কুয়েতে এমপি পাপুলের সাজা : এ ঘটনা দেশের জন্য লজ্জার

14

একসময় রাজনীতি ছিল আদর্শকেন্দ্রিক। দেশপ্রেম ও জনকল্যাণের ব্রত নিয়ে মানুষ রাজনীতি করতে আসতেন। সে কারণে রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের মানুষ সমীহ করত। আজকাল সব কিছু কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিতে চরিত্রহীন মানুষের আনাগোনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন অনেক জনপ্রতিনিধি রয়েছে, যারা নির্দ্বিধায় গরিবের হক কেড়ে নিচ্ছে। অনেকেই মানবপাচার, মাদক কারবার, অর্থপাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। জমি দখল, বাড়ি দখল, নদী দখলসহ কত কিছুই না করছে তারা। সৎ ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ বা জনপ্রতিনিধিও কম নেই। কিন্তু তাঁরাও ম্লান হয়ে যাচ্ছেন চরিত্রহীন নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কারণে। তেমনই একজন জনপ্রতিনিধি মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুল। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এখন রয়েছেন কুয়েতের কারাগারে। মানবপাচার ও ঘুষ প্রদানের অভিযোগে সে দেশের আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বিদেশের মাটিতে দেশের একজন আইন প্রণেতার অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনাটি দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর।
জানা যায়, গত বছরের ৬ জুন কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পাপুলকে কুয়েত সিটির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অর্থপাচারের পাশাপাশি ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি কুয়েতে মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপ অব কম্পানিজ নামের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। মানবপাচার ও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কুয়েতের ফৌজদারি আদালত গত বৃহস্পতিবার তাঁকে এবং কুয়েতের তিন কর্মকর্তাকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যেককে ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়েছে। পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অন্য মামলাটির এখনো রায় হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সেই মামলায়ও তাঁর শাস্তি হতে পারে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ১৯৯২ সালে পাপুল তাঁর ভাই বিএনপি নেতা কাজী মঞ্জুরুল আলমের হাত ধরে কুয়েত যান। তখন থেকেই শুরু হয় তাঁর মানবপাচার। তাঁর বিরুদ্ধে কুয়েতে প্রতারণার মাধ্যমে ২০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক নেওয়ার এবং তাদের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার অর্থ প্রায় তিন দশক ধরে তিনি মানবপাচার ও অর্থপাচারে জড়িত ছিলেন। কিন্তু কোনো সরকারের আমলেই তিনি গ্রেপ্তার হননি, তাঁর অপরাধ বিচারের মুখোমুখি হয়নি। উল্টো ২০১৮ সালে এসে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। ধারণা করা হয়, তিনি এ পর্যন্ত যা করেছেন, তা তাঁর অর্জিত অবৈধ টাকার জোরেই করেছেন। এটি কি কম লজ্জাকর!
অতীতেও অনেক রাজনীতিবিদ বিদেশের মাটিতে দেশের মুখে কলঙ্ক লেপন করেছেন। বিভিন্ন দেশে মুদ্রাপাচারসহ তাদের বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি হয়েছে। দেশেও অতীতে অনেকের জমি দখল, বাড়ি দখল, তহবিল তছরুপ, ঘুষ-দুর্নীতিসহ অনেক অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। কুয়েতের ঘটনার মতো দেশের জন্য লজ্জাকর এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে দেশেই এসব রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধির অপরাধের দ্রুত বিচার ও শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here