যশোর পৌরসভার মেয়র হলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা পলাশ

24

 

যশোর পৌরসভার মেয়র হলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ

কল্যাণ রিপোর্ট : শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হল যশোর পৌরসভার নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ ৩২ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ।
তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মাদ আলী সরদার হাতপাখা প্রতীকে ১২ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়েছেন।
আর নির্বাচন থেকে অনেক আগেই সরে দাঁড়ানো বিএনপির মারুফুল ইসলামের ধানের শীষ প্রতীকে পড়েছে সাত হাজার ৩০২টি ভোট; যা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
গতকাল সকাল ৮টা থেকে যশোর পৌরসভায় প্রথম বারের মত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে, ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। ব্রিটিশ ভারতের দ্বিতীয় পৌরসভা যশোর পৌরসভার ভোটগ্রহণ ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সীমানা জটিলতা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরে আপিলের কারণে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ৩১ মার্চ এই ভোটগ্রহণের আয়োজন করে।

এক নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সাইদুর রহমান রিপন,দুই নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে রাশেদ , তিন নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মোকসিমুল বারী অপু ,চার নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জাহিদ হোসেন, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে রাজিবুল আলম ,ছয় নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আলমগীর কবীর সুমন, সাত নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে শাহেদ হোসেন নয়ন,আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রদীপকুমার বাবলু ,
নয় নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মো. আসাদুজ্জামান বাবুল

এদিকে, এক নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সাইদুর রহমান রিপন পাঁচ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আহমেদ শাকিল পেয়েছেন এক হাজার ৮৪৬ ভোট।
দুই নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে রাশেদ আব্বাস রাজ দুই হাজার ১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ সালাউদ্দিন পেয়েছেন এক হাজার ১৪৮ ভোট।
তিন নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মোকসিমুল বারী অপু এক হাজার ৬৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাব্বির মালিক পেয়েছেন ৯৫৯ ভোট।
চার নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জাহিদ হোসেন মিলন তিন হাজার ৫৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন দুই হাজার ৪৬৫ ভোট।
পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে রাজিবুল আলম দুই হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাফিজুর রহমান পেয়েছেন এক হাজার ৭৩৬ ভোট।
ছয় নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আলমগীর কবীর সুমন দুই হাজার ৪৮০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজাহার হোসেন স্বপন পেয়েছেন এক হাজার ৫২৭ ভোট।
সাত নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে শাহেদ হোসেন নয়ন এক হাজার ৫৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জুলফিকার আলী পেয়েছেন এক হাজার ৫৪৬ ভোট।
আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রদীপকুমার বাবলু দুই হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সন্তোষ দত্ত পেয়েছেন এক হাজার ১৫১ ভোট।
নয় নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মো. আসাদুজ্জামান দুই হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুল ইসলাম পেয়েছেন দুই হাজার ২৮৬ ভোট।

সংরক্ষিত এক নম্বর ওয়ার্ডে আইরিন পারভীন ,সংরক্ষিত তিন নম্বর ওয়ার্ডে শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি সংরক্ষিত দুই নম্বর ওয়ার্ডে নাসিমা আক্তার জলি

এছাড়া সংরক্ষিত এক নম্বর ওয়ার্ডে আইরিন পারভীন চার হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আয়েশা সিদ্দিকা পেয়েছেন দুই হাজার ৫৪১ ভোট।
সংরক্ষিত দুই নম্বর ওয়ার্ডে নাসিমা আক্তার জলি ১৪ হাজার ১১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাছিমা সুলতানা পেয়েছেন তিন হাজার ১৮৫ ভোট।
সংরক্ষিত তিন নম্বর ওয়ার্ডে শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি দশ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সালমা আক্তার বাণী পেয়েছেন সাত হাজার ৯০৭ ভোট।
পৌরসভার ৫৫টি কেন্দ্রে ও ৪৭৯টি বুথে ভোটগ্রহণ চলেছে। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তিন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। তবে, বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়।
এছাড়া কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন ও নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন
ভোটাররা জানান, কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে তাঁরা ভোট দিতে পেরেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক বলে জানান তাঁরা। মহিলা সমাজ কল্যাণ সংস্থা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রিপন কাজী বলেন, তিনি এর আগে চারবার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারই প্রথম কেন্দ্রে কোনো ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে।
প্রিজাইডিং অফিসাররা জানান,শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বয়স্কদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। ইভিএমে ভোট হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
এ পৌরসভার মোট এক লাখ ৪৬ হাজার ৫৯২ জন ভোটার । যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৪৫ জন, নারী ভোটার ৭৪ হাজার ৫৪৯ জন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ ভোটে ৩৬ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবীর এ ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।
এ নির্বাচনে এক হাজার ৪৫০ জন নির্বাচনি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২শ’ সদস্য কাজ করেছেন।

Previous articleকরোনায় সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড, ৪৫ প্রাণহানি
Next articleযশোর পৌরসভায় হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা এখন কাউন্সিলর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here