষ্ঠীর উত্থান ও বিস্তার যেভাবে ঘটেছে, তার বহুবিধ কারণ রয়েছে। তবে আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থনে ফিলিস্তানি জাতির ওপর ইসরায়েল প্রায় ৭৩ বছর ধরে যে রকম অন্যায় ও অত্যাচার চালাচ্ছে, ইসলামিস্ট জঙ্গিবাদ বিস্তারে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অরু কুণ্ডনানি তার লিখিত ‘দ্য মুসলিম আর কামিং’ গ্রন্থের ১১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, ২০০৫ সালের ২১ জুলাই লন্ডনের পাতালরেলে আক্রমণকারী জিহাদি হুসেন ওমর জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, ‘এটা ধর্মের কোনো বিষয় নয়, ইরাকে কী ঘটেছে ভিডিও চিত্রে তা আমরা দেখেছি এবং প্রতিজ্ঞা করেছি এই জুলুম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু একটা করতে হবে।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প গত চার বছরে ফিলিস্তিন সংকটে আগুনে ঘৃত ঢালার মতো কাজ করেছেন। জেরুজালেমকে ইসায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি এবং আমেরিকার দূতাবাস সেখানে স্থানান্তর ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আরো নতুন বসতি স্থাপনের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানের পথ ভেন্টিলেশনে চলে গেছে।
১৯৬৭ সালে দখলকৃত সিরিয়ার গোলান হাইটসের ওপর ইসরায়েলের কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প। আবার নতুন করে শান্তির পথরেখা তৈরি করা জো বাইডেনের পক্ষে সম্ভব হবে এমন মনে করার যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলের চাওয়ার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্টই কিছু করতে পারেননি, ইরান ও পারমাণবিক চুক্তি ইস্যুতে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প কর্তৃক চুক্তি বাতিলের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরায় বর্তমানে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তাতে ২০১৫ সালে চুক্তি স্বাক্ষর যত কঠিন ছিল, তার চেয়ে কঠিন কাজ হবে চুক্তিতে প্রত্যাবর্তন। ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্ষমতাবলয়ের বিস্তার ঘটেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারির ৩ তারিখে ইরাকের বিমানবন্দরে আমেরিকার ড্রোন আক্রমণে নিহত হন ইরানের মর্যাদাশীল আল কুদস বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কাসেম সুলায়মানি। ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ইরানের টপ পারমাণবিক বিজ্ঞানী মহসেন ফকিরজাদ তেহরানের উপকণ্ঠে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত মেশিনগানের গুলিতে নিহত হন। ইরান মনে করে, আমেরিকার স্যাটেলাইটের সহায়তায় ইসরায়েলের মোসাদ বাহিনী এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। নিজের শক্তিবলয়ের বিস্তার এবং এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান অধিকতর সুবিধা নিতে চাইবে এবং আগামী দিনে পুনরায় চুক্তি বাতিল হবে না, তার নিশ্চয়তাও চাইতে পারে।
অন্যদিকে সৌদি আরব ও ইসরায়েল, আমেরিকার দুই খুঁটি চুক্তিতে প্রত্যাবর্তনের ঘোর বিরোধিতা করবে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সত্যিই দুরূহ চ্যালেঞ্জ। হেনরি কিসিঞ্জার তার লিখিত ‘হেনরি কিসিঞ্জার অন চায়না’ গ্রন্থের ৫২২ পৃষ্ঠায় বলেছেন, বিশ্বশান্তির জন্য চীন-আমেরিকার সহযোগিতা ও সহাবস্থান অপরিহার্য। কিন্তু দ্বন্দ্ব-প্রতিযোগিতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে এ অঞ্চলের প্রায় সব দেশের সঙ্গে চীনের দ্বন্দ্ব চলছে, যেখানে আমেরিকারও ভাইটাল স্বার্থ রয়েছে। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ১৯ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেন, জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চীন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। বাইডেন মনোনীত নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন সিনেটে নিজের অনুমোদনসংক্রান্ত শুনানিতে বলেছেন, গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে তিনিও একমত। বাইডেনের শপথের মাত্র তিন দিনের মাথায় ২৩ জানুয়ারি চীনের একঝাঁক ফাইটার জেট তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার মধ্য দিয়ে বোঝা গেল তাইওয়ান প্রশ্নে চীন সামান্য ছাড়ও দেবে না। ট্রাম্প ২০১৯ সালে এসে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বর্ধিত করার পদক্ষেপ নেন, যা চীনকে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ করে। সুতরাং দেশের অভ্যন্তরে কঠিন পরীক্ষার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জো বাইডেন প্রশাসনকে দুরূহ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
লেখক : গবেষক এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

LEAVE A REPLY