মধ্যরাত থেকে যশোরের দুটি পৌরসভায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি আরোপ

18
করোনা সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতির কারণে বুধবার মধ্যরাত থেকে যশোরের দুটি পৌরসভায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি আরোপ করা হয়েছে। মাইকিং করে জনসাধারণকে সর্বাত্মক লকডাউন পালনের প্রচারণা চালায় স্থানীয় প্রশাসন।

কল্যাণ রিপোর্ট : বেড়েই চলেছে যশোরে করোনা শনাক্তের হার। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া একজন করোনা পজেটিভ ও একজন করোনা সাসপেক্টেড রোগী মারা গেছেন। বুধবার (০৯ জুন) শনাক্তের হার ৪৯ শতাংশ। মঙ্গলবার (০৮ জুন) ছিলো ৪২ শতাংশ।
এদিকে, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে বুধবার মধ্যরাত থেকে যশোরের দুটি পৌরসভায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি আরোপ করা হয়েছে।
গত মে মাসে ভারত সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে যশোর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিশেষজ্ঞ কমিটি। এ মাসের শেষ সপ্তাহে যশোরে করোনা শনাক্তের হার আগের তুলনায় কিছুটা বেড়ে যায়। জুন মাসের শুরু থেকে প্রতিদিন বাড়ছে শনাক্তের হার।
গত ৭ জুন শনাক্ত হয় ২৯ শতাংশ, ৮ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ শতাংশে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। বুধবার শনাক্তের হার ৪৯ শতাংশ।
এছাড়া, যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে এবং অপরজন আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যান।
এ পর্যন্ত জেলায় সাত হাজার ৭০১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮৪ জন। যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭২ জন।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। ঊর্ধ্বমুখী শনাক্তের হার রুখতে বুধবার মধ্যরাত থেকে যশোর পৌরসভা ও নওয়াপাড়া পৌরসভায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি আরোপ করা হচ্ছে। ফলে যশোর শহর থেকে কোনও যানবাহন ছেড়ে যাবে না, দোকানপাট, বিপণিবিতান, পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ থাকবে। কেবল কাঁচাবাজার, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকবে।

বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে :
১.রোগী পরিবহনকারী/অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পণ্য বহনকারী ট্রাক ও জরুরি সেবাদানের জন্য ব্যবহৃত পরিবহন ছাড়া সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

২.ওষুধের দোকান ছাড়া সকল প্রকার দোকান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে।

৩.কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় (মুদিখানা) পণ্যের দোকানপাট, খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। তবে, হোটেল, রেস্তোরাঁয় ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি/সরবরাহ করা যাবে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ এসব স্থানে জনসমাগম করতে পারবে না।

৪.জরুরি প্রয়োজনে সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে।

৫.রিকশায় একজন, অটোরিকশায় দু’জন এবং মোটরসাইকেলে শুধু চালক যাতায়াত করতে পারবেন।

৬.শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। শ্রমিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া করতে হবে।

৭.আইন-শৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা যেমন-কৃষি উপকরণ, (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, স্থলবন্দরসমূহের কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও যানবাহন এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে।

৮.অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন না।

৯. পর্যটনস্থল, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

১০.জনসমাবেশ হয় এমন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

১১. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমার নামাজসহ প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ গ্রহণ করতে পারবে।

এদিকে, জেলা প্রশাসনের করোনা প্রতিরোধে জারি করা নির্দেশনা বাস্তবায়নে বুধবার সকাল থেকেই যশোর শহরে প্রচার মাইক বের করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক মাইকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একইসাথে কেউ এসব নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও ঘোষণা দেয়া হচ্ছে।

Previous articleরাস্তায় চড় খেলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ (ভিডিও)
Next articleচার ইউপিতে ভোট পেছাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here