মৃত্যু উপত্যকায় জীবনের গান

10
অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সদ্য জন্মানো নাতিকে কোলে নিয়ে বসে আছেন ৪৮ বছরের হিয়াম আল-সাফাদি। ছবিগুলো তুলেছেন আল-জাজিরার ফটো সাংবাদিক আশরাফ আমরা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা যেন এক মৃত্যু উপত্যকা। ইসরাইলের মুহূর্মুহূ বিমান হামলায় বিধ্বস্ত। তাতে বাস্তুচ্যুত শত শত পরিবার। তাদের স্থান হচ্ছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও এমনই এক পরিবারে বয়ে যাচ্ছে আনন্দের বন্যা। গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের এই পরিবারের ঘর আলো করে যে জন্ম নিয়েছে শিশু মোহাম্মদ।
মা-বাবা ও বড় ছেলেকে নিয়ে পরিবার মোহাম্মদের মা-বাবার। যুদ্ধের তা-বে ঘর ছাড়তে হয় তাদের। আশ্রয় নিতে হয় ফিলিস্তিনে জাতিসংঘ পরিচালিত শরণার্থী সংস্থা পরিচালিত এক স্কুলে। বৃহস্পতিবার (২০ মে) সূর্যোদয়ের ঠিক আগেই এই পরিবার আলোকিত হয়ে ওঠে মোহাম্মদ আল-দায়িফ আদাম আল-সাফাদির জন্মে। যুদ্ধের বিভীষিকা, ভিটে থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ভয়াবহনাÍ সব ছাপিয়েই শিশু মোহাম্মদ এনে দিয়েছে আনন্দের উপলক্ষ।
মোহাম্মাদের দাদী ৪৮ বছর বয়সী হিয়াম আল-সাফাদি টেলিফোনে আল-জাজিরাকে বলেন, ‘বাড়িঘর ছেড়ে আসা আমাদের জন্য সহজ ছিল না। স্রষ্টা এই দুঃসময়ে শিশুটিকে আমাদের জীবনে আশীর্বাদস্বরূপ পাঠিয়েছে। সে আমাদের জীবন আনন্দে ভরিয়ে তুলেছে।’
পূর্ব জেরুজালেমকে ঘিরে উত্তেজেনাকে কেন্দ্র করে ১০ মে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। আল আকসা মসজিদেও অভিযান চালায় ইসরাইলি পুলিশ। এর জের ধরে রকেট হামলা চালায় হামাস, পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেন ইসরাইল। দুই পক্ষের আক্রমণে গাজায় ৬৫ শিশুসহ ২৩২ ফিলিস্তিনির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরাইলেও মারা গেছেন কমপক্ষে ১২ জন। জাতিসংঘের তথ্য বলছে, এবারের সংঘাত শুরু হওয়ার পর ৭২ হাজারেরও বেশি গাজা অধিবাসী বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আল-সাফাদি পরিবারের বাস ছিল গাজার উত্তরে ইসরাইলের সীমান্তবর্তী এলাকায়। ইসরাইলি হামলা শুরু হলে তারা জাতিসংঘ পরিচালিত আল-জাদিদা স্কুলে আশ্রয় নেয়। সদ্য জন্ম নেওয়া মোহাম্মাদের বাবা আদাম আল-সাফাদি বলেন, ‘সেখানকার (তাদের বসবাসের এলাকা) কোনো জায়গা এখন আর নিরাপদ নেই। তাই এখানে আসার পর আমাদের ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না।’
এদিকে, মোহাম্মাদের মা আনসাম আল-সাফাদি এত মানুষের মধ্যে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা চিন্তাও করেননি। কারণ স্কুলের কক্ষগুলোতে একটি নয়, একসঙ্গে একাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সন্তান জন্ম দেওয়ার আগ মুহূর্তে তাই তাকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আল-আদওয়া হাসপাতালে শিশু মোহাম্মাদের জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে নবজাতককে নিয়ে ফিরে আসতে হয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রটিতে।
আনসাম আল-সাফাদি বলেন, ‘এখানে পরিস্থিতি ভালো না। গর্ভধারণের শেষ দিকে এসে আমার অবস্থা ভালো ছিল না। সারাক্ষণ আতঙ্ক আর জীবনের আশঙ্কায় থাকতাম। এখানে কোনো আড়াল নাই। এমনকি শিশু মোহাম্মাদের জন্য কোনো দোলনারও ব্যবস্থা করতে পারিনি আমরা।’
এত প্রতিকূলতা, জীবন যেখানে হাতের মুঠোয়Ñঠিক এমন পরিস্থিতিতেও একটি শিশুর জন্ম বদলে দিয়েছে সব চিত্র। পরিবার তো বটেই, আশ্রয়কেন্দ্রটির অন্যরাও শিশু মোহাম্মদের জন্মে উদ্বেলিত। মোহাম্মদের পরিবারের আশা, সৌভাগ্য বয়ে আনবে সে। জন্মের ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই হামাস-ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছে। শিশু মোহাম্মদ তাই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতেই পারে।

Previous articleরোজিনার জামিন নিয়ে আদেশ রোববার
Next articleযশোরে নারীদের জন্য নারীর তত্ত্বাবধানে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here