আগামীকাল জাতীয় বীর ও জাসদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ কাজী আরেফ আহমেদ এর ২২তম হত্যা দিবস

0
14

কল্যাণ রিপোর্ট : আগামীকাল জাতীয় বীর ও জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শহীদ কাজী আরেফ আহমেদ এর ২২তম হত্যা দিবস। জাসদের বিভিন্ন কর্মসূচি
আগামীকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ জাতীয় বীর, ৬০ দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামের বিপ্লবী নেতা, মুশতাক-জিয়া-এরশাদ সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনের অগ্রপথিক, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও গণআদালত কেন্দ্রিক গণআন্দোলনের নেতা শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের ২২তম হত্যা দিবস।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামে জাসদ আয়োজিত সন্ত্রাস বিরোধী এক জনসভায় বক্তৃতারত অবস্থায় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী গুলি করে কাজী আরেফ আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের তৎকালীন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও পর পর দুইবার নির্বাচিত দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এড. ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন এবং তফসের মণ্ডলকে হত্যা করে।
জাসদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি
জাতীয় বীর, জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় নেতা শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের ২২তম হত্যা দিবসে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি আগামীকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধ সংলগ্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিকাল ৪ টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে আলোচনা সভার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জাসদ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলির সদস্য জনাব আমীর হোসেন আমু এমপি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জনাব রাশেদ খান মেনন এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক জনাব দিলীপ বড়–য়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, ন্যাপের (মোঃ) সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের অনুজ কাজী মাসুদ আহমেদ ও ভ্রাতসপুত্রী কাজী সালমা সুলতানাসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
জেলা-উপজেলায় কর্মসূচি
জাতীয় বীর, জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় নেতা শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের ২২তম হত্যা দিবসে জাসদের সকল জেলা ও উপজেলা কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির অনুরূপ শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দলের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় বীর কাজী আরেফ আহমেদকে স্মরণ করবে।

জাতীয় বীর কাজী আরেফ আহমেদের ২২তম শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারের এমপি’র বিবৃতি : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি জাতীয় বীর, স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা স্বাধীনতার নিউক্লিয়াসের অন্যতম প্রতিষ্ঠা, বাঙালির জাতীয় মুক্তি আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের ২২তম শহীদ দিবসে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, কাজী আরেফ আহমেদ বাঙালি জাতির ধ্রুবতারা। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতিশীলতার মশাল জ্বালিয়ে জাতিকে চলার পথ দেখিয়েছেন। তারা বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি কর্তৃক বাঙালি জাতিকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নিশ্চিহ্নকরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র বাঙালি জাতীয়াবাদী চেতনায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা; ‘মুসলমান-মুসলমান ভাই’, ‘আমরা মুসলমান জাতি’ ও ‘পাকিস্তান মুসলমানদের দেশ’ ইত্যাদি বলে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়িয়ে বাঙালি জাতিকে বিভক্ত-দুর্বল-হীনবল করার বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিকতাকে উর্ধে তুলে ধরে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে তীক্ষè ও তীব্র করা; পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে বাঙালির অধিকার, মুক্তি, স্বাধীনতা খোঁজার ভ্রান্ত পথে না গিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাঙালির স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামী পথ তৈরি করা; মুক্তিযুদ্ধকে বিপ্লবী জনযুদ্ধে উন্নীত করে স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়া; স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সমাজকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজে পরিণত করার বিপ্লবী সংগ্রামের পথ তৈরি করা; ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা ও ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানকে বর্বরভাবে দমন করে মোস্তাকের পথে হাঁটা বিশ্বাসঘাতক জিয়া জাসদ, আওয়ামী লীগ ও সিপিবিসহ স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে মেরে কেটে কোণঠাসা করে পাকিস্তানপন্থীশক্তি ও পাকিস্তানপন্থার যে রাজনীতি শুরু করেছিল সেই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির দ্বন্দ্বকে জাতীয় রাজনীতির প্রধান দ্বন্দ্ব হিসাবে চিন্থিত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বৃহত্তর ঐক্য, বাম ঐক্যের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে পাকিস্তানপন্থার ধারক সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সাধারণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাধারণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ছায়ায় সমান্তরালে পুঁজিবাদ বিরোধী বিপ্লবী গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালনার পথ তৈরি করা; সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন এগিয়ে নিতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও শক্তির দুর্বলতম গ্রন্থি ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার’কে চিন্থিত করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং তার ধারাবাহিকতায় জাহানারা ইমামকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক গণআদালত গঠন ও গণআদালত কেন্দ্রিক জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে জাতীয় বীর ও জাতীয় নেতা কাজী আরেফ আহমেদ তাঁর দ্বান্দ্বিকতার দার্শনিক জ্ঞান ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ করে গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল আন্দোলনের মৌলিক রণনীতি ও রণকৌশল নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়ন করেছিলেন। হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতার বলেন, তাঁর প্রণীত এ সকল ঐতিহাসিক মাইলফলক রণনীতি ও রণকৌশল এখনও জাতীয় রাজনীতিতে আমাদের ধ্রুব তারার মত পথ দেখায়।

LEAVE A REPLY