ফিরবে কি নীড়ে?

79


ইসরাত জাহান

লাগামহীন ঘোড়ার মত ছুটছিল বিশ্ব
কোথাও ছিলনা এক মুহূর্ত থামার ফুসরত
কি করে থামবে বলোতো ?
থামলে যে চলবে না, পিছিয়ে যাবে,
তুমি আসলে আর সব থামিয়ে দিলে
১, ২, ৫, ১০, ২০টি দেশ নয় সারা বিশ্বকে এক সাথে !!!
কেউ কখনো কল্পনাও করেনি এমন কোন সময়ের!!!

“করোনা”
তোমার সাথে পথ চলতে মানা
তোমায় বহন করলে কারো সংস্পর্শে আসা যাবে না !!
এক অদ্ভূত শক্তি তোমার,
সারাবিশ্বকে করেছো বন্দি, নিচ্ছ তাজা প্রাণ!!
কিছু দাওনি এটা বলিনি
সত্যি অনস্বীকার্য তোমার অবদান …

ভুপেন হাজারিকা গেয়েছেন “মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য“
সেটাও ভুল প্রমাণিত করেছো!!
প্রচলিত প্রথা কিংবা সমাজ ব্যবস্থা কিংবা রক্তের বাঁধন
সে যাই হোক
অসুখ করলে বাবা মা সন্তানের সেবা করবে আর সন্তান বাবা মায়ের
এমনটাই জানতো সবাই,
এখন,
অসুখ মানে একাকী ঘর,
পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন,
কেউ মাথায় হাত বুলানো তো দুর কাছে আসাই বারণ
আর যদি বেঁচে না ফিরে
তবে শেষ দেখাটুকুও হয়না
তখনও পাশে কোন পরিজন থাকেনা
আল মারকাজুল ইসলামের লোকেরা আসে
মৃতদেহ নিয়ে যায়
জানাযা, কবর সব তাদের দায়!!!
এ কেমন মৃত্যু ??
এ কেমন বিদায় ??

না!! .. আমি বলিনি তুমি কিছু দাওনি
দিয়েছো,
দুষণমুক্ত করেছো কলুষিত পরিবেশটা,
প্রতিটা প্রাণে মৃত্যু ভয় জাগিয়েছো,
কিছুটা হলেও দুর করেছো হিংসা বিদ্বেষ,
নিজের কাজ নিজেকে করতে শিখিয়েছো,
অসহায়ত্বের বেদনা বুঝিয়েছো,
চারিদিক আজ সতেজ সবুজ তোমারই দান…
সত্যি অনস্বীকার্য তোমার অবদান…

“করোনা”
তোমার সাথে পথ চলতে মানা
বাঁচতে বলো কে চায়না ?
বেঁচে থাকার ব্যকরন বরাবর একই হয়
প্রতিক্ষণে মৃত্যুভয় কাহাতুক প্রাণে সয় ?
অনাহুত আবির্ভাব, অনাকাংঙ্খিত প্রস্থান,
আর মাঝে, যা করতে পছন্দ করে সবাই
তা হলো ভাঁঙ্গনের সঙ্গে সন্ধি করে যাওয়া!!!
তবুও প্রতিটিক্ষণে আমিও সবার মত ভীত মৃত্যু ভয়ে
তাই বলছি এবার কি ফিরবে নীড়ে ?
না হয় রেখে যেও কিছুটা
তোমার সবটুকু না নিয়ে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here