মেসির চোখ জুড়ানো গোলের পর আর্জেন্টিনার হতাশার ড্র

19


ক্রীড়া ডেস্ক : এই আর্জেন্টিনা অনেক গতিময়, ছন্দময়। পুরো ম্যাচে দাপুটে ফুটবল খেলা আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে গেল। গোলমুখে শট নিলো গোটা ১৮। কিন্তু জালের ঠিকানা পেলেন কেবল লিওনেল মেসি। যদিও তার চোখ জুড়ানো গোলে কোপা আমেরিকায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় মেলেনি আলবিসেলেস্তেদের।
‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মঙ্গলবার ভোরে রিও ডি জেনেরিওতে তুমুল উত্তেজনার ম্যাচে চিলির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ জুড়ে বাঁ পায়ের ভেল্কি দেখানো মেসি অসাধারণ এক ফ্রি কিকে গোল করেন। চিলির হয়ে সমতাসূচক গোল করেন এদুয়ার্দো ভারগাস।
পুরো ম্যাচে জাদু ছড়ানো মেসি ২০২০ সালের অক্টোবরের পর আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথম গোল করলেন। এটা তার ৭২ গোল। আর্জেন্টিনার পক্ষে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন তিনিই। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার গোল ৫২টি। ফ্রি কিক থেকে গোল করার হিসাব করলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো মেসির।
৫ বছর পর আর্জেন্টিনার হয়ে ফ্রি-কিক থেকে গোল করলেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ১৫ নভেম্বর বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফ্রি কিকে গোল করেন মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে ফ্রি কিকে এটা তার সপ্তম গোল। আর্জেন্টিনার হয়ে ৭২তম ম্যাচে প্রথম ফ্রি কিক থেকে গোল করেন মেসি, যা ছিল তার ২৮তম আন্তর্জাতিক গোল।
শুরুতেই সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু অষ্টম মিনিটে লেফট ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর হেডের পর ডি-বক্সের ভেতর থেকে লিওনেল মেসির শট দূরের পোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায়। চার মিনিট পর সহজ সুযোগ নষ্ট করেন লাউতারো মার্তিনেজ। লো সেলসোর বাড়ানো বল অনেক উপর দিয়ে মারেন তিনি।
১৬ থেকে ১৮তম মিনিটের মধ্যে তিনটি চেষ্টা ব্যর্থ হয় আজেন্টিনার। প্রতিটা ব্যর্থতার দায় নিকোলাস গঞ্জালেসের ওপর বর্তায়। ডি-বক্সে থেকে তার ডান পায়ের জোরালো শট ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন চিলির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো। পরের মিনিটে কর্নার থেকে হেড নিয়ে জালে বল জড়াতে পারেননি গঞ্জালেস।
পরের আক্রমণে আরও সহজ সুযোগ নষ্ট করেন যায় গঞ্জালেস। লো সেলসোর দারুণ পাসে ডি-বক্সের ফাঁকায় বল পান তিনি। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও সরাসরি তার গায়ে শট মেরে হতাশা বাড়ান জার্মান ক্লাব স্টুটগার্টের এই ফরোয়ার্ড।
৩৩তম মিনিটে আসে শুভক্ষণ। ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের চোখ ধাঁধানো ফ্রি-কিকে বল জালে জড়ান মেসি। ব্রাভো ঝাঁপিয়ে পড়েও মেসির শট ফেরাতে পারেননি। তার হাতে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে বল। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতো কোপা আমেরিকার ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু লাউতারোর দুর্বল শট সহজেই ফেরান করেন ব্রাভো।
বিরতির পর চেহারা পাল্টায় চিলি, রক্ষণাত্মক ফুটবল না খেলে আক্রমণে সাজাতে শুরু করে তারা। ৫৩তম মিনিটে সম্ভাবনা তৈরি করে দলটি। যদিও স্ট্রাইকার এদুয়ার্দো ভারগাসের প্রচেষ্টা সফল হতে দেননি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
ফিরে আসা বলে আর্তুরো ভিদাল শট নিলেও জালের ঠিকানা পায়নি। তবে তাগলিয়াফিকোর দেরি করে করা ট্যাকলে পড়ে যান ইতালিয়ান ভিদাল। ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৫৭তম মিনিটে ভিদালের স্পট কিক মার্তিনেজ অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেওয়ার পর বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। আলতো হেডে ভারগাস গোল আদায় করেন নেন।
গোল শোধ করে চাঙ্গা হয়ে ওঠা চিলি ছয় মিনিট পর ফের হানা দেয় আর্জেন্টিনার রক্ষণে। ফরোয়ার্ড জ্যাঁ মেনেসেসের ক্রসে ভিদালের হেড সহজেই তালুবন্দী করেন মার্তিনেজ। গোলশোধে মরিয়া আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেয়। ৭১তম মিনিটে মেসি জোরালো নিলেও ব্রাভোকে পরাস্ত করতে পারেননি।
৮০তম মিনিটে চিলির কয়েকজনকে ফাঁকি দিয়ে রক্ষণভাগ পেরিয়ে ডি-বক্সে বল বাড়ান মেসি। কিন্তু গঞ্জালেসের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বাকিটা সময়ে আর্জেন্টিনা অনেক চেষ্টা করেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি।

Previous articleপরীমনি : পিরোজপুর থেকে এফডিসির আলোচিত নায়িকা
Next articleদেশে এক দিনে করোনায় ৫০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৩১৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here