অক্সিজেন সংকটে এক ঘণ্টায় সাতক্ষীরা মেডিক্যালে ৬ রোগীর মৃত্যু!

6

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা করোনা ডেডিকেটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেঅক্সিজেন সংকটে ছয়জন করোনা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটের এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টার মধ্যে শ্বাসকস্টে ছয় রোগীর মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা শহরতলীর কুকরালী গ্রামের মো. আব্দুল হাসিব জানান, করোনায় আক্রন্ত হয়ে তার চাচী নাজমা খাতুন (৪৮) মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন। মাগরিবের আযানের পর থেকে আইসিইউতে অক্সিজেন সংকট শুরু হয়। অক্সিজেনের অভাবে তার চাচীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া হাসপাতালে প্রতিটি রুগীই প্রচন্ড কস্ট পাচ্ছে। অক্সিজেনের অভাবে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তার সামনে ছয়জন রুগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতাক্ষদর্শী কলারোয়ার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, তার স্ত্রী করোনা উপসর্গ নিয়ে সিসিইউতে ভর্তি আছেন। তার সামনে অক্সিজেন সংকটে দুজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরাত নার্সরা অক্সিজেন সরবারাহ না থাকার কথা বলাবলি করলে হাসপাতাল
জুড়েই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তিনি বিষয়টি সাতক্ষীরা-০১ আসনের সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন।

রাত ৮ টায় সামেক হাসপাতালে ভিতরে যাওয়ার চেস্টা করলে সংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। হাসপাতালের বাইরে থেকে অক্সিজেন সংকটে মৃত্যু বরণকারী আশাশুনির আব্দুল হামিদ (৭৫) কালিগঞ্জের আকরাম হোসেন (৩৭) ও শহরতলীর ইটাগাছার খায়রুন নেছার (৪০) পরিচয় পাওয়া গেছে। অন্যদের নাম ঠিকানা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. কুদরত ই খোদা জানান, বিকেলে হঠাৎ করে সেন্টাল অক্সিজেন লাইনের প্রেসার কমে যায়। সন্ধ্যার ৭টার পর অক্সিজেনের গাড়ি এসে পৌঁছায়। এখন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। রাতে অক্সিজেন প্লান্টে নতুন করে ১৪ হাজার লিটার অক্সিজেন ঢুকানো হয়েছে। এখন অক্সিজেন মজুদ রয়েছে।

অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যু হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি জানা নেই। প্রতিদিন সকাল ৮টার পর মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টার পরে মৃত্যুর আপডেট তথ্য জানানো হবে।

Previous articleখালেদা জিয়ার মুক্তির পথ কী, জানালেন আইনমন্ত্রী
Next articleকঠোর লকডাউনের সঙ্গী হতে পারে ভারী বৃষ্টি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here